World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্কের ‘মিনি ফিলিস্তিনে’ বিশ্বকাপ উন্মাদনা, ফাইনালে তারা কার পক্ষে

নিউইয়র্কের ‘মিনি ফিলিস্তিনে’ বিশ্বকাপ উন্মাদনা, ফাইনালে তারা কার পক্ষে

বিশ্বকাপ ফুটবলে এখন কেবল খেলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ই নয়, এতে রাজনৈতিক নানা সমীকরণও জড়িয়ে গেছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে নেই– এমন দেশ ফিলিস্তিনের একটি সম্প্রদায়ের পছন্দ নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই সমীকরণ। নিউইয়র্কের বে রিজ এলাকায় দেশটির একটি সম্প্রদায় ‘মিনি ফিলিস্তিন’ নামে পরিচিত, যারা ফাইনালে পুরোদমে সমর্থন দেবে স্পেনকে।

ফিলিস্তিনি নাগরিক জেইন রিমাউই নিজেকে খুব বড় ফুটবলভক্ত বলে মনে করেন না। তবে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে কাকে সমর্থন করবেন– এই প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই তার উত্তর ছিল, “স্পেন।” ৭২ বছর বয়সী রিমাউই আল জাজিরাকে বলেন, ‘আপনার প্রশ্ন শেষও করতে হবে না।’ ফুটবলকে এখন আর রাজনীতি থেকে আলাদা করে দেখা যায় না বলে অভিমত তার।

dhakapost

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আরব আমেরিকান ফেডারেশনের চেয়ারম্যান রিমাউই বলেন, ‘যেসব দেশ আমাদের বিভিন্ন ইস্যুতে, বিশেষ করে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেয়, আমি তাদেরই সমর্থন করি।’ তার মতে, ২০২৪ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং গাজায় ইসরায়েল যুদ্ধের কঠোর সমালোচক হওয়ায় স্পেন আরব সমর্থকদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই প্রথম পছন্দ।

চলতি বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে আওয়াজ তুলেছিলেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। যা তাকে পরিচয় করে দিয়েছে রিমাউই–এর মতো ব্যক্তির সঙ্গে, ‘হোসাম হাসান কে, তা আমি জানতাম না। কিন্তু যখন তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা তুললেন, তখনই আমি তার ভক্ত হয়ে গেলাম।’ একইভাবে ফিলিস্তিনি রেস্তোরাঁ, ইয়েমেনি ক্যাফে, লেবানিজ মুদি দোকান এবং আশপাশের ছোট দোকানগুলোতে ফাইনালে ওঠা দুই দলের পতাকা টাঙানো হয়েছে। তবে আরব দেশগুলোর মানুষের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য দলটি স্পেন।

নিউইয়র্কের অনেক আরব বাসিন্দার মতে, এবারের বিশ্বকাপ তাদের সম্প্রদায়ের ঐক্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। আল-আকসা বেকারির মালিক মাহমুদ কাসেম নিজের দোকানের বাইরে বড় টেলিভিশন বসিয়েছেন। বড় আরব দলগুলোর ম্যাচের সময় তিনি বিনামূল্যে ফালাফেলও (ছোলা-মটরশুটি দিয়ে বানানো খাবার) বিতরণ করতেন। এতে বে রিজের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ একত্রিত হতেন।

কাসেম বলেন, ‘সবকিছু ব্যবসার জন্য নয়। আমি ফুটবল ভালোবাসি। পুরো আরব বিশ্বই এই খেলার প্রেমে পড়ে আছে। আমি ফিলিস্তিনের মতো একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিলাম। বাইরে একটি টিভি বসিয়ে সবাইকে বলতে চেয়েছি– এসে খেলা দেখুন। সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো– ফিলিস্তিনি, লেবানিজ, মরক্কান, জর্ডানিয়ান সবাইকে একসঙ্গে দেখতে পাওয়া। আমি ঐক্য ভালোবাসি, সম্প্রদায়কে একসঙ্গে দেখতে ভালোবাসি।’

প্রসঙ্গত, চলতি বিশ্বকাপে রেকর্ড আটটি আরব দেশ অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে মরক্কোর দৌড় ছিল সর্বোচ্চ, তারা কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেয়। এ ছাড়া মিশর শেষ ষোলোতে উঠলেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের লিড নিয়েও বিদায় নেয় ৩-২ গোলে হেরে। ম্যাচটিতে একাধিক বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত ছিল, যার মধ্যে আক্রমণ গড়ার সময় ফাউলের কারণে মিশরের একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল ছিল অন্যতম।

আর্জেন্টিনার পক্ষেও আছেন অনেকে

কিছু সমর্থক আর্জেন্টিনা দলকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখছেন। এর কারণ, দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিইলেই–র ইসরায়েলপন্থী নীতি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচেও গ্যালারিতে ইসরায়েলের পতাকা দেখা গেছে।

dhakapost

তবে আর্জেন্টিনা দল বা খেলোয়াড়রা ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে কোনো অবস্থান নেননি। ২০১৮ সালে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের চাপের মুখে জেরুজালেমে ইসরায়েলের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ বাতিল করেছিল আর্জেন্টিনা। তাই অনেক আরব-আমেরিকান এখনও আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন করছেন। তাদের মতে, লিওনেল মেসির ফুটবল-জাদু রাজনীতির ঊর্ধ্বে।

বে রিজের ২৪ বছর বয়সী নরসুন্দর করিম বুজেরাআ বলেন, ‘ইসরায়েলের পতাকা আর্জেন্টিনার ফুটবলকে প্রতিনিধিত্ব করে না। মেসি একজন কিংবদন্তি। টানা ২০ বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করা সহজ নয়। আমরা অনেক কিংবদন্তিকে দেখেছি, কিন্তু এত দীর্ঘ সময় ধরে একই মান ধরে রাখতে কাউকে দেখিনি।’

তিনি আরও বলেন, ফাইনালে যে দলকেই সমর্থন করা হোক না কেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আরব সমর্থকদের নিজেদের সব দলের পাশে দাঁড়াতে দেখা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। দিন শেষে আমরা সবাই আরব, একই রক্তের মানুষ। আশা করি, আগামী বিশ্বকাপে আরও বেশি আরব দল খেলবে, যাতে আমরা সবাই তাদের সমর্থন করতে পারি।

এএইচএস