তারকায় ঠাসা স্কোয়াড নিয়েও বিশ্বকাপে বেশিদূর এগোতে পারেনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। স্পেনের কাছে হেরে শেষ ষোলোতেই থেমেছে বিশ্বকাপ অভিযান। নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে আলো ছড়াতে পারেননি সিআরসেভেনও।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই রোনালদোর সঙ্গে দলের অন্য সতীর্থদের মতবিরোধের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। তারই ফলস্বরূপ দলগত পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছিল। এবার পর্তুগাল দলের কড়া সমালোচনা করে মাঠের বাইরে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন সাবেক ফরাসি ফুটবলার ইউরি জোর্কাইফ।
১৯৯৮ সালের ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী এই মিডফিল্ডারের মতে, পর্তুগাল দল কখনোই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে সাহায্য করতে চায়নি, বরং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বলি হয়েছেন এই মহাতারকা।

ফরাসি গণমাধ্যম ‘আরএমসি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোর্কাইফ পর্তুগাল দলের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘রোনালদো নিজের দলের দ্বারাই স্যাবোটাজের (অর্ন্তঘাত) শিকার’।
পর্তুগাল দলের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জোর্কাইফ। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি দলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো খেলোয়াড়কে রাখেন, তবে পুরো দলকে তার শক্তির জায়গা বিবেচনা করে রোনালদোর জন্যই খেলতে হবে। কিন্তু পর্তুগাল দলের ক্ষেত্রে মোটেও তা দেখা যায়নি। মাঠের খেলা দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায়, রোনালদো তার নিজের দলের খেলোয়াড়দের দ্বারাই স্যাবোটাজ হয়েছেন। সতীর্থরা তাকে মাঠের ভেতর কোনো সমর্থনই দেয়নি, এমনকি তার গোল করার মতো উপযুক্ত পরিস্থিতিও তৈরি করে দেয়নি।’
রোনালদোকে খেলানোর বিষয়ে পর্তুগালের কোচিং স্টাফদেরও এক হাত নিয়েছেন এই ফরাসি কিংবদন্তি। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই রোনালদোকে চিনি। বছরের পর বছর ধরে সে একই স্টাইলে খেলে আসছে। পর্তুগাল দল আসলে কী আশা করেছিল—সে হঠাৎ করে নিজের খেলার ধরন বদলে ফেলবে? সিদ্ধান্ত একদম পরিষ্কার হওয়া উচিত ছিল; হয় আপনারা তাকে দলে ডাকবেন না অথবা মাঠে নামাবেন না। কিন্তু যখন আপনি তাকে মাঠে নামাচ্ছেন, তখন তাকে কেন্দ্র করেই পুরো দলের ছক সাজাতে হতো।’

বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে রোনালদোর মতো একজন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডকে পর্তুগাল দল যেভাবে ব্যবহার করেছে, তা কেবল এই তারকারই ক্ষতি করেনি, বরং দলের বিদায়কেও আরও এগিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন জোর্কাইফ।
এফআই

