২৮ বছর পর এবারের বিশ্বকাপের মূলপর্বে উঠেছিল স্কটল্যান্ড। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ফিফার মেগা ইভেন্টটিতে নয়বার অংশ নিয়ে কখনোই তারা গ্রুপপর্ব পেরোতে পারেনি। অথচ সেই দলটাই কি না টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে যাওয়া আর্জেন্টিনাকে প্রেরণা দেবে? একটি পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলছে! কারণ ফাইনালে লিওনেল মেসিদের প্রতিপক্ষ স্পেন।
বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার পথে স্প্যানিশরা এখন আর্জেন্টিনার সামনে একমাত্র বাধা। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিপক্ষকে বড় কোনো সুযোগই দেয়নি। সাত ম্যাচে মাত্র একবার গোল হজম করেছে। এ ছাড়া দলটি টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত, যা কোনো ইউরোপীয় দেশের যৌথভাবে সর্বোচ্চ অপরাজেয় থাকার রেকর্ড (২০২৫ নেশন্স লিগের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে টাইব্রেকারে হার বাদ দিলে)।
অবশ্য লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকেই বা কেন অন্যদের থেকে প্রেরণা নিতে হবে! টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে তারা এমনিতেই তো ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে। তবে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের পারফরম্যান্স দেখে থাকলে কিছুটা নড়েচড়ে বসতেই হবে। যেখানে মার্ক কুকুরেয়া, পাউ কুবারসি ও রদ্রিগো হার্নান্দেজরা ফ্রান্সের বিধ্বংসী আক্রমণভাগকে অবিশ্বাস্যভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। অথব সেই ম্যাচের আগপর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল অলিসে, উসমান দেম্বেলে ও দেজিরে দুয়ের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগকে সর্বকালের অন্যতম সেরা বলা হচ্ছিল!
২০২৪ সালের ২২ মার্চ স্পেন সর্বশেষ কোনো ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে হেরেছে। লন্ডন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচে তাদের ১-০ গোলে হারিয়েছিল কলম্বিয়া। এরপর থেকে খেলা ৩৭ ম্যাচে তারা ২৮ জয় ও ৯ ম্যাচ ড্র করলেও, হারেনি কোনোটিতে। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-০ গোলে জিতে সেই ধারা তারা ধরে রেখেছে। কলম্বিয়ার কাছে সর্বশেষ হারলেও কেন বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনকে হারানোর সম্ভাব্য আলোচনায় স্কটল্যান্ড আগমন করল? কারণ স্কটিশরা সেই জয় পেয়েছিল কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় (ইউরো ২০২৪ বাছাইপর্ব)।
২০২৩ সালের মার্চে হ্যাম্পডেন পার্কে স্পেনকে ২-০ গোলে হারায় ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৪২তম স্থানে থাকা স্কটল্যান্ড। সেই ম্যাচে একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেছিলেন চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব চার্লটন অ্যাথলেটিকের বর্তমান ফরোয়ার্ড লিন্ডন ডাইকস। এরপর ৯০ মিনিটের খেলায় স্পেনের বিপক্ষে আর কোনো দল সেই কীর্তি গড়তে পারেনি। অবশ্য এটাও বলা যেতে পারে, সেটাই ছিল স্পেনের সবচেয়ে খারাপ সময়। সেই হতাশাজনক রাতের পর তারা যেন নিজেদের নতুন করে গড়ে তোলে। আত্মসমালোচনা বা পরিবর্তনের যে পথই তারা বেছে নিয়ে থাকুক না কেন, তা দারুণভাবে কাজে দিয়েছে।
তরুণ তারকা স্কট ম্যাকটমিনের জোড়া গোলেই স্কটল্যান্ড সেই ঐতিহাসিক ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল, যা তাদের ইউরো ২০২৪-এ ওঠার পথও সহজ করে দেয়। বর্তমানে নাপোলিতে ম্যাকটমিনের জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে, যে ক্লাব একসময় দিয়েগো ম্যারাডোনাকে দেবতার আসনে বসিয়েছিল। সেই শহরের অনেক রাস্তার বিক্রেতার কাছে এখন তার জার্সিই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়, ম্যারাডোনার জার্সি থাকে পাশাপাশি।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। ২০২৩ সালে স্পেনের শুরুর একাদশে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে শুধু পেদ্রো পোরো, রদ্রি, মিকেল মেরিনো ও মিকেল ওয়ারজাবালই এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে গাবি ও নিকো উইলিয়ামস দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছিলেন ঠিকই, তবে সেদিনের স্পেন দলে গোলপোস্টে ছিলেন কেপা আরিজাবালাগা, সেন্টার-ব্যাকে ডেভিড গার্সিয়া, মাঝমাঠে দানি সেবাইয়োস, উইংয়ে ইয়েরেমি পিনো এবং স্ট্রাইকার হিসেবে হোসেলু। আর বর্তমান স্পেন দলের দুই বড় তারকা লামিনে ইয়ামাল ও কুবারসি তখনও সিনিয়র দলে অভিষেকই করেননি।
এএইচএস

