বিজ্ঞাপন

কেবল পারেদেসই নন, আর্জেন্টাইন কোচও মারলেন স্প্যানিশ তারকাকে

কেবল পারেদেসই নন, আর্জেন্টাইন কোচও মারলেন স্প্যানিশ তারকাকে

ফাইনাল শেষে ধুন্ধুমার কাণ্ড! যেখানে এক দল বিশ্বজয়ের উৎসব এবং অন্যরা স্বপ্নভঙ্গের হতাশায় কেঁদে বুক ভাসানোর কথা, সেখানে চলছিল বিজয়ী দলের ওপর পরাজিত ফুটবলারদের আক্রমণ। স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভিকে মারছিলেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেস। তাকে যখন স্কালোনি-স্যামুয়েল থামাতে ব্যস্ত, আরেকদিকে কোচ রবার্তো আয়ালা মারছিলেন আরেক জনকে।

ম্যাচ শেষ হতেই স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের উল্লাস ও কিছু উসকানিমূলক কথায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুরুটা হয় দৌড়াতে থাকা রদ্রির বুকে নাহুয়েল মোলিনার ঘুষি মারার মধ্য দিয়ে। এরপর মাঝমাঠে স্পেনের সেন্টারব্যাক এরিক গার্সিয়া সতীর্থদের সঙ্গে চিৎকার করে উদযাপন করার মাঝে প্রতিপক্ষ তারকা পারেদেস প্রথমে পায়ের বুট দিয়ে তাকে আঘাত করে ফেলে দেন, দুজন মুখোমুখি হতেই এবার গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন সরাসরি।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ও সহকারী কোচ ওয়াল্টার স্যামুয়েল দ্রুত তাদের থামাতে এগিয়ে আসেন। এরই মধ্যে স্পেনের গাভিও ক্ষুব্ধ হয়ে পারেদেসকে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে যেতেই উল্টো ধরাশায়ী। আর্জেন্টিনার ৫ নম্বর জার্সিধারী এই তারকা বার্সেলোনা মিডফিল্ডারের শার্ট ধরে তাকে মাটিতে আছাড় মারেন। থিয়াগো আলমাদাও এই হাতাহাতির মাঝে পড়ে গিয়েছিলেন।

পরে কোচ ও অন্য সতীর্থরা মিলে তাদের দু’পাশে সরিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় পারেদেসকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। এর আগে ম্যাচ চলাকালে রেফারির সঙ্গে তর্ক ও পরে আরেকবার ফাউল করায় লাল কার্ড দেখেছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। বিশৃঙ্খল সেই জটলা থেকে মুক্তি পেয়ে যখন গার্সিয়া কিছুটা দূরে এসে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি ওলমোর পাশে দাঁঁড়ান, তখন সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার সঙ্গে তর্ক শুরু হয়।

একপর্যায়ে ওলমোর গলায় আঘাত করে বসেন আয়ালা। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস বলছে, খুব রাগান্বিত দেখাচ্ছিল এই কোচকে, এ ছাড়া স্প্যানিশ তারকার বুকেও ধাক্কা মারেন তিনি। তবে ওলমো তাকে আঘাতের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেননি। শিরোপা জয়ের উৎসব সেরে যাওয়ার সময় মিক্সড জোনে দাঁড়িয়ে ওলমো কিছুটা চড়া স্বরে কথা বললেও আয়ালার সঙ্গে বিবাদের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ওলমো সামগ্রিকভাবে আর্জেন্টিনা দলের সমালোচনা করে বলেন, ‘এতে আমাদের কিছু যায় আসে না। শেষ পর্যন্ত বাইরের জগতে আপনি কী ধরনের মূল্যবোধ তুলে ধরছেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রজন্ম ও শিশুদের কাছে আমরা দৃষ্টান্ত। আমার বিশ্বাস সবকিছুর ক্ষেত্রেই তাদেরও এমন ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হওয়া উচিত।’

এএইচএস