বিজ্ঞাপন

ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও হোয়াইটওয়াশ ভারত, র‌্যাঙ্কিংয়ে অবনতি

ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও হোয়াইটওয়াশ ভারত, র‌্যাঙ্কিংয়ে অবনতি

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখাল ইংল্যান্ড। সাউদাম্পটনে শেষ ম্যাচে ৫৬ রানের দাপুটে জয়ে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা। এই জয়ের সুবাদে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করেছে ইংল্যান্ড, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত নেমে গেছে দুই নম্বরে।

সিরিজের শেষ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। একাদশে দুটি পরিবর্তন আনে সফরকারীরা। বৈভব সূর্যবংশীর জায়গায় ফেরানো হয় সঞ্জু স্যামসনকে। তাতেও ম্যাচের ফলাফলে পরিবর্তন আসেনি। উল্টো আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হলো ভারত।

শুরুর দিকে ভারতের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। পাওয়ারপ্লের প্রথম ভাগে রান আটকে রাখার পাশাপাশি ফিরিয়ে দেন ফিল সল্টকে। তবে এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন জস বাটলার ও হ্যারি ব্রুক।

প্রসিধ কৃষ্ণকে স্কুপ, লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা, এরপর আর্শদীপ সিংকেও আক্রমণ দিয়ে শুরু হয় বাটলারের ঝড়। অন্যদিকে জীবন পেয়ে সদ্ব্যবহার করেন হ্যারি ব্রুক। শিভম দুবের হাত ফসকে ক্যাচের সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর পরের দুই বলই গ্যালারিতে পাঠান ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

পাওয়ারপ্লের পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং। অক্ষর প্যাটেলের এক ওভারে ২৫ রান তুলে ম্যাচের গতি পুরো বদলে দেন বাটলার। সেই পথেই গড়ে ওঠে তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্রুততম ফিফটি। কিছুক্ষণ পর অর্ধশতক পূর্ণ করেন ব্রুকও।

এরপর আর কোনো ভারতীয় বোলারই রেহাই পাননি। বাটলার-ব্রুকের অবিচ্ছিন্ন ২৩৩ রানের জুটিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ভারতের বোলিং। সূর্যাংশ শেডগে শুরুতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও পরে এক ওভারে ২৪ রান দেন। প্রিন্স যাদবের এক ওভার থেকেও আসে ২১ রান। ১৫ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১৮৯।

নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে অক্ষরকে ছক্কা হাঁকিয়ে শতক পূর্ণ করেন বাটলার। শেষ দিকে শিভম দুবে টানা দুই বলে বাটলার ও জ্যাকব বেথেলকে ফিরিয়ে দিলেও সেই ওভারেও তিনটি ছক্কা ও একটি চার হজম করেন। শেষ ওভারে ব্রুককে শতক থেকে বঞ্চিত করেন প্রিন্স যাদব।

তবুও অপরাজিত ৯৫ রানের ইনিংসে দলকে ৩ উইকেটে ২৫৭ রানের বিশাল সংগ্রহ এনে দেন ব্রুক। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে এটিই ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

২৫৮ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। জফরা আর্চারের শিকার হন অভিষেক শর্মা। এরপর সঞ্জু স্যামসন দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে ইশান কিষানের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে স্যাম কারানের বলে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান স্যামসন।

ইশান কিষান ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার কিছুটা লড়াই চালিয়ে যান। ১০ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল ১১০ রান। কিন্তু প্রয়োজনীয় রানরেট ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যায়।

ড্রিংকস বিরতির পরপরই বিদায় নেন শ্রেয়াস। অল্প সময়ের মধ্যেই অর্ধশতক করা ইশানও সাজঘরে ফেরেন। এরপর দ্রুত রান তুললেও ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি ভারত। তিলক ভার্মা ঝড়ো ফিফটি করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কিছুটা কমিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ৫৬ রানের জয় নিয়ে সিরিজ ৪-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় ইংল্যান্ড। এই সাফল্যে টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও ফিরে পেয়েছে ইংলিশরা। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় সিরিজে ধবলধোলাইয়ের তিক্ত স্বাদ নিয়ে ভারতকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।

আইএইচ