বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে উদযাপনে মেতেছিল আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। তবে সেই উদযাপনে রাজনৈতিক বার্তা সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করেন চ্যাম্পিয়ন দলের কয়েকজন সদস্য। ফিফার নিয়ম ভেঙে মাঠে এমন বার্তা প্রদানের জন্য শাস্তির পেতে পারে লিওনেল মেসির দল।
মাঠেই ব্যানার প্রদর্শনের পর বিষয়টি এখন বড় সতর্কে রূপ নিয়েছে। আর্জেন্টাইন ফুটবলার এমন কর্মকাণ্ড ভালোভাবে দেখছে না ইংল্যান্ড সরকার। ইতোমধ্যে ফিফা কাছে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নালিশও দিয়েছে তারা।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর উল্লাস করছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। তখনই গ্যালারি থেকে একটি ব্যানার ছুঁড়ে দেন এক সমর্থক। এরপর সেটি নিয়েই চলে তাদের বিজয় উল্লাস। ব্যানারটিতে লেখা ছিল- ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস, যার অর্থ মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।
আর্জেন্টিনা এই দ্বীপপুঞ্জটিকে আইলাস মালভিনাস নামে ডাকলেও যুক্তরাজ্য ও বিশ্ববাসীর কাছে এটি ফকল্যান্ডস নামে পরিচিত। ১৯৮২ সালে তৎকালীন আর্জেন্টাইন সামরিক জান্তার নির্দেশে দ্বীপটিতে আগ্রাসন চালানো হলে ব্রিটেনের সঙ্গে ১০ সপ্তাহের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল, যেখানে জয় পায় ব্রিটেন।
আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের এমন আচরণে প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে যুক্তরাজ্যের বিজনেস সেক্রেটারি পিটার কাইল বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাজনীতিকে অবশ্যই ফুটবল থেকে দূরে রাখতে হবে। বিশ্বকাপের অন্যতম মূল নীতিই হলো খেলাধুলা ও রাজনীতিকে আলাদা রাখা। খেলোয়াড়দের এই আচরণ সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। আমি আশা করি ফিফা এই বিষয়ে অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করবে।’
ফিফার নিজস্ব ডিসিপ্লিনারি কোড অনুযায়ী, স্টেডিয়াম বা মাঠের ভেতর কোনো প্রকার রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা উসকানিমূলক বার্তা প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ভঙ্গের দায়ে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের পাশাপাশি তাদের ফুটবল ফেডারেশনকেও অভিযুক্ত করতে পারে ফিফা।
এমএমএম/

