প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমে মাঠ মাতাচ্ছেন স্পেনের ফুটবল সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। আগামী রোববার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে লড়বে তার দল। তার এই স্মরণীয় যাত্রায় গ্যালারিতে থেকে উৎসাহ-সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন মা, ছোট ভাই এবং বেশ কয়েকজন বন্ধু। তবে গ্যালারির চেনা ভিড়ে একজনের অনুপস্থিতি সবার নজর কেড়েছে। তিনি আর কেউ নন—ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই।
২০২৪ ইউরো কাপে স্পেনের মহাকাব্যিক শিরোপাজয়ী অভিযানে ছায়ার মতো ছেলের পাশে ছিলেন মুনির। তবে এবারের বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি তিনি। মূলত শারীরিক জটিলতার কারণেই দূর পরবাসে ছেলের খেলা গ্যালারিতে বসে দেখার সুযোগ মিস করেছেন তিনি।
স্প্যানিশ গণমাধ্যম ‘এল এস্পানিওল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুনির নাসরাউই মূলত মৃগীরোগে (এপিলিপ্সি) ভুগছেন। শারীরিক এই জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় বিমানে ভ্রমণ করা তার জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল। আর এই শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণেই উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দেখতে যেতে পারেননি তিনি।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নাসরাউই আশঙ্কা করে বলেছিলেন, আমি শেষ পর্যন্ত (যুক্তরাষ্ট্রে) যেতে পারব কি না তা নিশ্চিত নই। এক সাক্ষাৎকারে শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি মৃগী রোগে (এপিলিপ্সি) ভুগছি। প্রতিদিন আমাকে বেশ কিছু ওষুধ খেতে হয়। ফাইনাল ম্যাচের এত উত্তেজনা আর স্নায়ুচাপের কারণে যে কোনো মুহূর্তে আমার এই রোগের তীব্র আক্রমণ (এপিলিপ্টিক সিজার) হতে পারে। তা ছাড়া এত দীর্ঘ সময়ের বিমান ভ্রমণ করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’
নিজের চেয়েও ছেলে ও চারপাশের মানুষের স্বস্তির কথা ভেবেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুনির। তিনি আরও বলেন, ‘ভ্রমণ করার আগে আমাকে নিজের কথা, আমার ছেলের কথা এবং আমার চারপাশের মানুষের কথা ভাবতে হবে। আমি চাই না আমার কারণে কেউ কোনো সমস্যায় পড়ুক। তাই আমার জন্য ঘরে থাকা এবং সেখান থেকেই ছেলের খেলা দেখাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।’
বাবা পাশে থাকতে না পারলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশে পাচ্ছেন বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে ছায়া দিয়ে যাচ্ছেন তার মা শিলা। আর স্পেনের প্রতিটি গোলের পর গ্যালারিতে ছোট ভাই কেইনের বাঁধভাঙা উল্লাসের ভিডিওতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এফআই

