ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা স্পষ্ট ফেভারিট, সেটা মেনে নিয়েই ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে তাদের বিপক্ষে নামছে মিশর। কিন্তু হঠাৎ–ই আলোচনার টেবিলে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ। মিশরের কোচ হোসাম হাসান নিপীড়িত দেশটির পক্ষে বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন। এমনকি নিজেদের কাঁধে মিশর, আরব বিশ্ব এবং আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও মিশর। প্রতিপক্ষ দল ও মহাতারকা লিওনেল মেসির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে কোচ হাসান বলছেন, ‘আমরা জানি, আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের (মেসি) দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা তাদের ভয় পাই না।’
— MO (@Abu_Salah9) July 6, 2026
এর আগে ডালাসে গত শুক্রবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছিলেন মিশরীয় কোচ। আর্জেন্টিনা ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে সেই বিষয়টি উল্লেখ করে এক সাংবাদিক জানতে চান, আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলে তিনি আবারও এমনটি করবেন কি না। জবাবে হাসান বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও যদি কোনো মানুষ ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব না করেন, তাহলে তিনি তার মানবিকতার একটি অংশ হারিয়ে ফেলেছেন।’
‘আমি যা করেছি, তা ছিল সম্পূর্ণ মানবিক প্রতিক্রিয়া। আরব, মুসলিম, খ্রিস্টান বা অন্য কোনো পরিচয়ের আগে আমি একজন মানুষ। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সফট পাওয়ারগুলোর একটি ফুটবল। এর মাধ্যমে আমি একটি বার্তা দিতে চাই– অনুগ্রহ করে ফিলিস্তিনি জনগণকে বাঁচতে দিন। বিশ্বের সব ক্রীড়াবিদ ও সাংবাদিকদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারাও এই বার্তা পৌঁছে দিতে সাহায্য করুন’, আরও যোগ করেন হাসান।
হাসান বলেন, ‘মানবাধিকার, প্রাণীর অধিকার এবং ন্যায়বিচার নিয়ে যখন কথা বলা হয়, তখন ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষদের নিয়েও আমাদের কথা বলা উচিত।’ একইসঙ্গে ফিলিস্তিনের পক্ষে এই বার্তা দেওয়ার বিষয়টিকে নিজেদের খেলায় মনোযোগ দেওয়ার উপলক্ষ্য হিসেবেও দেখছেন মিশরের কোচ, ‘আমাদের ওপর মিসর, আরব বিশ্ব এবং আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব রয়েছে। এই দায়িত্বই আমাদের নিজেদের খেলায় মনোযোগী থাকতে এবং মাঠে আমরা কী করতে পারি, সেদিকেই মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।’
এদিকে, অস্ট্রেলিয়া হারানোর পর মিশরীয় কোচ হাসানের প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া রয়েছে ইসরায়েলে। দেশটির গণমাধ্যম মিশরের কোচ ও দলের তীব্র সমালোচনা করেছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সাররাও নিজেদের সমর্থকদের আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে তীব্র খাদ্যসংকট এবং গাজার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এ ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি– ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় ১২০০ মানুষ নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার প্রেক্ষিতে তারা আত্মরক্ষার্থে এই অধিকার প্রয়োগ করছে!
এএইচএস

