World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

নোবেল জয়ীদের আঁতুড়ঘরে কিছুক্ষণ

নোবেল জয়ীদের আঁতুড়ঘরে কিছুক্ষণ

সারা বিশ্বের মধ্যে আমেরিকা শিক্ষা ও জ্ঞান বিজ্ঞানে অনেক বিনিয়োগ করে। সেই আমেরিকার শিক্ষা নগরী হিসেবে খ্যাত বোস্টন। যে শহরে হার্ভার্ড ও এমআইটি (ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) রয়েছে, সেই শহরে আর কী প্রয়োজন। 

বিশ্বকাপ ফুটবলে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ কাভার করতে বোস্টনে আসা। মাত্র ২ দিনের ঝটিকা সফর। ম্যাচের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ততা। তাই ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনের নিউজ করে এমআইটির উদ্দেশ্যে রওনা। সঙ্গী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু সোলায়মান নাঈম, যিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরেট করছেন। 

নিউইয়র্কের পর মেট্রো ব্যবস্থা বোস্টনেই ভালো। মেট্রো স্টেশনের নামই হয়েছে এমআইটি নামে। মেট্রোরেলের দুই পাশের অংশেই এমআইটির অনেক ইতিহাস। প্রতি বছর ভিত্তিক বিশেষ বিশেষ কীর্তি। সেটা সুন্দরভাবে সাজানো। এমআইটি পরিদর্শনে আসা যে কেউ চোখ বুলালে অনেক কিছুই জানতে পারবে। 

No description available.

গ্রীষ্মকালে আমেরিকার অনেক শহরে সূর্য ডোবে সাড়ে আটটার দিকে। সূর্যের আলোয় এমআইটি ক্যাম্পাস দেখার তাড়া। তাই তাড়াহুড়ো করে মেট্রোরেলের দেয়ালে এমআইটির ইতিহাস আর দেখা যায়নি। কয়েকশ মিটার হাঁটার পরই এমআইটি ক্যাম্পাসের শুরু। একাডেমিক বিল্ডিংয়ের মধ্যে দিয়ে রাস্তা।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনগুলো অনিয়মিত। এমআইটি একেবারে নিয়মিত সমাবর্তন করে। সেই সমাবর্তন হয় বড় সবুজ মাঠে। সেই মাঠে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা ছবি তোলেন। ব্রাজিলিয়ান এক দম্পতিকে পাওয়া গেল। তারা বলেন, ‘ফুটবল ম্যাচ দেখার পাশাপাশি এমআইটি দেখাই ছিল বোস্টন আসার উদ্দেশ্য।’

প্রকৌশল, বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়ে এমআইটি বরাবরই এক নম্বর অবস্থানে। এমআইটির অনেক সাবেক শিক্ষার্থী নোবেল বিজয়ী। জ্ঞান-বিজ্ঞানই নয় শুধু, ব্যবসায়িক উদ্ভাবনেও এমআইটির অবদান অনেক। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানসহ বিশ্ব মানের অসংখ্য মানুষ গড়ার কারিগর এই এমআইটি। একে নোবেল জয়ীদের আঁতুড়ঘর বললেও ভুল হবে না।

No description available.

এমআইটিতে পড়া সারা বিশ্বের মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন অনেকের পূরণ হয় না। খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়া। শুধু একাডেমিক রেজাল্ট দিয়েই এমআইটিতে ভর্তি হওয়া যায় না। দূরদর্শিতা, নেতৃত্ব গুণসহ আরও অনেক আনুষাঙ্গিক বিষয় জড়িত। ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে ব্রাজিলিয়ান শিক্ষার্থী আদ্রিয়ান বলেন, ‘এমআইটি অত্যন্ত প্রায়োগিক বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শই জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করা।’

এমআইটি প্রাঙ্গণে হাঁটতে হাঁটতে সূর্য ডুবল। এমআইটির উল্টো দিকেই বোস্টনের একমাত্র বড় নদী। সেই নদীর তীরে এমআইটি সেইলিং ক্লাব। শুধু একাডেমি নয়, সামাজিক কাজেও রয়েছে এমআইটি। সময় স্বল্পতা ও ব্যস্ততায় বোস্টনে অবস্থিত আরেক বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডে আর যাওয়া হয়নি। 

এজেড/এফএইচএম