থমাস টুখেলের সামনে সুযোগ ছিল বিশ্বকাপের একটি বড় গেরো খুলে ফেলার! কিন্তু দুর্ভাগ্যের শিকে ছিঁড়ল না। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালেই ছিটকে যাওয়ায় বিশ্বকাপের দীর্ঘতম একটি ইতিহাসের বাঁক বদল হলো না। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু করে এবারের বিশ্বকাপেও দেশি কোচের অধীনেই শিরোপা জিততে যাচ্ছে কোনো দল।
চলতি বিশ্বকাপে ৪৮টি দেশের মধ্যে ৩১ দেশের ডাগআউটে ছিলেন বিদেশি কোচ। রেকর্ড সংখ্যক বিদেশি কোচ থাকলেও ফের দেশি কোচের হাতেই উঠছে বিশ্বকাপ ট্রফি। ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনা ও স্পেন তাদের দেশি কোচ লিওনেল স্কালোনি ও লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে খেলতে যাচ্ছেন। অথচ এবার স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টাইন কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো ও ব্রাজিল ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে নিয়ে বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছিল। ব্রাজিল ছিটকে গেছে শেষ ষোলোতে। একই পর্ব থেকে বাদ পড়েছে আমেরিকা।
তবে এই বিশ্বকাপে বিদেশি কোচ হিসেবে ট্রফি জেতার সবচেয়ে কাছে ছিলেন টুখেল। এই জার্মান ট্যাকটিশিয়ানের দল ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু এগিয়ে থেকেও শেষ দিকে দুই গোল হজম করে তার দলকে বিদায় নিতে হলো। তাতে প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে ট্রফির জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল টুখেলের।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো বিদেশি কোচদের শীর্ষ সাফল্য ফাইনালে ওঠা, যা মাত্র দুজন কোচ করে দেখাতে পেরেছেন। ১৯৫৮ সালে ইংলিশ কোচ জর্জ রেনরের অধীনে সুইডেন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছিল। ব্রাজিলের কাছে ৫-২ গোলে হেরে যায় সুইডিশরা। এছাড়া ১৯৭৮ সালে অস্ট্রিয়ান কোচ আর্নেস্ট হ্যাপল নেদারল্যান্ডসকে ফাইনালে তোলেন। ওইবার আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায় ডাচরা।
এছাড়া গাস হিডিঙ্ক দুইবার বেশ কাছে গিয়েছিলেন। এই ডাচ কোচ ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে তৃতীয় করেন এবং ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার চতুর্থ স্থানে রাখেন। এছাড়া ব্রাজিলের দুই কোচ অটো গ্লোরিয়া ও লুইজ ফিলিপে স্কলারির অধীনে পর্তুগাল ১৯৬৬ সালে তৃতীয় ও ২০০৬ সালে চতুর্থ হয়েছিল। এবারও সেই কাতারেই যুক্ত হতে যাচ্ছেন টুখেল।
এফএইচএম

