বিশ্বসেরা হওয়ার লড়াইয়ে নামছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। যেখানে লিওনেল মেসিকে ‘ফাদার ফিগার’ হিসেবে দেখছে স্প্যানিশ গণমাধ্যম। এই আলোচনা অবশ্য বয়সের নিরিখে নয়, স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাব বার্সেলোনার আঁতুড়ঘর ‘লা মাসিয়া একাডেমি’ এই প্রসঙ্গের কেন্দ্রবিন্দু। মেসি থেকে শুরু করে লামিনে ইয়ামাল পর্যন্ত– লা মাসিয়ার ৯ ফুটবলার নামছে বিশ্বকাপ জয়ের দ্বৈরথে।
বিশ্বকাপ ফাইনালটা আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার হলেও, এটি বার্সেলোনার বিখ্যাত যুব একাডেমি ‘লা মাসিয়ার’ ফুটবল দর্শনেরও এক অনন্য প্রদর্শনী। একদিকে ৩৯ বছর বয়সী মেসি, অন্যদিকে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল। এই দুই প্রজন্মের তারকার মধ্যে বয়সের ব্যবধানটা ২০ বছরের। গত দুই দশকে মেসি বার্সেলোনার হয়ে সবকিছু জিতেছেন এবং লা মাসিয়ায় বেড়ে ওঠা এক সোনালি প্রজন্মের সঙ্গে খেলেছেন, যারা পরে স্পেনকে ২০১০ বিশ্বকাপ জেতায়।
মেসির সেই দলে ছিলেন কার্লোস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সেস ফ্যাব্রেগাস, ভিক্টর ভালদেস, সার্জিও বুসকেটস ও পেপে রেইনা। এখন ইয়ামালের চারপাশেও গড়ে উঠেছে আরেকটি প্রতিভাবান প্রজন্ম, যাদের কয়েকজনের সঙ্গে তিনি একই স্কুলের বেঞ্চও ভাগ করেছেন। যেমন একসময় মেসি ও সেস ফ্যাব্রেগাস করেছিলেন। ফ্যাব্রেগাস ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখতে পুরো পরিবার নিয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং সবাই পরেছিলেন মেসির আর্জেন্টিনার জার্সি।
স্পেনের বর্তমান দলে থাকা পাউ কুবারসি, দানি ওলমো, মার্ক কুকুরেয়া, এরিক গার্সিয়া, আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো ও গাভি– সবাই বিভিন্ন সময়ে লা মাসিয়ার একই প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও ফুটবল দর্শনের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। ভিক্টর মুনিয়োসও স্বল্প সময়ের জন্য হলেও লা মাসিয়ায় ছিলেন। সময় যতই কম হোক, লা মাসিয়ার ছাপ রয়েছে তাদের মধ্যে।

১৩ বছর বয়সে লা মাসিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন মেসি। ইয়ামাল যোগ দেন মাত্র ৭ বছর বয়সে। ২০১৮ সালে একই একাডেমিতে যোগ দেন ইয়ামালের সমবয়সী কুবারসিও। এ ছাড়া ওলমো মাত্র ৯ বছর বয়সে লা মাসিয়ায় প্রবেশের পর নিজের বিকাশের জন্য ক্রোয়েশিয়ায় চলে যান। মার্ক কুকুরেয়া ২০১২ সালে বার্সেলোনার ইনফান্তিল দলে যোগ দেন এবং পরে মূল দলে অভিষেক হয়। এরিক গার্সিয়া ২০০৮ সালে বেনহামিন (অনূর্ধ্ব) পর্যায়ে যোগ দিয়ে পরে ম্যানচেস্টার সিটিতে পাড়ি জমান।
একই বছর ভ্যালেন্সিয়া থেকে লা মাসিয়ায় আসেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো, যিনি একাডেমির অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার ছিলেন এবং পরে বেনফিকায় ক্যারিয়ার গড়েন। গাভি ২০১৫ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে লা মাসিয়ায় যোগ দেন। আর ভিক্টর মুনিয়োস ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে নিজের ফুটবল শিক্ষার একটি অংশ সম্পন্ন করেন এই একাডেমিতে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে বার্সেলোনার প্রভাব শুধু এই খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পেপ গার্দিওলা ও লুইস এনরিকের দর্শনে বেড়ে ওঠা ফুটবলাররাও বার্সার ডিএনএ বহন করে মাঠে নামবেন। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার ফাইনাল নিশ্চিতের পর মেসির মুখেও শোনা গিয়েছিল লা মাসিয়ার সুর। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে তিনি স্মরণ করেন বার্সাকে, ‘স্পেন অসাধারণ একটি দল। তারা দারুণ ফুটবল খেলে। আমি তাদের খুব ভালো করেই চিনি। তাদের দলে বার্সেলোনার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আছে। আমি এই দলকে অনুসরণ করি এবং ভালোবাসি।’
‘ভালোবাসি’ শব্দটি উচ্চারণ করার সময় মেসির চোখে ছিল নস্টালজিয়ার ছাপ। কারণ বার্সেলোনাতেই কেটেছে তার জীবনের সেরা সময়। লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা ফুটবলারদের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বড় নামটি মেসি। তিনিই আজ খেলবেন স্পেনের বিপক্ষে। ফলাফল যাই হোক, আর্জেন্টিনা জিতুক কিংবা স্পেন; চ্যাম্পিয়নের পদক পরবেন লা মাসিয়ার কোনো এক সন্তান!
এএইচএস/
