বিজ্ঞাপন

এবারও শূন্য হাতেই ফিরতে হলো এশিয়া-আফ্রিকার প্রতিনিধিদের

এবারও শূন্য হাতেই ফিরতে হলো এশিয়া-আফ্রিকার প্রতিনিধিদের

মাঠের লড়াকু ফুটবল, গ্যালারির আকাশছোঁয়া উন্মাদনা আর মরক্কোর সেই ঐতিহাসিক অপরাজিত পথচলা, সব কিছুই এক নিমেষে থমকে গেল বোস্টনের কোয়ার্টার ফাইনালে। ফ্রান্সের কাছে মরক্কোর ২-০ গোলের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এবারের আসর থেকেও বিদায় নিলো এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের শেষ প্রতিনিধি। ফলে ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ চার বা সেমিফাইনালের মঞ্চে আবারও বজায় রইল সেই চিরচেনা ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকার আধিপত্য।

কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর সেমিফাইনালে ওঠার রূপকথা কিংবা এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে পরাশক্তিদের রুখে দিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার দলগুলোর চমকপ্রদ শুরু- সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বের পাওয়ার হাউস বদলে যাওয়ার একটা সুবাতাস পাওয়া যাচ্ছিল।

মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে বিশ্ব ফুটবলে নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু নকআউটের চূড়ান্ত মঞ্চে গিয়ে স্নায়ুচাপ, ট্যাকটিকাল পরিপক্বতা আর বেঞ্চের গভীরতার কাছে আরও একবার পরাস্ত হতে হলো আফ্রিকান ও এশিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোকে।

ফরাসিদের বিপক্ষে হারের পর মরক্কোর কোচ ওয়াহাবিও বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘ফ্রান্সের মতো দলের যে কোয়ালিটি ও ব্যাকআপ শক্তি, তার সাথে লড়াই করা কঠিন।’

কোচের এই এক লাইনের অকপট স্বীকারোক্তিই মূলত এশিয়া ও আফ্রিকার ফুটবলের বর্তমান নির্মম সত্য। গ্রুপ পর্বে আবেগ আর গতি দিয়ে অঘটন ঘটানো গেলেও টুর্নামেন্টের শেষভাগে এসে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে খেলা ফুটবলারদের ট্যাকটিকাল শৃঙ্খলা ও অভিজ্ঞতার সামনে খেই হারিয়ে ফেলছে এই দুই মহাদেশের প্রতিনিধিরা।

ব্রাজিলকে রুখে দিয়ে যে মহাকাব্যের সূচনা করেছিল মরক্কো, ফ্রান্সের কাছে হেরে তা শেষ হওয়ায় ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফিটা এবারও যাচ্ছে ইউরোপ কিংবা লাতিন আমেরিকাতেই।

এবারের বিশ্বকাপে এই দুই মহাদেশ থেকে সবচেয়ে মরক্কো। কানাডাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আটলাস লায়ন্সরা। আর রাউন্ড অব সিক্সটিনে আর্জেন্টিনাকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল মিশর। কিন্তু লিওনেল মেসিদের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত হেরে যান মোহামেদ সালাহরা।

এশিয়া মহাদেশ থেকে সবচেয়ে সফল দল জাপান। একমাত্র তারাই নকআউট পর্ব পর্যন্ত উঠতে পেরেছে। কিন্তু ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা। আফ্রিকা মহাদেশের দলগুলো এবার রীতিমতো চমক দেখিয়েছে। নয়টি দল নকআউট পর্বে উঠেছে। কিন্তু মরক্কো ও মিশর ছাড়া সবাই বাদ পড়ে রাউন্ড অব বত্রিশে। শেষ ষোলোতে বিদায় নেয় মিশর। আর কোয়ার্টার ফাইনাল খেললো মরক্কো।

এমএমএম/