World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টাইনদের’—দাবি করে শাস্তির ঝুঁকিতে আর্জেন্টিনা!

‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টাইনদের’—দাবি করে শাস্তির ঝুঁকিতে আর্জেন্টিনা!

রুদ্ধশ্বাস অবস্থা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে এমন এক অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াল আর্জেন্টিনা। ২-১ গোলে জিতে ফাইনালে উঠে গেল তারা। ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকার কারণে এই ম্যাচের আগে ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতি না মিশিয়ে ফেলার অনুরোধ আসতে থাকে। কিন্ত ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা সেটা ভুলে যান।

আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা একটি রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে জয় উদযাপন করেন, যেখানে লেখা, ‘লাস মালভিনাস (ফকল্যান্ডসের স্প্যানিশ নাম) আর্জেন্টাইনদের’। এভাবে আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে সম্ভবত ঝুঁকির মুখে পড়ল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে ‘রাজনৈতিক, আপত্তিকর এবং/অথবা বৈষম্যমূলক প্রকৃতির ব্যানার, পতাকা, প্রচারপত্র, পোশাক এবং অন্যান্য সামগ্রী’ নিষিদ্ধ। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে এনিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে খেলোয়াড়রা একই বার্তা লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিল। সে কারণে ফিফা আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০,০০০ পাউন্ড জরিমানা করেছিল। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছিল যে, এই আচরণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলীয় অসদাচরণ সংক্রান্ত নিয়ম লংঘন করেছে।

The Argentina players celebrate at full time with a banner that reads "The Falkland Islands are Argentinian" during the FIFA World Cup 2026 Semi Final match between England and Argentina

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা মাঠ ছাড়েন। তার কিছুক্ষণ পরই ভক্তদের সঙ্গে আনন্দ উদযাপন করতে যান। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও জিওভানি লু সেলসো একটি ব্যানার নিয়ে হাজির হন। সেখানেই লেখা, ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টাইনদের।’ ব্যানার নিয়ে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা চিরকাল আর্জেন্টিনার থাকবে।’

দক্ষিণ আটলান্টিকের যে দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটিশদের কাছে ফকল্যান্ডস এবং আর্জেন্টাইনদের কাছে মালভিনাস নামে পরিচিত। এই দ্বীপের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘস্থায়ী বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে তাদের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সংঘাত হয়েছিল। যাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সৈন্য এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ যোদ্ধা নিহত হন। ব্রিটেন শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করে। দ্বীপপুঞ্জের অধিকাংশ বাসিন্দা বলেছেন যে, তারা ব্রিটেনের অংশ হয়েই থাকতে চান। কিন্তু আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে এই দ্বীপপুঞ্জ উত্তরাধিকারসূত্রে তাদেরই।

এখন দেখার অপেক্ষা ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি লংঘনের কারণে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ওপর কোনো শাস্তি আরোপ করা হয় কি না!

এফএইচএম