বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপে এক মিনিটও খেলতে না পারা দুর্ভাগা কারা

বিশ্বকাপে এক মিনিটও খেলতে না পারা দুর্ভাগা কারা

প্রায় দেড় মাসের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে শেষ হয়েছে বিশ্বকাপ। অধিকাংশ ফুটবলার এখন বিশ্রামে রয়েছেন। তবে কিছু খেলোয়াড়ের কাছে এই বিশ্বকাপটি স্রেফ নিষ্ক্রিয় বসে থাকার স্মৃতি হিসেবেই থেকে যাবে।

১,২৪৮ জন খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেও তাদের মধ্যে প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময়ে অন্তত কিছুটা সময় মাঠে খেলার সুযোগ পেয়েছেন।

কিন্তু হাতে গোনা কয়েকজন খেলোয়াড় ছিলেন, যারা একেবারেই দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ভ্রমণ করেও মাঠে খেলার এক মিনিট সুযোগও পাননি।

এই বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়া ১০ জন উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড় কারা দেখে নেওয়া যাক-

এনগোলো কাঁতে (ফ্রান্স)

সাবেক চেলসি ও লেস্টার সিটি মিডফিল্ডার কাঁতের বয়স এখন ৩৫ হলেও মাঠে তিনি যে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারেন, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দিদিয়ে দেশম তাকে এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামাননি। এটাকে প্রায় এক ধরনের অন্যায় বললেই চলে। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কাঁতেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও মাঠে নামানো হয়নি।

কোবি মাইনু

 

কোবি মাইনু (ইংল্যান্ড)

ইংল্যান্ডের শক্তিশালী মিডফিল্ড থাকা সত্ত্বেও পুরো টুর্নামেন্ট বেঞ্চে বসে কাটানোয় কোবি মাইনু নিশ্চিতভাবেই মনক্ষুণ্ণ হবেন। ২০২৪ ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ডের হয়ে একাদশে শুরু করা মাইনু দুই বছর পর বিশ্বকাপের একমাত্র ইংলিশ আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে কোনো মিনিট পাননি। অসুস্থতার কারণে তিনি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ থেকেও ছিটকে যান।

ভিক্টর মুনিয়োজ (স্পেন)

লিভারপুলের নতুন সই করা ভিক্টর মুনিয়োজ বিশ্বকাপ জয়ী স্পেন দলের অংশ ছিলেন। তবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়। ওসাসুনার সাবেক এই ফরোয়ার্ড ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম কয়েকটি ম্যাচ মিস করার পর পুরো বিশ্বকাপে আর মাঠেই নামতে পারেননি।

ডেভিড রায়া (স্পেন)

স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের আরেক সদস্য ডেভিড রায়া, যিনি এক সেকেন্ডও খেলার সুযোগ পাননি। প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন গ্লাভজয়ী এই গোলরক্ষককে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়। কারণ শক্তিশালী গোলকিপিং বিকল্প ছিল স্পেনের। পুরো টুর্নামেন্টে উনাই সিমন মাত্র ১টি গোল হজম করেন।

জেমস ট্রাফোর্ড (ইংল্যান্ড)

১ নম্বর গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের জায়গায় ডিন হেন্ডারসনকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ম্যানচেস্টার সিটির জেমস ট্রাফোর্ডের সেই ভাগ্য হয়নি। ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়কে সিটিতে যেভাবে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়। জাতীয় দলেও টমাস টুখেল তাকে কোনো খেলার সময় দেননি।

ব্রেমার

 

ব্রেমার (ব্রাজিল)

জুভেন্টাসের এই সেন্টার ব্যাকের আগে থেকেই বড় কোনো সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। কারণ গ্যাব্রিয়েল এবং মারকুইনহোস ছিলেন ব্রাজিলের প্রধান রক্ষণভাগ জুটি। তা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে এক মিনিটও না খেলতে পারা খেলোয়াড়দের এই তালিকায় তার নাম উঠে এসেছে।

রোনাল্ড আরাউহো (উরুগুয়ে)

এই তালিকায় তার নাম থাকা কিছুটা নির্মম মনে হতে পারে। কারণ টুর্নামেন্টের ঠিক আগে ইনজুরির কারণে তিনি সৌদি আরব ও কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি। তবে উরুগুয়ের জন্য তার না খেলতে পারাটাই হয়তো দলটির বিপর্যয়কর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের অন্যতম কারণ ছিল।

আলেজান্দ্রো গ্রিমালদো (স্পেন)

আলেজান্দ্রো গ্রিমালদোর জন্য সবশেষ মৌসুম চমৎকার ছিল। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয় এবং বায়ার লেভারকুজেন থেকে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে গেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন স্রেফ একজন দর্শক। কারণ লেফট ব্যাকে মার্ক কুকুরেয়ার দারুণ পারফরম্যান্স তাকে বেঞ্চেই আটকে রাখে।

আলেজান্দ্রো গ্রিমালদো

গনসালো ইনাসিও (পর্তুগাল)

পর্তুগালের রক্ষণভাগ বেশ শক্তিশালী এবং রুবেন দিয়াস ও রেনাতো ভেইগা চমৎকার জুটি গড়ে তুলেছিলেন। তা সত্ত্বেও গনসালো ইনাসিও আশা করেছিলেন অন্তত কোনো এক মুহূর্তে মাঠে নামার সুযোগ পাবেন। কিন্তু তা না হওয়ায় তিনিও হতাশ হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন।

ম্যাটস উইফার (নেদারল্যান্ডস)

জুরিয়েন টিম্বার ইনজুরিতে থাকায় ম্যাটস উইফার নিশ্চয়ই ভেবেছিলেন এই বিশ্বকাপে তার খেলার কিছু সুযোগ আসবে। তবে ডেনজেল ডামফ্রিস ডাচদের হয়ে রাইট ব্যাকে প্রতিটি মিনিট খেলায় উইফার শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও মাঠে নামতে পারেননি।

এফএইচএম