২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালে বহুল আলোচিত একটি দৃশ্য ছিল ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের কৌশল। সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জেতে ইংলিশরা। পরে জানা যায় পিকফোর্ডের পানির বোতলে প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের শট নেওয়ার কিছু তথ্য লেখা ছিল। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও একই ‘অস্ত্র’ নিয়ে নেমেছিলেন পিকফোর্ড।
গতকাল (বুধবার) দিবাগত রাতে আটালান্টায় রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড। যদিও এখনও টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাকি। তবে অনেক আবেগ ও ইতিহাস জড়ানো ম্যাচে ইংলিশদের হৃদয়ভাঙা হারের পর আবিষ্কার হয়েছে পিকফোর্ডের বোতল। যা নিয়ে তুমুল উৎসাহ দেখা যায় রোমেরো-মেসি-এনজোদের মাঝে।
— Iván (@ivanalvarenga1) July 15, 2026
সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের তথ্যমতে– পিকফোর্ডের সেই বোতল প্রথম খুঁজে পান আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান ফিজিওথেরাপিস্ট মার্সেলো ডি’আন্দ্রেয়া। ম্যাচ টাইব্রেকারে গেলে কিংবা আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেলেই কেবল ওই বোতল কাজে লাগত ইংলিশ গোলরক্ষকের। যেখানে পেনাল্টি শ্যুটআউটে ফুটবলারদের নিয়ে একটি ‘চিটশিট’ বা নির্দেশিকা লাগানো ছিল। সাধারণত এমন তালিকায় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা কোন দিকে শট নিতে পছন্দ করেন, সেই তথ্য উল্লেখ থাকে যাতে গোলরক্ষক পেনাল্টি ঠেকানোর প্রস্তুতি নিতে পারেন।
টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, ডি’আন্দ্রেয়া বোতলটি নিয়ে লিওনেল মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেস ও মার্কোস সেনেসির কাছে যান। কাগজে লেখা সাংকেতিক তথ্য পড়ে মেসিকে কিছুটা বিভ্রান্ত মনে হচ্ছিল। এরপর সবাই মিলে সেই লেখা বোঝার চেষ্টা করেন এবং তা নিয়ে কিছুক্ষণ আলোচনা চলে। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে যোগ দেন এনজো ফার্নান্দেজ। তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পেয়ে তিনি বিস্ময় মিশ্রিত হাসি দেন।
ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত আর পেনাল্টি শ্যুটআউট বা টাইব্রেকারে না গড়ানোয় আর কাজে আসেনি পিকফোর্ডের সেই বোতল। কয়েক ঘণ্টা পরে আর্জেন্টিনার ফিটনেস কোচ লুইস মার্টিন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিকফোর্ডের বোতলে লাগানো সেই নির্দেশিকার বিস্তারিত ছবি প্রকাশ করেন। এতে নিশ্চিত হয়, গোলরক্ষক সম্ভাব্য পেনাল্টি শ্যুটআউটের জন্য আর্জেন্টিনার কিকারদের নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য সঙ্গে রেখেছিলেন।

ম্যাচজুড়েই পিকফোর্ডকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডাও হয়। অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেওয়ার পর পিকফোর্ড উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরানোর পর আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো তার কাছে দৌড়ে গিয়ে গোল উদযাপন করেন, যা ছিল পিকফোর্ডের আগের সেই উচ্ছ্বাসের জবাব। ম্যাচজুড়ে বেশ কয়েকটি ভালো সেভ করলেও, শেষ পর্যন্ত হার সঙ্গী হলো ইংলিশদের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়া এই তারকার।
এএইচএস

