World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

ফুটবল বিশ্বকাপ

১০ বছর ধরে ফুটবল দলের প্রধান চিকিৎসক, আদতে তিনি ‘স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ’

১০ বছর ধরে ফুটবল দলের প্রধান চিকিৎসক, আদতে তিনি ‘স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ’

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হেরে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ থেকেই বিদায় নিয়েছে সেনেগাল। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার নেপথ্যে খেলোয়াড়দের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খবর আগেই চাউর হয়েছিল। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বরখাস্ত করা হয় কোচ পাপে বুনা থিয়াওকে।

এবার সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফএসএফ) সভাপতি আবদুলায়ে ফল যে তথ্য ফাঁস করলেন, তা কেবল নজিরবিহীনই নয়, রীতিমতো কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, ফুটবল দলের প্রধান চিকিৎসক হিসেবে যিনি দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি আদতে একজন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ (গাইনোকোলজিস্ট)!

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এই অবিশ্বাস্য তথ্য সামনে আনেন সেনেগালের ফুটবল প্রধান। আবদুলায়ে বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগেই জানতে পেরেছি যে দলের প্রধান ডাক্তার ফেদিওর পেশায় একজন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ। ফুটবলারদের দেখভাল ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক যোগ্যতা তার ছিল না।’

অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ডা. ফেদিওর হুট করে সেনেগাল দলে আসেননি। দীর্ঘ এক দশক ধরে তিনি দলটির সঙ্গে কাজ করছেন এবং ২০২৬ বিশ্বকাপেও ফুটবল দলটির প্রতিনিধি দলের অংশ ছিলেন তিনি।

ফেডারেশন সভাপতি আবদুলায়ে ফল জানান, খেলোয়াড়রাও দীর্ঘদিন ধরে এই চিকিৎসকের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই পর্যায়ে এসে আমি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, তাতে স্পষ্ট যে তার ওপর দলের ফুটবলারদের কোনো আস্থা ছিল না। এমনকি নিয়মিত চিকিৎসার জন্য তার শরণাপন্ন হতেও তারা স্বস্তি পেত না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের এমন একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হতো যাতে খেলোয়াড়রা পুরোপুরি স্বস্তিতে থাকতে পারে, কারণ সবার আগে স্বাস্থ্য।’

এবারের বিশ্বকাপে টুর্নামেন্ট চলাকালীন সেনেগাল দলে একের পর এক অভ্যন্তরীণ সংকট সামনে এসেছে। ফুটবলারদের বকেয়া বেতন, আবাসন ও খাবারের মতো মৌলিক লজিস্টিক সংকট তো ছিলই, এমনকি খোদ প্রধান কোচ পাপে থিয়াও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই দল পরিচালনা করছিলেন। মাঠের লড়াইয়েও এর প্রভাব পড়েছে স্পষ্ট। বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও আগেভাগেই বিদায় নিতে হয় আফ্রিকার সিংহদের।

এফআই