বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন নেইমার জুনিয়র। লম্বা সময় ধরে চোটে ভুগতে থাকা এই ব্রাজিলিয়ান তারকা অবশেষে জায়গা করে নেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। তবে এখনও পর্যন্ত খেলেছেন মাত্র এক ম্যাচে। সেটাও শেষের দিকে কয়েক মিনিটের জন্য। এবার বেঞ্চে বসে আসরের বেশির ভাগ সময় পার করলেও এক সময় তরুণ ফুটবলারদের আইকন ছিলন তিনি।
বল পায়ে প্রতিপক্ষকে নাচিয়ে বেড়ানো, ড্রিবলিংয়ে সবাইকে হতবাক করে দেওয়া নেইমারকে দেখে অনেক কিশোর তখন স্বপ্ন বুনতেন ফুটবলার হওয়ার। স্বপ্ন দেখা সেই কিশোরদের সফল একজন ছিলেন আন্তোনিও নুসা। তিনি স্বপ্নকে বাস্তবের কাছাকছি নিয়ে এসেছেন। যাকে দেখে ফুটবলার হয়েছেন সেই নেইমারের বিপক্ষেই এবার মাঠে নামতে যাচ্ছেন তিনি।
নরওয়ের ফুটবলে নুসার পরিচয়ই হয়ে উঠেছে ‘নওরেজিয়ান নেইমার’। কারণ, ড্রিবলিং, গতি আর সৃজনশীলতায় নেইমারকে স্বরণ করিয়ে দেন তিনি। ছোটবেলা থেকে যার খেলা তাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে সেই নেইমারের সৃজনশীলতার ছাপ আছে এই 'নেইমারের' খেলায়।

২০২১ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে নুসা বলেছিলেন, 'আমার আদর্শ নেইমার। আমি চাই তার মতো ড্রিবলিং করে প্রতিপক্ষকে এলোমেলো করে দিতে।' স্বপ্ন দেখার বছর পাঁচেক পরই তা পূরণ হয়েছে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে এনে ডান পায়ের দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন তিনি।
আজ নুসার সামনে আরও বড় মঞ্চ। একই সঙ্গে তার জন্য এটা আবেগেরও। কারণ আজ ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা আছে নেইমারের। আর তা হলে দেখা হতে পারে নেইমার আর ‘নওরেজিয়ান নেইমারের’। মাঠে বাইরে নেইমার তার আদর্শ হলেও মাঠে আজ দুজন দুজনার প্রতিপক্ষ!
গত বছর লাইপজিগের হয়ে ব্রাজিল সফরে গিয়ে সান্তোসের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন নুসা। সেখানেই প্রথমবার মুখোমুখি হন নিজের শৈশবের নায়কের। সেই স্মৃতি এখনও রোমাঞ্চ জাগায় তার মনে, 'আমি নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সেই নেইমারের মুখোমুখি হই, যাকে আমি মনেপ্রাণে শ্রদ্ধা করি। সত্যিই এক অবিশ্বাস্য মুহূর্ত ছিল।'
এইচজেএস

