২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে চমক দেখিয়ে চলেছে নরওয়ে। তাদের প্রধান খেলোয়াড় আর্লিং হালান্ডের গোলমেশিনে চড়ে সবশেষ ব্রাজিলবধ করেছে তারা। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে তিন আসরে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ওঠার হাতছানি থ্রি লায়নদের সামনে। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিটদের মুখোমুখি হওয়ার আগে তাদেরকেই এগিয়ে রাখলেন হালান্ড। একই সুরে কথা বললেন কোচ স্টালে সোলবাকেনও।
নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ‘নরওয়ের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা খুবই কম। চাপ থাকবে ইংল্যান্ডের ওপরে। আমি মনে করি তারা অন্যতম ফেভারিট।’ হেসে সাংবাদিকদের বললেন, ‘আমি মনে করি আপনাদের সবার উচিত সব চাপ ইংল্যান্ডের ওপর দেওয়া।’ হালান্ডের এমন মন্তব্যকে ‘মাইন্ড গেম’ বলে অভিহিত করেছেন ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার নিকো ও’রিলি।
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দেওয়ার পর এবার সেমিফাইনালে চোখ নরওয়ের। কিন্তু সোলবাকেন এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখলেন। বিবিসি স্পোর্টসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা ফেভারিট, কিন্তু খুব বড় ফেভারিট নয়।’
পরে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক উলভস কোচ বললেন, ‘আমি মনে করি আমাদের চেয়ে বেশি চাপ ইংল্যান্ডের ওপর আছে। কিন্তু আমরাও আমাদের পারফরম্যান্সের ওপর চাপ সৃষ্টি করি। তবে খেলা একবার শুরু হয়ে গেলে আমি মনে করি না খেলোয়াড়রা চাপ নিয়ে ভাবে।’
নরওয়ের ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালের পথে হালান্ড চার ম্যাচে সাত গোল করেছেন। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার তারা বিশ্বকাপে ফিরেই চমক দেখিয়ে যাচ্ছে। ইরাক, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জিতে এই আসর স্মরণীয় করে রাখছে তারা। চার ম্যাচেই হালান্ড গোল করেছেন।
দুই দলের কোয়ার্টার ফাইনালকে অনেকে হালান্ড বনাম হ্যারি কেইনের ম্যাচ হিসেবে দেখছেন। দুজনের গোল গড়ে দিতে পার্থক্য। কিন্তু সোলবাকেন এমন দাবি নাকচ করে দিলেন, ‘এটা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নরওয়ের ম্যাচ। এটা লুকানোর কিছু নেই যে কেইন ইংল্যান্ডের ম্যাচ জয়ী এক নম্বর এবং আর্লিং আমাদের জন্য ম্যাচ জয়ী এক নম্বর। কোনো সন্দেহ নেই যে সে (হালান্ড) আমাদের সবচেয়ে বড় ম্যাচ জয়ী খেলোয়াড়। কিন্তু আমার মনে হয় তারাই পার্থক্য গড়ে দেবে, এমন ভাবনা অন্য কিছু খেলোয়াড়দের খাটো করে দেয়। তারও সাহায্যের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সে যে খুব বড় ম্যাচ জয়ী, এটা অস্বীকার করা যাবে না।’
ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ে ৬৬.৪ শতাংশ বল দখলে রেখে ম্যাচটি জিতেছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও কি একই আধিপত্য দেখাবে নরওয়ে, এমন প্রশ্নে সোলবাকেন বললেন, ‘না, আমি মনে করি না। অনেক গরম। আমরা খুব হালকা অনুশীলন করেছি। আমাদের টেকনিক্যাল সেশন ছিল কিন্তু ধীরগতিতে। কালকের জন্য সতেজ থাকাই মূল বিষয়।’
এফএইচএম

