বয়স সত্তরের বেশি। এরপরও তরুণের মতো ছুটে চলেন। আর্জেন্টিনার প্রেস কনফারেন্স-ম্যাচ-প্র্যাকটিস সব জায়গায় সরব উপস্থিতি আর্জেন্টাইন সাংবাদিক সার্জিও ল্যাভেনস্কির।
১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনাল কাভার করেছিলেন সার্জিও। ৪০ বছর পর আজ আবার দুই দলের সেমিফাইনাল কাভার করলেন আমেরিকার আটলান্টা স্টেডিয়ামে। চার দশকের ব্যবধানে দুই ম্যাচ কাভার করা সাংবাদিকের সংখ্যা খুবই কম।
সেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ১-২ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনার কাছে। এই বিশ্বকাপেও স্কোরলাইন একই এবং আর্জেন্টিনা জয়ী। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক সার্জিওর দৃষ্টিতে দুই ম্যাচের পার্থক্য রয়েছে, ‘ওই ম্যাচ পুরোটাই ছিল ম্যারাডোনাময়। আজ আর্জেন্টিনা মূলত দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত খেলেছে। দুই ম্যাচের আবহে অনেক পার্থক্য রয়েছে। ফকল্যান্ড ঘটনার কয়েক বছর পর সেই ম্যাচ হওয়ায় সেদিন রাজনৈতিক আবহ বেশি ছিল। এই ম্যাচ পুরোটাই খেলার আঙ্গিকে।’
মেসি দুই দশক আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলছেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজই প্রথম খেলেছেন। মেসি নিজে গোল না পেলেও দুই গোলেই তার অ্যাসিস্ট। মেসি ও ম্যারাডোনার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে আর্জেন্টিনার সিনিয়র সাংবাদিকের মতামত, ‘মেসি এই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে খেলার ফলাফল পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে ম্যারাডোনা ওই ম্যাচে যা করেছে তা তো ফুটবলেরই ইতিহাস। ফলে পারফরম্যান্সের দৃষ্টিকোণ থেকে অবশ্যই ম্যারাডোনা অনেক এগিয়ে।’
দশটির বেশি বিশ্বকাপ কাভার করেছেন আর্জেন্টিনার এই সাংবাদিক। অনেক বড় ম্যাচ কাভারের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলের সমালোচনা করে বলেন, ‘ইংল্যান্ড গোল দেওয়ার পর পজিটিভ ফুটবল খেলেনি। ডিফেন্সিভ পলিসিতে যেয়ে ভুল করেছে। আর্জেন্টিনা কখনো ছেড়ে দেয় না। আর্জেন্টিনা ব্লু স্মেল পেয়েছে। ব্লু স্মেল হচ্ছে আর্জেন্টিনার খেলার বিশেষ রিদম। এটা পেলে ম্যাচ ফিনিশ করে। আজ সেটাই হয়েছে।’
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই কিছুটা শরীর নির্ভর ফুটবল খেলেছে। রেফারিকে ফাউলের বাঁশি ও হলুদ কার্ড দেখাতে হয়েছে একাধিকবার। দ্বিতীয়ার্ধে চিত্র ছিল ভিন্ন। আর্জেন্টিনার ডিফেন্সের ভুলে ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডন প্লেসিংয়ে গোল করেন। এরপরই যেন আর্জেন্টিনা জেগে উঠে। একের পর এক আক্রমণ করে। সমতা আনার আগে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিকফোর্ড একাধিক সেভ করেন।
আর্জেন্টিনার এক আক্রমণ পোস্টেও লেগে ফেরত আসে। তাই ইংল্যান্ডের হারকে দুভার্গ্যজনক বলার কোনো সুযোগ দেখছেন না অভিজ্ঞ সাংবাদিক সার্জিও, ‘দুটি বল পোস্টে লেগেছে। পিকফোর্ড অসাধারণ কয়েকটি সেভ করেছে যা প্রতিটি গোল হওয়ার মতো। এরপর ইংল্যান্ডের আর ভাগ্যের দোহাই দেওয়ার সুযোগ নেই। ইংল্যান্ডের কোচের এই ম্যাচে অসংখ্য ভুল রয়েছে। সেই ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে।’
এজেড/এফএইচএম

