শিক্ষানগরী হিসেবে জগত জোড়া খ্যাতি বোস্টনের। সেই বোস্টনে আজ বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ফ্রান্স ও মরক্কো। এ উপলক্ষে শহরে ফুটবলের আমেজ। বিশেষত অনেক রাস্তায় মরক্কোর জার্সি পরা অনেককে দেখা গেছে।
আজকের ম্যাচটি শুধু স্রেফ কোয়ার্টার ফাইনালই নয়। বিশ্ব ফুটবলে পুরোনো শক্তি ফ্রান্সের আধিপত্য অব্যাহত থাকবে নাকি মরক্কো নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত সেটারও বড় মঞ্চ। তাই ফুটবলের দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যাচের গুরুত্ব অনেক।
মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বেশ আত্নবিশ্বাস নিয়েই এসেছেন। তিনি যে কথা বলেছেন তার সারমর্ম মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালে এসেই সন্তুষ্ট নয়,তারা বহুদূর যেতে চান। ফ্রান্স বিশ্ব ফুটবলের বড় শক্তি এতে মরক্কো ভীত নয়, তারাও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

মরক্কো কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলে সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল। সেই পারফরম্যান্স যে ফ্লুক নয়, এবার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে কোয়ার্টারে উঠে সেটার যথার্থতা প্রমাণ করেছে। আজ দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারাতে পারলে মরক্কো বিশ্ব ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত শক্তি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো সেমিফাইনালে এই ফ্রান্সের কাছেই হেরেছিল। এই বিশ্বকাপে কোয়ার্টারে আবার সেই ফ্রান্সই মরক্কোর প্রতিপক্ষ। তাই ফ্রান্সকে হারিয়ে নিজেদের প্রকৃত মানোন্নয়ন এবং নিজেদের শক্তির জানান দেওয়ার মঞ্চ মরক্কোর আজ। এটা যে মোটেও সহজ কাজ নয় সেটা অকপটে বলেছেন মরক্কোর কোচ, ‘গত আসরের চেয়ে এবার দুই দলই আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফ্রান্স অবশ্যই বড় দল, তাদের বিপক্ষে আমার বিশেষ কোনো গোপন কৌশল নেই। আমরা নিজেদের খেলা খেলেই জিততে চাই। ফ্রান্স বা যে কোনো দলের সাথে খেলার জন্য আমরা প্রস্তুত ও একই লক্ষ্য।’
মরক্কোর গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সাইবারি আজকের ম্যাচে খেলতে পারবেন না। এটা দলের জন্য অনেক কঠিন হলেও মরক্কোর কোচ তাকে পরের ম্যাচগুলোতে পাওয়ার আশায়। এর অর্থ তারা ফ্রান্সকে হারানোর ব্যাপারে আত্নবিশ্বাসী। তাদের খেলার স্টাইলও সংবাদ সম্মেলনে বলে দিয়েছেন, ‘আমরা বল পায়ে রেখে মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ করে দুই প্রান্তের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করি।’

মরক্কো আজ ফ্রান্সকে হারালে বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হবে। এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল ফ্রান্স। সেই দলকে পরাজিত করা দল অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সামর্থ্য রাখে। আর যদি কাতার বিশ্বকাপের মতো ফ্রান্সই জেতে তাহলে বড় দলের আনুষ্ঠানিক তকমা পেতে আরো সময় অপেক্ষা করতে হবে আফ্রিকার দেশকে।
মরক্কো শুধু মাঠের ফুটবল নয়, সাংগঠনিকভাবেও অনেক এগিয়ে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তারা সহ-আয়োজক। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পর আফ্রিকা মহাদেশের দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। একাডেমি, ক্লাব সহ ফুটবলে বিনিয়োগ ও সংস্কৃতিতে মরক্কো এখন অনেক অগ্রগামী। তাই মরক্কোকে আলোচনার বাইরে রাখার কোনো সুযোগ নেই।
এজেড/এফএইচএম

