স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল ১৯ বছরে পা দিয়েছেন গতকাল (সোমবার)। আর ফ্রান্স এমন এক দিনে সেমিফাইনাল খেলতে নামছে, যেদিন দেশটিতে জাতীয় ও বাস্তিল দিবস উদযাপিত হবে। আজ (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি দুই ইউরোপীয় জায়ান্ট ফ্রান্স-স্পেন। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও গতবারের রানার্সআপ ফ্রান্স। বিপরীতে সর্বশেষ ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। যেখানে সেমিফাইনালে তারা ফরাসিদের হারিয়েছিল। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে দু’দলের এই লড়াই। ফ্রান্সের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে। জিততে পারলে পশ্চিম জার্মানির পর দ্বিতীয় ইউরোপীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়বে ‘লে ব্লু’।
— Equipe de France (@equipedefrance) July 11, 2026
একইসঙ্গে ফ্রান্স-স্পেনের ম্যাচটিকে ‘ধ্রুপদী লড়াই’ও বলা চলে। দুই দলই ইউরোপীয় ফুটবলের পরাশক্তি এবং তাদের ফুটবল দর্শনে রয়েছে দারুণ বৈপরীত্য– ফ্রান্স দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে পারদর্শী, আর স্প্যানিশরা বল পজেশন ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবলে বিশ্বাসী। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স, স্পেনের একমাত্র বিশ্বশিরোপা ২০১০ আসরে।
এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ ছিল সবচেয়ে বিধ্বংসী। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে পাঁচ ম্যাচে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে আছেন। উসমান দেম্বেলে করেছেন পাঁচ গোল। ব্র্যাডলি বারকোলা যোগ করেছেন দুটি গোল এবং পাঁচটি অ্যাসিস্ট নিয়ে দলের সেরা প্লেমেকার মাইকেল অলিসে। এত কিছুর পরও অবশ্য অধিনায়ক এমবাপে মনে করেন, বর্তমান দলটি এখনও নিজেদের প্রমাণ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি, ২০২২ সালে রানার্সআপ হয়েছি। কিন্তু এই দল এখনও কিছুই অর্জন করেনি। তবে এই দলটির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এই স্কোয়াডে অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে। তাই বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ আছে।’ গত সাতটি বিশ্বকাপের মধ্যে ফ্রান্স চারবার ফাইনালে উঠেছে। রানার্সআপ হয়েছে ২০০৬ ও ২০২২ আসরে। স্পেনকে হারাতে পারলে ১৯৭৪ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে চারটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে তুলনা আরও জোরালো হবে ফ্রান্সের।

অন্যদিকে, ইউরো ২০২৪–এর সেমিফাইনাল এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছিল স্পেন। তবে প্রতিপক্ষের মতো আক্রমণাত্মক না হয়ে পুরো টুর্নামেন্টে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেছে স্পেন। লা রোজার রক্ষণভাগ এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে, সেটিও কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। মাঝমাঠে রদ্রি, পেদ্রি ও দানি ওলমো প্রতিপক্ষকে খুব কমই বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে দিয়েছেন।
সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এটিকে ফাইনালের আগেই একটি ফাইনাল বলা মোটেও বাড়াবাড়ি হবে না। আমরা এমন একটি দল, যারা ফাইনালে ওঠার সামর্থ্য রাখে। এখন আমাদের পুরো মনোযোগ ফ্রান্সের দিকে। আমরা তাদের অসাধারণ শক্তিমত্তা সম্পর্কে জানি। তবে এটাও জানি, সেমিফাইনালে তাদের দু’বার হারানো একমাত্র দল আমরাই।’
এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। যেখানে স্প্যানিশদের দাপট স্পষ্ট, তারা ১৮ ম্যাচে জিতেছে। বিপরীতে ফ্রান্সের জয় ১৩টিতে এবং বাকি ৭ ম্যাচ হয়েছে ড্র। তবে অপ্টার সুপারকম্পিউটারের হিসেবে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৪২.১ শতাংশ। আর স্পেনের সম্ভাবনা ৩১.৮ শতাংশ। এ ছাড়া ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৬.১ শতাংশ বলে আভাস অপ্টার।
এএইচএস

