World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয়

নকআউটে ব্রাজিলকে হারানোর স্মৃতি ফেরাল আর্জেন্টিনা

নকআউটে ব্রাজিলকে হারানোর স্মৃতি ফেরাল আর্জেন্টিনা

কেপ ভার্দের বিপক্ষে এত কষ্ট করে জিততে হবে, ভাবেননি মেসিরাও। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে পা রেখেছে স্কালোনির দল। তবে আর্জেন্টিনার এমন সংগ্রাম ফুটবলপ্রেমীদের ১৯৯০ বিশ্বকাপের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই আসরে কোনোমতে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল আকাশি-নীলরা।

ইতালিতে হওয়া সেই বিশ্বকাপের সঙ্গে চলমান আসরের সাদৃশ্যতা কম নেই। ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনা মাঠে নেমেছিল ১৯৮৬ সালে জেতা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। ২০২৬ সালে লিওনেল স্কালোনির দল লড়ছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা রক্ষার লক্ষ্যে। 

দুই আসরেই নকআউট পর্বে প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশার তুলনায় বেশ ভুগতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াকু মানসিকতা দিয়েই তারা বাধা পেরিয়েছে।

১৯৯০ বিশ্বকাপের নকআউটে ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে ভাগ্যের সহায়তায় জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে সার্জিও গয়কোচিয়ার পোস্টে তিনবার বল লেগেছিল। তবুও ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল আকাশি-নীলরা। এরপর যুগোস্লাভিয়া (বর্তমানে বিলুপ্ত রাষ্ট্র) ও স্বাগতিক ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তারা। সেরা ফুটবল না খেলেও জয় খুঁজে নেওয়া ছিল আর্জেন্টিনার বড় শক্তি।

চলমান বিশ্বকাপেও সেই চিত্রের কিছুটা প্রতিফলন দেখা গেছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে একাধিকবার বিপদের মুখে পড়ে স্কালোনির দল। এমনও মুহূর্ত এসেছিল, যখন আর্জেন্টিনার বিদায়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবু শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তায় ম্যাচ জিতে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসও আর্জেন্টিনার সামনে বড় এক চ্যালেঞ্জের কথা মনে করিয়ে দেয়। ১৯৬২ সালের পর কোনো বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নই টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিততে পারেনি। সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিল ১৯৯০ সালের আর্জেন্টিনা, ১৯৯৮ সালের ব্রাজিল এবং ২০২২ সালের ফ্রান্স। তবে শেষ পর্যন্ত তিন দলকেই রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল।

২০২৬ বিশ্বকাপের অনেক পথ বাকি। ১৯৯০ সালের মতো আর্জেন্টিনা আবারও ফাইনালে পৌঁছাতে পারবে কি না, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে শিরোপার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করেই খেলতে হবে।

আইএইচ