দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলোয় সব সময়ই ফুটবল নিয়ে উন্মাদনার মাত্রা ভিন্ন লেভেলে থাকে। বিশ্বকাপজুড়ে সেই মাত্রা আরও ছাড়িয়ে যায়। বিশেষ করে তারকা ফুটবলার কিংবা বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো কারও নামে শিশুদের নামকরণের রীতি সেসব দেশে বহুল প্রচলিত। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমে নরওয়েকে ইতিহাসগড়া সাফল্য এনে দেওয়া আর্লিং হালান্ডও তেমনই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
পেরুতে নতুন করে জন্ম নেওয়া শত শত শিশুর নাম রাখা হচ্ছে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের নামে। আর্জেন্টিনায় ‘লিওনেল’ নামটিও জনপ্রিয়তার তালিকায় দ্রুত উপরে উঠে এসেছে। আর মেক্সিকোতে এক কন্যাশিশুর নাম রাখা হয়েছে তিন ফুটবলারের নাম মিলিয়ে। লাতিন আমেরিকার বহু অভিভাবক নতুন প্রজন্মের সন্তানের নাম রাখছেন বিশ্বকাপের তারকাদের অনুসরণ করে।

পেরুর জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন সংস্থা রেনিয়েক–এর মুখপাত্র ইভান তোরেস গত সপ্তাহে প্যানআমেরিকানা টিভিকে জানান, দেশটিতে শত শত নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে উদীয়মান তারকা আর্লিং হালান্ডের নামে। অন্যদিকে, কিংবদন্তি তারকাদের মধ্যে লিওনেল মেসি, ব্রাজিলের নেইমার এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নামে নিবন্ধনের সংখ্যাও প্রায় ৩০ হাজার করে।
তোরেস বলেন, ‘হালান্ড এখন পেরুভিয়ানও।’ এ ছাড়া পেরুতে এক নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে শুধু ‘মুন্ডিয়াল’, যা স্প্যানিশ ভাষায় বিশ্বকাপের প্রচলিত সংক্ষিপ্ত নাম। বলে রাখা ভালো– পেরু এবারের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মোটেও পিছিয়ে নেই লাতিন এই দেশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বিশ্বকাপে লাতিন আমেরিকার যেসব দেশ খেলতে পারেনি বা আগেই বিদায় নিয়েছে, তাদের অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করতে অনাগ্রহী ছিলেন। তাদের দৃষ্টিতে আর্জেন্টিনা তুলনামূলকভাবে ‘অতিরিক্ত ইউরোপকেন্দ্রিক’। ফলে অনেকেই সমর্থন দেন নরওয়েকে। বিশেষ করে ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন এবং হালান্ডকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি বিপুলসংখ্যক নতুন সমর্থক পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজক মেক্সিকোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি জন্মসনদের ছবি ভাইরাল হয়। সেখানে এক কন্যাশিশুর নাম লেখা ছিল কুইনিওনা ইসিসিদ্রা মরিতা হালান্ড গেভারা। যেখানে বিশ্বকাপে আলোচিত তিন ফুটবলারের নাম রয়েছে। এর মধ্যে আছে মেক্সিকোর ফুটবলার হুলিয়ান কিনিওনেস ও গিলবার্তো মোরার পাশাপাশি নরওয়ের তারকা হালান্ডের নামও।
‘ইসিসিদ্রা’ নামটি এসেছে স্প্যানিশ বাক্য থেকে, যার অর্থ– যদি সত্যিই হয়? বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়ার আগে পর্যন্ত এটাই ছিল মেক্সিকান সমর্থকদের আশাবাদী স্লোগান। তবে তিনজনের নাম মিলিয়ে ওই রাখা জন্মসনদটির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি মেক্সিকোর স্বরাষ্ট্রসচিবালয়।
এএইচএস

