নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর ব্রাজিল ফুটবলজুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। দলের এমন ভরাডুবির পর কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে- আপাতত ছাঁটাই হচ্ছেন না এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। ব্রাজিলের পুনর্গঠনের দায়িত্ব থাকছে আনচেলত্তির কাঁধেই।
ব্রাজিলিয়ান এফএ-র ফুটবল ডিরেক্টর রদ্রিগো কায়েতানো জানান, গত মে মাসেই ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করা ৬৭ বছর বয়সী আনচেলত্তিকে বাদ দেওয়া হবে না। কায়েতানো বলেন, ‘তিনিই আমাদের কোচ এবং তিনিই থাকছেন। এই বিশ্বকাপে আমাদের ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল দীর্ঘমেয়াদী কোনো স্থিতিশীল পরিকল্পনা না থাকা। বিশ্বকাপের আগে আমরা তিনজন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ বদলেছি। আমরা আর সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চাই না।"
তবে ডাগআউটে টিকলেও সমালোচনার তীব্র তীর ধেয়ে আসছে আনচেলত্তির দিকেই। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল ভীষণ ম্যাড়ম্যাড়ে।
পরিসংখ্যান বলছে, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের বল পজিশন ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বনিম্ন পজিশনের রেকর্ড। ম্যাচজুড়ে অলস ও ক্লান্ত ফুটবল খেলার জন্য ব্রাজিলের মিডিয়া আনচেলত্তির রণকৌশলকে দায়ী করছে। বিশেষ করে ম্যাচের শুরুতে ব্রুনো গুইমারেসকে পেনাল্টি নিতে দেওয়া এবং ফর্মহীন ৩৪ বছর বয়সী কাসেমিরো ও দানিলোকে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে খেলিয়ে রাখা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।
এমনকি বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামা নেইমার জুনিয়রকে নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলো। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে সান্ত্বনার গোল করার পর নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষকের সাথে নেইমারের বাগবিতণ্ডার দিকে ইঙ্গিত করে তারা লিখেছে, ‘কিছু মানুষ জয়ের নায়ক হতে চায়, কিন্তু নেইমার যেন পরাজয়েরও খলনায়ক বা মূল চরিত্র হতে চান।’
এমএমএম/

