World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান

মেসির নতুন রেকর্ড, ম্যারাডোনার পাশে আলভারেজ

মেসির নতুন রেকর্ড, ম্যারাডোনার পাশে আলভারেজ

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হলো। আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ডকে। লিওনেল মেসি চলতি আসরে প্রথমবার গোল না পেলেও হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে জিতেছে তারা। এই ম্যাচের কিছু পরিসংখ্যান সংখ্যা দিয়ে তুলে ধরা হলো।

১৯৯২ সালে ফিফা র‌্যাঙ্কিং প্রবর্তন করার পর থেকে এই প্রথমবার শীর্ষ ৪টি বাছাই দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসেও এটি মাত্র তৃতীয় সংস্করণ যাতে চার সেমিফাইনালিস্টই সাবেক বিজয়ী (১৯৯০, ১৯৭০)।

মাইক্রো-ডেটা প্রেমীদের জন্য একটি পরিসংখ্যান। লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল অভিমুখে শটের দিকে নিয়ে যাওয়া ২০টি পাস দিয়েছেন। ১৯৬৬ সালের পর তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টুর্নামেন্টের তিনটি ভিন্ন আসরে এই পরিমাণ শটের জন্য পাসে পৌঁছেছেন (২০২২ সালে ২১টি, ২০১৪ সালে ২৪টি)।

৩+

আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপে টানা চারটি ম্যাচে ৩+ গোল করেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সমান সংখ্যক ম্যাচে টানা তিন বা তার বেশি গোল করেছে কেবল ফ্রান্স। এই আসরে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ জয়ে ফরাসিদের এই ধারা শেষ হয়।

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে কর্নার থেকে তিনটি গোল করেছে। এই ধরনের সর্বাধিক গোলে ইংল্যান্ড ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সাথে বসল তারা। কৌতূহলবশত, আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টে গড় উচ্চতায় তৃতীয় খাটো উচ্চতার দল। কিন্তু অন্য ৪৪টি দেশের চেয়ে তাদের হেডে করা গোল (৩টি) বেশি।

তারা এই বিশ্বকাপে সেট পিস থেকে সর্বাধিক গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ অবস্থানে রয়েছে (৫টি)।

লিওনেল মেসি চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে চারটি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু করেছেন। জার্মানির লোথার মাথেউস, মিরোস্লাভ ক্লোসা ও উভে সিলারের সঙ্গে তিনি।

হুলিয়ান আলভারেজের ক্যারিয়ারের পাঁচটি বিশ্বকাপ গোলের মধ্যে চারটি নকআউট রাউন্ডে করা হয়েছে। যা কোনো আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে যৌথ অবস্থানে আছেন তিনি। দুজনের উপরে আছেন মেসি (৭)।

ব্রিল এম্বোলো মেক্সিকোর লুইস পেরেজ (২০০৬ বনাম পর্তুগাল), ঘানার আসামোয়া গিয়ান (২০০৬ বনাম ব্রাজিল), এবং ইতালির ফ্রান্সেসকো টট্টির (২০০২ বনাম দক্ষিণ কোরিয়া) সাথে যোগ দিয়েছেন। বিশ্বকাপের গত ৬০ বছরে সিমুলেশন মানে অভিনয় বা ডাইভিংয়ের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়া খেলোয়াড়ের তালিকায় তিনি।

এই বিশ্বকাপের অতিরিক্ত সময়ে যাওয়া অষ্টম নকআউট রাউন্ডের ম্যাচ ছিল এটি। ২০১৪ ও ১৯৯০ সালের আসরেও সমান সংখ্যক  ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গিয়েছিল। অবশ্যই, ২০১৪ এবং ১৯৯০ বিশ্বকাপে প্রতিটিতে মাত্র ১৫টি নকআউট রাউন্ডের ম্যাচ ছিল, যেখানে এটি ২০২৬ বিশ্বকাপের ২৮তম নকআউট রাউন্ডের ম্যাচ।

মেসির বিশ্বকাপ-রেকর্ড টানা ৯ ম্যাচে গোল করার ধারাটি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ হয়েছে (২০২২ সালে ৪টি, ২০২৬ সালে ৫টি)।

১০

অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে দেওয়া কর্নারের মাধ্যমে মেসির এখন ১০টি বিশ্বকাপ অ্যাসিস্ট রয়েছে। ১৯৬৬ সালের পর অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে দুটি বেশি (ডিয়েগো ম্যারাডোনা - ৮)। মেসির ১০টি অ্যাসিস্ট ১০ জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের জন্য গোল তৈরি করেছে।

এছাড়াও, আজকের ১০ম মিনিট (৯:৩৪) হলো যেকোনো বিশ্বকাপে মেসির দেওয়া সবচেয়ে দ্রুততম অ্যাসিস্ট। এই প্রথমবার তিনি বিশ্বকাপে কর্নার থেকে কোনো অ্যাসিস্ট প্রদান করেছেন।

১০

গত ৬০ বছরে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের একাধিক আসরে ১০টির বেশি গোলে অবদান রাখার তালিকায় মেসি (২০২২ ও ২০২৬ সালে ১০টি) যোগ দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পের (২০২২ সালে ১০টি, ২০২৬ সালে ১১টি) সাথে।

১১

ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলটি ছিল এই ফিফা বিশ্বকাপ চক্রে সুইজারল্যান্ডের কোনো ম্যাচে প্রথমবার পিছিয়ে পড়া। এর মধ্যে কোয়ালিফায়ার (বাছাইপর্ব) এবং চূড়ান্ত টুর্নামেন্ট উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। এই আসরে এমন রেকর্ড থাকা একমাত্র দল তারা। 

১৩

ফিফা বিশ্বকাপে তার শেষ ৮টি নকআউট পর্বে মেসি সরাসরি ১৩টি গোলের সাথে জড়িত ছিলেন (৭টি গোল, ৬টি অ্যাসিস্ট)।

১৩

এটি আর্জেন্টিনার অতিরিক্ত সময়ে যাওয়া ১৩তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। এটা যেকোনো দলের চেয়ে সর্বাধিক (জার্মানির সাথে থাকা ১২ ম্যাচের সমতায় ছিল)। পেনাল্টি শুটআউট জয় অন্তর্ভুক্ত করলে তারা সেগুলোর মধ্যে ১১টিতেই জিতেছে।

ইতিমধ্যে, বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময়ের ভেতরে এটি ছিল তাদের পঞ্চম জয়। ইতালির (৬) পেছনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে তারা।

১৫

একটি নতুন দিন, একটি নতুন রেকর্ড মেসির। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের এখন ১৫টি বিশ্বকাপ নকআউট রাউন্ডে গোলের সম্পৃক্ততা রয়েছে। গত ৬০ বছরে যেকোনো খেলোয়াড়ের দ্বারা সর্বোচ্চ। কিলিয়ান এমবাপের সাথে থাকা ১৪টির টাই ভেঙেছেন তিনি।

৩০ বছর, ১৭৭ দিন

গড় বয়স ৩০ বছর, ১৭৭ দিন। ১৯৬২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের (৩০ বছর ২০৯ দিন) পর আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশটি ছিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সবচেয়ে বয়স্ক দল।

এফএইচএম