চলমান বিশ্বকাপ হয়েছে তিনটি দেশ মিলিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই আগের যে কোনো আসরের চেয়ে বেশি ভ্রমণ করতে হয়েছে অংশ নেওয়া দলগুলোকে। উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহর, ফুটবলের সবচেয়ে বড় পুরস্কারের সন্ধানে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করতে হয়েছে।
প্রত্যেক দলকেই কমবেশি লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দল অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি সফর করেছে। এই যেমন ইংল্যান্ড। শেষ চারে ওঠার পথে ১৪ হাজার মাইলের বেশি বিমানে পাড়ি দিতে হয়েছে। এই আসরের ফেভারিট ফ্রান্সের চেয়ে সাতগুণ বেশি এবং সেমিফাইনাল প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার দুই গুণের বেশি।
থমাস টুখেলের দলকে মিসৌরির কানসাস সিটিতে অবস্থিত তাদের বেসক্যাম্প থেকে আসা যাওয়া করতে হয়েছে আটলান্টা, বোস্টন, মেক্সিকো সিটি ও মায়ামিতে।
আর্জেন্টিনার বেস ক্যাম্পও কানসাস সিটিতে। কিন্তু আট হাজার মাইলের চেয়ে কম ছিল তাদের আকাশভ্রমণ। অন্যদিকে ফ্রান্স প্রায় পুরোটা সময় পশ্চিম উপকূলেই ছিল। স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে ডালাসে যাওয়ার আগে তারা দুই হাজার মাইলেরও কম ভ্রমণ করেছে।
কোন কোন দেশ লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছে?
বিশাল দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার তালিকায় শুধু ইংল্যান্ড একা নয়। স্পেনও ১২ হাজার মাইলের বেশি ভ্রমণ করেছে। ১০ হাজার মাইলের বেশি পথ পার হতে হয়েছে সুইজারল্যান্ডকে। মরক্কোর বেস ক্যাম্প ছিল নিউ জার্সিতে। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার আগে বোস্টন, আটলান্টা, মন্টেরে ও হিউস্টনে যাওয়া আসা করতে গিয়ে ৮ হাজার মাইলের বেশি পাড়ি দিয়েছে মরক্কো।
ওয়াশিংটনের রেন্টনে বেস ক্যাম্প ছিল বেলজিয়ামের। স্পেনের কাছে শেষ আটে হেরে বিদায় নেওয়ার আগে তাদের ভ্রমণ ছিল চার হাজার মাইলের মতো। শেষ আটে ওঠা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ২ হাজার মাইল ভ্রমণ করেছে ফ্রান্স।
লম্বা ভ্রমণ কি খেলায় প্রভাব ফেলছে?
এত বেশি ভ্রমণের কারণে পারফরম্যান্সে প্রভাব করছে কি না তা নির্দিষ্ট করে বলা অসম্ভব। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাকেন স্বীকার করেছেন, টুর্নামেন্টের শারীরিক ধকল তাদের ওপর পড়তে শুরু করেছিল।
নরওয়ে কোচ বলেছিলেন, ‘আমরা আসলে শুধুমাত্র জর্গেনকে (স্ট্র্যান্ড লারসেন) পেয়েছি যার জ্বর হয়েছিল, তবে বাকিদের মধ্যেও টুকটাক কাশি এবং গলার খসখসে ভাব দেখা গেছে। তবে সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), বিমান ফ্লাইট, চেঞ্জিং রুম এবং আরও অনেক কিছু রয়েছে। ভ্রমণকারী দলে মোট ৫০ জন মানুষ রয়েছে, তাই ছোটখাটো কিছু একটা সমস্যা দেখা না দিলে সেটাই বরং অদ্ভুত হতো।’
নরওয়ে দলের ভ্রমণ ইংল্যান্ডের চেয়ে বেশ কম ছিল। নর্থ ক্যারোলিনার গ্রিনসবোরোতে তারা বেস ক্যাম্প গড়লেও নকআউটে ওঠার পর ম্যাচের মাঝে তারা ফেরা বন্ধ করে দিয়েছিল। অন্যদিকে ইংল্যান্ড প্রত্যেক ম্যাচ শেষে কানসাস সিটিতে ফিরেছে।
১৪ হাজার মাইল পথ ভ্রমণ ইংল্যান্ডের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে কি না বা তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে কি না, সেটা সময় বলে দেবে।
এফএইচএম

