World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

মেসিদের বিশেষ সুবিধার অভিযোগে কেম্পেসের খোঁচা, পরাজিতরাই কান্নাকাটি করে

মেসিদের বিশেষ সুবিধার অভিযোগে কেম্পেসের খোঁচা, পরাজিতরাই কান্নাকাটি করে

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকটি ম্যাচে বিতর্কিত রেফারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনাকে ফেভার করা হয়েছে বলে মত অনেকেরই। তবে এমন দাবির সঙ্গে একমত নন আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক মারিও আলবার্তো কেম্পেস। 

আকাশী-সাদাদের সমালোচকদের একহাত নিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরাজিতরাই কেবল কান্নাকাটি করে। দেশটির স্পোর্টস ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’-এর লাইভস্ট্রিমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই তারকা এমন মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এবার শিরোপা ধরে রাখতে পারলে লিওনেল মেসিদের এই প্রজন্মই হবে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা।

শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা। তবে মিশরেরর মোস্তফা জিকোর একটি গোল বাতিল হওয়া নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকেই অভিযোগ তোলেন, কাতার বিশ্বকাপের মতো এই আসরেও ফিফা আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। এমন সমালোচনার জবাবে কেম্পেস বেশ চড়া সুরে বলেন, ‘পরাজিতরা সবসময়ই কাঁদে। আর যদি কেউ মনে করে বিশ্বকাপ কাউকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে, তাহলে সে খুবই...।’

১৯৭৮ সালের নিজেদের বিশ্বকাপ জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও যোগ করেন, ‘৭৮ সালের পর আমাদের নিয়ে যত কথা হয়েছে, এরপর এসব আলোচনা আমাকে আর অবাক করে না। কলম্বিয়ার এক রেডিও স্টেশনের সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন, আর্জেন্টিনাকে নাকি কাতার বিশ্বকাপ উপহার দেওয়া হয়েছে আর এবারও নাকি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে? এদের আপনি কি বলবেন? তাদের বলতে দিন, সমস্যা নেই। সবার কথার উত্তর দিতে গেলে পাগল হয়ে যেতে হবে।’

আর্জেন্টিনার তিন বিশ্বকাপজয়ী দলের (১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২) তুলনামূলক আলোচনায় কেম্পেস নিজের সময়ের দলকে যেমন উঁচুতে রাখছেন, তেমনি বর্তমান দলের শ্রেষ্ঠত্বও মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা গর্বিত যে আমরাই আর্জেন্টিনার ফুটবলের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলাম। আমাদের পর থেকেই বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনা সমীহ পেতে শুরু করে। তবে আমি সবসময় বলি, নিজেদের সময়ে তিনটি দলই সেরা ছিল। কিন্তু এই দলটা যদি এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ (ব্যাক-টু-ব্যাক) জিততে পারে, তবে কোনো সন্দেহ ছাড়াই এটাই হবে ইতিহাসের সেরা দল। হিসাব একদম পরিষ্কার। এখন পর্যন্ত আমরা তিন দলই সমান সমান্তরালে আছি।’

মিশরের বিপক্ষে ১৩ মিনিটে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে কেম্পেস বলেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা আপনাকে ম্যাচ জেতাতে পারে, কিন্তু টুর্নামেন্ট জেতায় পুরো দল। মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দলগত সংহতির কারণেই এই টাইটানিক ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়েছে।’

চলতি বিশ্বকাপের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এই কিংবদন্তি বলেন, ‘আমরা অসম একটি বিশ্বকাপ দেখছি, হয়তো কিছুটা ম্যাড়মেড়ে (রক্ষণাত্মক); কারণ সবাই যার যার শক্তিমত্তা বা অস্ত্র দিয়ে খেলছে। ফাইনালের লড়াইটা মূলত স্পেন, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার মধ্যেই হবে, তবে এই দৌড়ে ইংল্যান্ডও রয়েছে, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।

এফআই