নিউজার্সি স্টেডিয়াম যেন অন্য ১০টি দিনের মতো নয়। স্তব্ধ ও ভারী পরিবেশ। ব্রাজিলিয়ানরা মুখ গোমরা করে নামছেন স্কেলেটর দিয়ে। একজন আরেকজনকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। আবার অনেকে একেবারে মুষড়ে পড়েছেন। প্রতিক্রিয়াও জানাতে পারছেন না।
২০ বছর বয়সী সমর্থক এন্ড্রু অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এত সুযোগ মিস করার বিষয়টি মানতেই পারছেন না তিনি, ‘ব্রাজিল অনেক সুযোগ পেয়েছে, নরওয়ের চেয়েও বেশি। এরপরও প্রয়োজনের সময় গোল করতে পারেনি।’ পাশাপাশি ডিফেন্সের সমালোচনা করে বলেন, ‘হালান্ড অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলোয়াড়। সে দুটি সুযোগ পেয়েছে, দুটোই গোল।’
ম্যাচে লিড নেওয়ার সুযোগ ব্রাজিলই আগে পেয়েছিল। ব্রুনো গুইমারেস পেনাল্টি মিস করায় খেলার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তাদের হাত থেকে। ব্রুনোর সেই মিসকে খেলার টার্নিং পয়েন্ট বলছেন আরেক ব্রাজিলিয়ান সমর্থক, ‘ভিনি এবং আরও অনেক খেলোয়াড় থাকতে কেন আনচেলত্তি ব্রুনোকে দিলেন এটা আমার বোধগম্য নয়।’
ফুটবল ব্রাজিলিয়ানদের কাছে অনেক আবেগ ও ভালোবাসার। ব্রাজিল নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারলেও প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন ঠিকই রাখছেন অনেক সমর্থক, ‘আমরা কাঙ্ক্ষিত ফল করতে পারিনি। এরপরও রিও ডি জেনিরো কিংবা অন্য যেখানেই খেলা হোক আমরা যাব। ব্রাজিল ফুটবলের সঙ্গে আছি সব সময়।’

শেষ ষোলোর এই ম্যাচে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০ হাজার দর্শকের মধ্যে অর্ধলাখই ছিল ব্রাজিল সমর্থক। তাই নরওয়ে জিতলেও ব্রাজিলের হারের স্তব্ধতাই ছিল বেশি। ব্রাজিলিয়ান অনেক সমর্থক স্পোর্টিং মনোভাব দেখিয়েছেন। নরওয়েকে জয়ের জন্য সাধুবাদ দিয়েছেন। নরওয়েজিয়ান এক সমর্থক তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয় হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘নরওয়ে এর আগেও ব্রাজিলকে হারিয়েছে। তবে নকআউট পর্বে ব্রাজিলের হার এবং আনচেলত্তির দলকে হারানো অবশ্যই বিশেষ।’
নরওয়ের ভাইকিং উৎসব সারা বিশ্বজুড়ে এখন সমাদৃত। ব্রাজিলবধের পরও মাঠে হালান্ডের নেতৃত্বে সেই উদযাপন হয়েছে। মাঠের বাইরেও ভাইকিংয়ের মাধ্যমে জয় উদযাপন করেছেন দর্শকরা। ব্রাজিলকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছেন মূলত হালান্ড। তাকে নিয়ে উচ্ছ্বাসের শেষ নেই নরওয়েজিয়ান সমর্থকদের, ‘আসলে তার তুলনা সে নিজেই। তিনি আসলে মানুষ কি না আমাদেরও বিস্ময় জাগে মাঝেমধ্যে। এত অসাধারণ পারফরমান্স কীভাবে সম্ভব!’
এতজনের ভিড়ে একজন ব্যতিক্রমী দর্শক পাওয়া গেছে। তার জার্সি অর্ধেক নরওয়ে এবং অর্ধেক ব্রাজিলের। আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলেও বাবা ব্রাজিল আর মা নরওয়ের। তাই তিনি দুই দলেরই সমর্থক ছিলেন। মিশ্র প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘নরওয়ের জয়ে খুশি হয়েছি, আবার ব্রাজিলের হারে খারাপ লাগছে। আমি আসলেই দুই দলকে সমর্থন করেছি।’
এজেড/এএইচএস

