বিজ্ঞাপন

ম্রিয়মাণ মরক্কো, ফরাসি আধিপত্য

ম্রিয়মাণ মরক্কো, ফরাসি আধিপত্য

বোস্টন স্টেডিয়ামে গ্যালারিতে শেড নেই। গরমের মধ্যেও সমর্থকরা গলা ফাটিয়ে যাচ্ছিলেন। খেলার সময় যত বাড়ছিল মরক্কোর সমর্থকদের উদ্দীপনা তত কমছিল। এই বিশ্বকাপে বিগত পাঁচ ম্যাচের সঙ্গে আজকের মরক্কোকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি।

পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল ফ্রান্সের আধিপত্য। প্রথমার্ধে মরক্কোর গোলবার লক্ষ্য করে ফ্রান্সের শট যেখানে ১৩, সেখানে মরক্কোর মাত্র ১। ফ্রান্স প্রথমার্ধে গোল না পেলেও অনেক সময় জুড়ে মরক্কোর বক্সে খেলা হয়েছে।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে ফ্রান্স লিড নেয়ার সুযোগ পায়। পেনাল্টি পেয়েও এমবাপ্পে গোল মিস করেন। এত বড় মাপের ফরোয়ার্ড হয়েও একেবারে দুর্বল শট নেন। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু তা সহজেই সেভ করেন।

মরক্কো গোলরক্ষকের বদান্যতায় প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েনি। ৩৫ মিনিটে এমবাপ্পের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকান। ফ্রান্সের প্রথমার্ধে এত গোল মিস আর্জেন্টিনার কষ্টার্জিত জয় ও ব্রাজিলের বিদায়ের শঙ্কা স্মরণ করালেও দ্বিতীয়ার্ধে সেটা উড়ে যায়।

এমবাপ্পে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ গোল মিস করেন। ওলিসের বাড়ানো বলে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বাইরে ঠেলেন। সেই দায় মোচন করেন কিছুক্ষণের মধ্যেই। দারুণ দক্ষতায় কোনাকুনি শটে গোল করেন। বোস্টনে ফ্রান্সের সমর্থকদের উম্মাদনা৷

মরক্কো বিগত ম্যাচগুলোতে দারুণভাবে খেলায় ফিরেছে। এই ম্যাচে সেই আশায় কোচ পিছিয়ে পড়ার পরপর দুই জন খেলোয়াড় বদল করেন। এতে ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। ফ্রান্স দেম্বলের গোলে উল্টো ম্যাচের জয়ের ভিত নিশ্চিত করে। কোচ দেশম ফ্রান্সের ট্রাম্পকার্ড এমবাপ্পেকে মিনিট পনেরো আগে বসিয়ে দেন।

গতকাল রাত থেকে আনন্দ করা মরক্কোর সমর্থকরা দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর গ্যালারি ছেড়ে যান অনেকে। সাইবেরির অভাব ম্যাচে অনুভূত হয়েছে অনেক। ম্যাচের বাকি সময় মরক্কো কিছু আক্রমণ করলেও গোল হওয়ার মতো ছিল না৷ উল্টো ফ্রান্স মিস না করলে মরক্কো আরো বড় ব্যবধানে পরাজিত হতো।

মরক্কো কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরেছিল। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে সেই ফ্রান্সের কাছেই হেরে বিদায় নিল। প্রতিশোধের বদলে উল্টো আরো শোচনীয় পরাজয় বরণ। মরক্কো আজ শুরু থেকে খানিকটা রক্ষণাত্মক আবরণে ছিল। আক্রমণাত্নক ফ্রান্স তাই মরক্কোর অর্ধেই খেলেছে বেশি।

এজেড/এমএমএম