বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে কড়া সমালোচনা স্পেন কোচের

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে কড়া সমালোচনা স্পেন কোচের

একপেশে দাপট দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ম্যাচজুড়ে তো উত্তেজনা ছিল–ই, রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর উভয় দলের ফুটবলাররা হাতাহাতিতে জড়ায়। যার শুরুটা আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যা নিয়ে তদন্তও করছে ফিফা। সেই ঘটনায় অবশেষে মুখ খুললেন বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। 

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়াকে ‘অসহনীয়’ ও ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একইসঙ্গে লা ফুয়েন্তে শিষ্যদের ‘সত্যিকারের ক্রীড়াসুলভ আচরণের’ প্রশংসা করেছেন। স্প্যানিশ টেলিভিশন চ্যানেল টিভিই–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের আচরণের সমালোচনা করেন লা ফুয়েন্তে।

dhakapost

স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘আমি উদ্‌যাপনে ব্যস্ত ছিলাম, তাই সেই মুহূর্তে আমি বিষয়টি খেয়াল করিনি। তবে যাই হোক, এটি অসহনীয়, অগ্রহণযোগ্য। এমনটা কখনোই হতে পারে না। যেখানে এত বড় মাপের খেলোয়াড় এবং একজন অসাধারণ কোচ আছেন, তারাও নিশ্চয়ই আমাদের মতোই কষ্ট পেয়েছেন। তারপরও এমন প্রতিক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এত উসকানি ও আগ্রাসনের মুখেও আমাদের খেলোয়াড়দের আচরণই আমি তুলে ধরতে চাই। তারা সব সময় প্রকৃত ক্রীড়াবিদের মতো আচরণ করেছে।’

বিশ্বকাপ জয়ের ঘোর এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি জানিয়ে লা ফুয়েন্তে বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সাফল্যের গুরুত্ব আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করবেন। লা রোজা (মাদ্রিদ) থেকে শুরু হওয়া ৫২ দিনের ক্যাম্পে দলকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও দাবি তার। বিশ্বকাপের নানা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমাদের ২৪ হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করতে হয়েছে। আর্দ্র আবহাওয়া ছিল, বিশ্রামও খুব কম হয়। প্রতিপক্ষের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জিং, যা অতিক্রম করে আমাদের ফাইনালে পৌঁছাতে হয়েছে।’

ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা রদ্রিগো হার্নান্দেজ বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার হওয়াকে যৌক্তিক দাবি করে তার প্রশংসা করলেন লা ফুয়েন্তে, ‘হাঁটুর গুরুতর চোট থেকে ফেরার পরও সে নিজের অবস্থানে বিশ্বের সেরা ফুটবলার। সব ধরনের সম্মান রেখেই বলছি, রদ্রিকে নিয়ে সন্দেহ করা ফুটবল বুদ্ধিমত্তার প্রতি অপমান। সে তার অবস্থানে বিশ্বের সেরা। আমাদের মার্টিন জুবিমেন্দিও আছে, যে সম্ভবত দ্বিতীয় সেরা। ম্যাচের পর ম্যাচ সে উন্নতি করেছে। আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি যদি ৫০ শতাংশ ফিটও থাকো, তবু অনেক খেলোয়াড়ের চেয়ে ভালো।’

১৯ বছর বয়সী তারকা লামিনে ইয়ামালের পারফরম্যান্সেও দারুণ সন্তুষ্ট স্পেন কোচ, ‘আমি মনে করি, এটি তার বিকাশে গুণগত পরিবর্তন আনবে। সে ইতোমধ্যেই অসাধারণ মানের ফুটবলার, কিন্তু তার বয়স মাত্র ১৯ বছর, এখনও পরিণত হওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। এই বিশ্বকাপ তাকে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার, একে অপরকে সহায়তা করার মতো বিষয় আরও ভালোভাবে শিখিয়েছে। তার মধ্যে থাকা সব গুণ সে দলের জন্য কাজে লাগিয়েছে, তাও খুব স্বাভাবিকভাবে। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো ফুটবলার হবে, এতে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে আয়োজিত বিশ্বকাপেও স্পেনের কোচ থাকার ইচ্ছার কথা জানালেন লা ফুয়েন্তে, ‘একজন কোচের জন্য সেটি হবে সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। তবে আমি এখন খুব স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য নিয়েই ভাবছি। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের ম্যাচগুলোই এখন আমার মাথায়। পরের বিশ্বকাপ এখনও অনেক দূরের বিষয়। যদি নির্ধারিত সময় ও পেশাদার লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে পারি, তাহলে কেন নয়?’

বিশ্বকাপ জয়ের পর খেলোয়াড়দের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে একটি মজার ঘটনাও তুলে ধরলেন এই কোচ। ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, শিরোপা জিতলে কোচের মুখের ট্যাটু করাবেন। হাসতে হাসতে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, সে পাগল। কিন্তু যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তাকে তা রাখতেই হয়। আর সে কথার মানুষ।’

এএইচএস