রেফারির শেষ বাঁশি। নেইমার জার্সি দিয়ে মুখ ঢাকলেন। ভিনিসিয়াস মাঠে বসে পড়লেন। নিউজার্সি স্টেডিয়ামে প্রায় অর্ধ লক্ষ ব্রাজিলিয়ান সমর্থক নিথর দাড়িয়ে রইলেন। এ যেন এক শবযাত্রা।
ফুটবল যাদের কাছে ধর্মের চেয়ে বেশি। সেই ব্রাজিলের শেষ ষোল থেকে বিদায়। আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচ এনেও কোয়ার্টার পর্যন্ত যেতে পারল না ব্রাজিল। কোচের পাশাপাশি মাঠে কোয়ালিটি খেলোয়াড়ই বড় এটা আবার প্রমাণ হয়েছে।
নরওয়ে মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবলে আসতে পারেনি। একজন আর্লিং হালান্ডই নরওয়ের ফুটবল বদলে দিচ্ছেন। আজ ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন তিনিই। একটি দুর্দান্ত হেডে আরেকটি ধীরস্থিরভাবে কোনাকুনি শটে। দুটি গোলই ব্রাজিলের ডিফেন্সে ব্যর্থতা রয়েছে। হালান্ড অনেক সময় ব্রাজিলের ডিফেন্সের ছায়ায় থাকলেও ন্যূনতম দুই সুযোগেই গোল করেছেন।
ব্রাজিলের এবার দল অনেকটা ছিল ভিনিসিয়াস জুনিয়র নির্ভর। সেই ভিনিসিয়াস জুনিয়র আজ তেমন ভালো খেলতে পারেননি। কখনো মিস পাস করেছেন আবার কখনো বল অতিরিক্ত কাটাতে গিয়ে হারিয়েছেন। গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিং অভাবে পারেননি।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সুযোগ এসেছিল ব্রাজিলেরই প্রথম। খেলার মিনিট পনেরো মধ্যে পেনাল্টি পেয়েও মিস৷ ভিনি, ক্যাসিমেরোর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার থাকার পরেও ব্রুনো কেন পেনাল্টি নিলেন সেটা বড় বিস্ময়ের। সেটারই খেসারত দিতে হয়েছে শেষ পর্যন্ত।
ব্রাজিল ম্যাচের ৮০ মিনিটের দিকে পিছিয়ে পড়ে। এরপরও ভরসা ছিল কোচ যখন আনচেলত্তি কিছু একটা হবেই। নেইমার ও এনরিকে সবাইকে নামিয়ে সকল চেষ্টা করেও রক্ষা হয়নি। ইনজুরি সময়ে আরেকটি পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। নেইমার এটায় গোল করলে ব্রাজিলের আফসোস আরো বাড়ে। আগের পেনাল্টি মিস না করলে কিংবা দ্বিতীয় গোল হজম না করলে খেলার ফল ভিন্ন হতে পারত। দিনটি যে আজ ব্রাজিলের নয়। বিশ্বকাপও চায়নি ইতিহাস বদলাতে। নরওয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে অপরাজিতই থাকল।
এজেড/এমটিআই

