বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার ১-০ গোলের হার একটি হৃদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি হয়েছিল। কোমরে দুই হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে, পরে মাঠে বসে কাঁদছেন লিওনেল মেসি। তার জন্য এটি ছিল একটি বিশেষ ম্যাচ। এটি সম্ভবত বিশ্বকাপে তার শেষ ম্যাচ ছিল। তবে এটিই শেষ ছিল না! স্প্যানিশদের বিপক্ষে তিনি আলবিসেলেস্তেদের হয়ে তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেননি।
ম্যাচের পর তিনি কী বলতে পারেন তা নিয়ে যথেষ্ট গুঞ্জন ছিল। কিন্তু দলের অধিনায়ক স্কোয়াডের বাকিদের মতো মিক্সড জোনে থামেননি এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরবতা বজায় রেখেছিলেন। অবশ্য আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি পোস্টে তিনি তার কষ্টের কথা এবং স্পেনের কাছে হারের ফলে ‘যে ক্ষত তৈরি হয়েছে’ তা প্রকাশ করেছেন। তবে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কিছু বলেননি।
যাইহোক, আসল কথা হলো মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে তার অধ্যায়ের ইতি টানেননি। যদিও সবাই এই টুর্নামেন্টকে তার শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে দেখছে। কিন্তু রোসারিওর এই তারকা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে টুর্নামেন্টে খেলতে আসেননি। তিনি কখনোই তার কাছের লোকদের বলেননি যে এই টুর্নামেন্ট খেলে তিনি অবসর নেবেন। তাই এটাই তার শেষ উপস্থিতি ছিল বলে মনে করা কঠিন।
মেসির বিদায়ী ম্যাচটি আর্জেন্টিনার দর্শকদের সামনে হওয়াটাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত হবে। তিনি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এটি সত্য। এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির সময় প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে জাতীয় দল আবার মাঠে ফিরবে। আর সেই সময়ও খুব দ্রুত এগিয়ে আসছে।
এখন যন্ত্রণা সামলে ওঠার, সুস্থ হওয়ার, মনকে ভারমুক্ত করার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্টভাবে চিন্তা করার সময়। পরবর্তী বিশ্বকাপ অনেক দূরে। এটি ২০৩০ সালে অনুষ্ঠিত হবে। প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের পাশাপাশি অন্যতম আয়োজক দেশ হিসেবে আর্জেন্টিনায় শুরু হবে এই আসর। এরপর স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হবে। এই কারণে জাতীয় দল ইতোমধ্যে যোগ্যতা অর্জন করলেও ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে শুরু হওয়া বাছাইপর্বে অংশ নেবে। সবকিছু দেখার বাকি রয়েছে। তবে মেসির বিদায়ী ম্যাচের জন্য এখনো অপেক্ষা করতে হবে।
এফএইচএম
