বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারানোর পর বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। এ ঘটনায় প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়াকে ‘জঘন্য নারী’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনও (এফএফএফ) বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
শেষ ষোলোর উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে প্যারাগুয়েকে হারানোর পথে ফ্রান্সের হয়ে পেনাল্টিতে গোল করেন এমবাপে। পুরো ম্যাচজুড়ে তাকে কড়া ট্যাকল ও শারিরীকভাবে আক্রমণ করেছে লাতিন দেশটির ফুটবলাররা। ফলে ফরাসি অধিনায়কও খেলা শেষে তাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই ঘটনার রেশ ছড়িয়েছে প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত।
— Celeste Senadora (@CelesteSenadora) July 5, 2026
প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দীর্ঘ পোস্টে এমবাপেকে আক্রমণ করেন। তার মতে, এমবাপে ‘ক্যামেরুনীয় বংশোদ্ভূত উপনিবেশিত ব্যক্তি, যে মরিয়া হয়ে নিজেকে ফরাসি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি তাকে ‘একজন বর্বর, যে লিখতেও শেখেনি’ বলেও কটাক্ষ করেন। এমনকি ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের এমবাপেকে চড় মারা উচিত ছিল বলেও দাবি আমারিয়ার।
যার জবাবে ফ্রান্স অধিনায়ক একটি বিবৃতি দিয়েছেন। যেখানে শুধু নিজের পক্ষেই নয়, প্যারাগুয়ে দলের খেলোয়াড়দের পক্ষেও অবস্থান নেন তিনি, ‘ম্যাডাম সেলেস্তে আমারিয়া, আপনি একজন জঘন্য নারী এবং আপনার পদে থাকার যোগ্য নন। আপনি সেই প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না, যে দেশটি এই পুরো টুর্নামেন্টে আবেগ ও সম্মানের সঙ্গে লড়াই করেছে।’
এমবাপে আরও লেখেন, ‘আপনার বেপরোয়া আচরণ এবং প্রকাশ্য বর্ণবাদের কারণে এই বিশ্বকাপে আপনার খেলোয়াড়রা যে ঐতিহাসিক সাফল্য ও সংগ্রাম দেখিয়েছে, তা মানুষ ভুলে গেছে। তার বদলে একজন অযোগ্য নারীর কারণে আপনার দেশের সবচেয়ে খারাপ চিত্রটাই সামনে এসেছে। আপনার মতো মানুষকে আমি কখনোই ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়ানোর স্বাধীনতা দিতে রাজি নই।’
— Kylian Mbappé (@KMbappe) July 6, 2026
ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন এই ঘটনাটি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘এসব মন্তব্য সম্পূর্ণ ঘৃণ্য, অগ্রহণযোগ্য এবং ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। ফ্রান্সে হোক বা অন্য কোথাও, এসব মন্তব্যের বিচার হওয়া উচিত। এ কারণেই আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিষয়টি প্রসিকিউটরের দপ্তরে পাঠাচ্ছি। এ ধরনের মন্তব্য যারা করে এবং যারা এগুলো ছড়ায়, তাদের জন্যই লজ্জার। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই এই মন্তব্যের মাধ্যমে আমাদের দেশকেই অপমান করা হয়েছে।’
এএইচএস

