আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। কিন্তু ফুটবলের মহারণে যখন দুই দেশ মুখোমুখি, তখন সেটা নতুন করে ফিরে আসা স্বাভাবিক। এই যেমন চলতি বিশ্বকাপে দুই দলের সেমিফাইনালের আগে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আশির দশকের শুরুতে যুদ্ধের স্মৃতি ঘুরে ফিরে আসছে।
কিন্তু আর্জেন্টিনার প্রবীণ যোদ্ধাদের একটি ফেডারেশন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে ফুটবল সমর্থকদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তারা যেন ম্যাচটিকে দক্ষিণ আটলান্টিক দ্বীপপুঞ্জের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি তোলার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার না করে খেলার দিকে মনোযোগ দেয়।
১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ হয়। তাতে ৬৪৮ জন আর্জেন্টাইন সেনা ও ২৫৫ ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। কয়েক দশক আগের সেই রক্তক্ষয়ী স্মৃতি না ফেরানোর অনুরোধ করেছে সংগঠনটি।
তারা বলেছে, এটি ‘কোনো সশস্ত্র কিংবা ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণের ম্যাচ’ নয়। বরং ভক্ত-সমর্থকদের তারা বিদ্বেষ বা বিদেশিদের প্রতি ঘৃণা না ছড়িয়ে ওই সংঘাতে নিহত আর্জেন্টাইন সেনাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে বলেছে।
এপ্রিল ২ যুদ্ধ প্রবীণদের ফেডারেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের সংবিধানে অন্তর্ভু্ক্ত কূটনীতি, ঐতিহাসিক সত্য ও শান্তিপূর্ণ, অ-আলোচনাসাপেক্ষ দাবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফোরামে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হয়। ক্রীড়াসুলভ আবেগ ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ও অবিচল সীমারেখা টানা উচিত বলে মনে করি আমরা। বল গড়িয়ে চলে, আমাদের জার্সির রঙ গর্বিত করে। কিন্তু স্মৃতি থেকে যায় অটুট হয়ে।’
এফএইচএম

