বিশ্বকাপে নানা ভাষাভাষী মানুষ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুল ব্যবহৃত ভাষা হলেও অনেক ফুটবলার এবং কোচই জানেন না ইংরেজি। এরপরও তারা বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের তাত্ক্ষণিক নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
খেলোয়াড়-কোচরা যেমন ইংরেজি জানেন না, তেমনি অনেক সাংবাদিকও ইংরেজি জানেন না। এরপরও সবাই একে অন্যের কথা ঠিকই বুঝে নেন। এটা সম্ভব হয় ফিফা ইন্টারপ্রেটেনশন অ্যাপের মাধ্যমে।
ম্যাচের পর ও আগের দিন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বাধ্যতামূলক। সেখানে হেড কোচ আসেন, অনেক সময় আসেন খেলোয়াড়ও। তাদের উপস্থিতি নির্ভর করে দলের সিদ্ধান্তের ওপর। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ফিফার কর্মকর্তারা কোচ, খেলোয়াড় ও সাংবাদিকদের ইন্টারপ্রেটেনশন অ্যাপ ব্যবহার করতে বলেন।
বিশ্বকাপে অংশ নেয়া অনেক দেশের ভাষা ফরাসি ও স্প্যানিশ। তাই এই দুটো অ্যাপে থাকে। পাশাপাশি সার্বজনীনের জন্য থাকে ইংলিশ অপশন। এছাড়া পর্তুগিজ ও নরওয়েজিয়ানসহ আরও অনেক ভাষা থাকে। সেটা অবশ্য থাকে সুনির্দিষ্ট দলের ম্যাচের দিনই।

স্প্যানিশ এক সাংবাদিক ইংল্যান্ডের কোচকে স্প্যানিশ ভাষায় প্রশ্ন করলে সেটা ইংল্যান্ডের কোচের কাছে ইংরেজিতে রুপান্তরিত হয়। আবার ইংল্যান্ডের কোচের উত্তর ইংরেজিতে হলেও স্প্যানিশ সাংবাদিক সেটা স্প্যানিশে রুপান্তরিতভাবে পান।
এবারের বিশ্বকাপে সাংবাদিকদের ফিফার ইন্টারপ্রেটেনশন অ্যাপ নামিয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে। রাশিয়া ও কাতার বিশ্বকাপে ছিল একটু ভিন্ন। সাংবাদিকদের প্রেস কনফারেন্সের শুরুতে ভাষা জিজ্ঞেস করতেন ভলান্টিয়াররা। সেই মোতাবেক একটা ডিভাইস দিতেন। সেই ডিভাইসে সাংবাদিক তার কাঙ্ক্ষিত ভাষায় সব শুনতে পেতেন।
আনুষ্ঠানিক প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের ভাষাগত তেমন সমস্যায় পড়তে হয় না। তবে বিপত্তি বাধে মিক্সড জোনে। যেখানে সাংবাদিকদের সামনে দিয়ে ফুটবলাররা ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে টিম বাসে উঠেন। তখন অনেক ফুটবলার সাংবাদিকদের অনুরোধে কথা বলেন। আবার কেউ এড়িয়ে যান।
প্রেস কনফারেন্সে অ্যাপে ভাষাগত সমস্যা না হলেও মিক্সড জোনে হয়। সেখানে যে দলের খেলা সেই দেশের ইংরেজি জানা সাংবাদিকদের ওপর ভরসা করতে হয় অন্য দেশের সাংবাদিকদের। এআই চ্যাটজিপিটির যুগে অবশ্য অনুবাদে তেমন সমস্যা হয় না আগের মতো।
এজেড/এমএমএম

