World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

দশের স্পেন বনাম ছাব্বিশের স্পেন : দুই একাদশের কে কোথায় এগিয়ে!

দশের স্পেন বনাম ছাব্বিশের স্পেন : দুই একাদশের কে কোথায় এগিয়ে!

২০১০ সাল, স্পেন দলে ছিল তারকার ছড়াছড়ি। ইকার ক্যাসিয়াস, কার্লোস পুয়োল ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মতো বড় বড় নাম দলে। হতাশ করেনি তারা। ইউরোপ জয়ের দুই বছর পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ইনিয়েস্তার গোলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো লা রোহারা। 

১৬ বছর পর। স্পেন দল আবারো ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচে। দলে লামিনে ইয়ামাল ও রদ্রি ছাড়া আর বড় কোনো তারকা বলতে গেলে নেই। লুইস দে লা ফুয়েন্তের বর্তমান বাহিনী কিন্তু দেশের সোনালী প্রজন্মের খ্যাতি ঠিকই পেয়ে গেছে। আগামী রোববার তারা দ্বিতীয় ট্রফির খোঁজে নামবে।
 
২০১০ এর দল আর ছাব্বিশের দলের মধ্যে বড় ধরনের মিল কিন্তু আছে। ওইবারের মতো এবারো তার ইউরোপ জয় করে এসেছে। ২০০৮ সালের ইউরো জয়ী দলের শুরুর একাদশে না থাকা মাত্র তিন জনকে নিয়ে বিশ্ব জয়ের অভিযানে নেমেছিল লা রোহারা। আর মঙ্গলবার ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের শুরুর একাদশে সবশেষ ইউরো জয়ী দলের মাত্র দুজন ছিলেন না।

মজার ব্যাপার স্পেনের এবারের ২৬ জনের দলের গড় বয়স ২০১০ এর নির্বাচিত দলের চেয়ে বেশি। ভিসেন্তে দেল বস্কের দলের গড় বয়স ছিল ২৬.৭, দে লা ফুয়েন্তের ২৭.৮। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিজ্ঞতায় দুই দলের পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। ওইবার গড় ক্যাপ ছিল ৫৬, এবার মাত্র ৩৩!

বর্তমান দল টানা ৩৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত। আর একটি ম্যাচ অজেয় থাকলে ইতালির সঙ্গ ছেড়ে একক রেকর্ড গড়বে তারা। এছাড়া প্রথম দল হিসেবে এক আসরে ছয়টি ক্লিন শিট ধরে রাখার রেকর্ডও গড়েছে।

চলুন, দেখে নেওয়া যাক ১৬ বছর আগের সেই দলের সঙ্গে এই দলের পার্থক্য কেমন?

গোলকিপার

ইকার ক্যাসিয়াস (২০১০) বনাম উনাই সিমন (২০২৬)

বয়স: ২৯.১ বনাম ২৯.১

ক্যাপ: ১১০ বনাম ৬৫

ক্যাসিয়াস যখন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিলেন, তখন সিমনের চেয়ে মাত্র ১৪ দিনের বড় ছিলেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের লিজেন্ডারি এই গোলকিপার সার্জিও রামোসের পর স্পেনের দ্বিতীয় সর্বাধিক ম্যাচ খেলেছিলেন। অন্যদিকে সিমন দে লা ফুয়েন্তের প্রিয়ভাজন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো গোল না খাওয়ার বিশ্বকাপ রেকর্ড গড়েছেন এই গোলকিপার, যার শুরু হয়েছিল ২০২২ বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ থেকে।

Sergio Ramos, Carles Puyol and Gerard Pique celebrate

ফুলব্যাক

সার্জিও রামোস ও জোয়ান কাপদেভিলা বনাম পেদ্রো পোরো বনাম মার্ক কুকুরেয়া

বয়স: ২৪.৩ ও ৩২.৪ বনাম ২৬.৮ ও ২৮.০

ক্যাপস: ৬৬ ও ৫১ বনাম ২৩ ও ৩১

পোরো ও কুকুরেয়া যথাক্রমে টটেনহাম ও চেলসিতে কঠিন একটি মৌসুম পার করার অনেকেই তাদের নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু উত্তর আমেরিকায় তারা তাদের জাত চেনালেন।

১৬ বছর আগের ফাইনালে রামোস কিংবা কাপদেভিলার চেয়েও কম ম্যাচ খেলেছেন কুকুরেয়া ও পোরো। রাইটব্যাক রামোস তার ঝলমলে ক্যারিয়ারে ২৮টি বড় ট্রফি জিতেছেন। লেফটব্যাক কাপদেভিলা পিছিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ইউরো ও বিশ্বকাপ জেতেন।

সেন্ট্রাল ডিফেন্স

কার্লোস পুয়োল ও জেরার্ড পিকে বনাম পাউ কুবারসি ও আইমেরিক লাপোর্তে

বয়স: ৩২.২ ও ২৩.৪ বনাম ১৯.৫ বনাম ৩২.১

ক্যাপস: ৮৯ ও ২২ বনাম ১৯ ও ৫৩

বার্সেলোনার লিজেন্ডারি সেন্টারব্যাক জুটি পুয়োল ও পিকের তরুণ-বয়স্কর পার্থক্য বেশ ভালোভাবে এবার ফুটিয়ে তুলেছেন লাপোর্তে ও কুবারসি।

২০১০ সালের সেই জুটি মাত্র দুটি গোল হজম করেছিলেন। কিন্তু সাবেক ম্যানসিটি সেন্টার ব্যাক লাপোর্তে ও বার্সেলোনার কিশোর কুবারসির জুটি মাত্র একটি গোল খেয়েছে। তারা দুজনে মিলে কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল অলিসে ও উসমান দেম্বেলেকে নিয়ে গড়া মারাত্মক আক্রমণভাগকে রুখে দিয়েছেন।

মিডফিল্ড

সার্জিও বুসকেটস ও জাবি আলোনসো বনাম রদ্রি ও ফ্যাবিয়ান রুইজ

বয়স: ২২.০ ও ২৮.৬ বনাম ৩০.১ ও ৩০.৩

ক্যাপস: ১৯ ও ৭৫ বনাম ৬৯ বনাম ৪৯

২০১০ বিশ্বকাপে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে আলোনসোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিস্ময় তৈরি করেন বার্সেলোনার বুসকেটস। স্পেনের ব্যাকলাইনে প্রতিরোধ গড়ার পাশাপাশি আক্রমণেও ভূমিকা রাখেন তারা।

এই বিশ্বকাপে তাদের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছেন ২০২৪ ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি ও দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী রুইজ। ম্যানসিটির রদ্রি দারুণ ফর্মে। অন্য যে কারো চেয়ে তার পাস বেশি এবং যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বাধিক ট্যাকল।

Xavi Hernandez and Andres Iniesta

জাভি হার্নান্দেজ ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা বনাম দানি ওলমো ও অ্যালেক্স বায়েনা

বয়স: ৩০.৫ ও ২৬.২ বনাম ২৮.২ ও ২৫.২

ক্যাপস: ৯৩ ও ৪৮ বনাম ৫৭ ও ২৩

গোল: ৮ ও ৭ বনাম ১২ ও ৩

এই টুর্নামেন্টে ওলমো ও বায়েনার খেলার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা কঠিন। তবে জাভি ও ইনিয়েস্তা ছিলেন মাঝমাঠের প্রাণভোমরা। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ড জুটি ছিলেন তারা।

২০১০ সেমিফাইনালে জাভির কর্নার থেকে পুয়োল জার্মানির বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন। আর ট্রফি জয়ের ম্যাচে ইনিয়েস্তা করেন বিখ্যাত গোল।

অ্যাটাক

ডেভিড ভিয়া ও পেদ্রো বনাম লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল ওয়ারসাবাল

বয়স: ২৮.৬ ও ২৩.০ বনাম ১৯.২ ও ২৯.২

ক্যাপস: ৬৪ ও ৭ বনাম ৩২ ও ৬০

গোল: ৪২ ও ১ বনাম ৭ ও ৩০

সুপারস্টারের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন ইয়ামাল। কিন্তু এখনো সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। তবে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে এলোমেলো করে দিয়েছেন কয়েকবার। তার সঙ্গী ওয়ারসাবাল দারুণ ফর্মে। এই আসরে পাঁচ গোল করে স্পেনের যৌথ শীর্ষ গোলদাতা ডেভিড ভিয়া ও এমিলিও বুত্রাগেনিওর পাশে বসেছেন তিনি।

২০১০ সালে পাঁচ গোল করে উরুগুয়ের ডিয়েগো ফোরলান, নেদারল্যান্ডসের ওয়েসলি স্নেইডার ও জার্মানির থমাস মুলারের সঙ্গে যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ভিয়া। ওইসময় মাত্র আট ম্যাচ খেলা বার্সার পেদ্রোর কাছ থেকে বেশ ভালো সমর্থন পেয়েছেন তিনি। লিভারপুলের ফার্নান্দো তোরেস বেঞ্চে থাকাকালে পেদ্রো আক্রমণভাগে ঝলক দেখান।

এফএইচএম