সর্বশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর দুই দশক পেরিয়ে গেলেও তাসমান পাড়ের এই দেশটিতে লাল বলে আর খেলা হয়নি টাইগারদের। তবে এবার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে। আগামী মাসে অজিদের ঘরের মাঠে তাদের বিপক্ষে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।
গুরুত্বপূর্ণ এই টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া প্রতিবেদক সাকিব শাওনের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। যেখানে বাংলাদেশের সম্ভাবনা, ওপেনারদের থেকে দলের চাওয়া-পাওয়া, নাহিদ রানার না থাকাসহ আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত দিয়েছেন এই কোচ।
প্রায় দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ...
আশরাফুল: হ্যাঁ, ২৩ বছর পর। এই সময়ে বড় একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছিল, সেটা এখন পূরণ হতে যাচ্ছে। এই সিরিজ নিয়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াও উচ্ছ্বসিত। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটা নিয়ে তাদের খুব সরব দেখা যাচ্ছে।
২০০৩ সালে গিয়েছিলেন খেলোয়াড় হিসেবে, এবার যাচ্ছেন কোচ হয়ে...
আশরাফুল: রোমাঞ্চিত, আসলে এই বিষয়টা নিয়ে। প্রথমবার ২০০৩ সালে শুধু ব্যাটার হিসেবে গিয়েছিলাম, এরপর ২০০৮ সালে আমি অধিনায়ক হিসেবে গিয়েছিলাম। এবার যাচ্ছি ব্যাটিং কোচ হিসেবে, যে কারণে আসলে নিজেকে ভাগ্যবান বলব। খেলোয়াড়ের দায়িত্বের পর এবার যাচ্ছি ভিন্ন ভূমিকায়। আশা করি ভালো কিছু হবে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চ্যালেঞ্জ কেমন দেখছেন?
আশরাফুল: আমার কাছে এবারের চ্যালেঞ্জটাও ভিন্ন। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে, অস্ট্রেলিয়া কখনোই টেস্ট ম্যাচ হালকাভাবে নেয় না। আমরা ২০০৩ সালে যখন টেস্ট খেলতে গিয়েছিলাম তখনও ওদের শক্তিশালী দল নিয়ে খেলেছিল। সেখানে স্টিভ ওয়াহ, লেহম্যান, ব্রেট লি, গ্লেন ম্যাগরাসহ সব তারকারা ছিল। এবারো যে দল দিয়েছে সেটাও কিন্তু ওদের এই সময়ের সেরা দল। ওদের প্রথম সারির দল থাকায় আমাদের জন্য অবশ্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
২৩ বছরের ব্যবধানে দুই দলের শক্তির পার্থক্য কিছুটা হলেও কমেছে, বর্তমান দলের কাছে আপনার প্রত্যাশা কতটুকু?
আশরাফুল: আমি ব্যক্তিগতভাবে শতভাগ বিশ্বাস করি ওই সময় থেকে এবার আমরা ভালো খেলব। ওই সময় তো আসলে আমরা জেতার লক্ষ্যে ছিলাম না। কিন্তু এবার আমরা যাচ্ছি টেস্ট ম্যাচ জয়ের জন্য। যেহেতু এই সিরিজ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, আর আমরা এই সাইকেলে এখানও পর্যন্ত বেশ ভালো অবস্থানে আছি।
জিম্বাবুয়ে সিরিজে হারের প্রভাব এখানে পড়বে বলে মনে করেন কি না?

আশরাফুল: প্রথমত, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যে টেস্ট হেরেছি সেটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ ছিল না। আর এই হার আসলে আমি পজেটিভ ভাবেই দেখছি। ওই টেস্ট থেকে অনেক শিক্ষার ব্যাপার আছে। বোলারদের করা সেই বাউন্সগুলো কীভাবে সামলাতে হয়, এটা যদি শিখতে পারে ব্যাটাররা তাহলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে সেটা কাজে দেবে। এখন ব্যাটারদের বুঝতে হবে যে, কীভাবে ভুল থেকে শিখতে হয়।
টেস্টে ওপেনাররা ধারবাহিকভাবে রান করতে পারছেন না, এই সমস্যা সমাধানে কী করছেন?
আশরাফুল: ইনিংস ওপেন করা সবসময় কঠিন কাজ, ক্রিকেটে সব থেকে কঠিন কাজের মধ্যে একটা এটা। যদি টস হারেন তাহলে ভেজা উইকেটে আপনাকে ব্যাটিং করতে হবে। আবার টানা ১৪০ ওভার ফিল্ডিং করলেন, এরপর দিনের ২ ওভার বাকি আছে তখনো কিন্তু আপনাকে ব্যাটিংয়ে নামতে হতে পারে। এই চ্যালেঞ্জটা ওপেনারদের সবসময় থাকে। বিপক্ষ দলের সেরা বোলারদের ওপেনারদেরই মোকাবেলা করতে হয়, ওই জায়গাটা ব্যাটারদের জন্য অবশ্যই চ্যালেঞ্জের। শেষ পাঁচ টেস্টে জয়ের (মাহমুদুল হাসান) ব্যাটিং গড় ৩৯, সাদমান অনেক দিন ধরে খেলছে। তার সমস্যা যেটা হচ্ছে, সে ভালো বলে আউট হয়ে যাচ্ছে। এটা থেকে তার উন্নতির জন্য আমরা কাজ করছি।
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে তানজিদ তামিমের কেমন সম্ভাবনা দেখছেন?
আশরাফুল: ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল তামিমের। সেখানে এক ইনিংসে মোটামুটি ভালোই খেলেছিল। এখন অস্ট্রেলিয়াতে তাকে কোন ম্যাচ খেলাবে, নাকি খেলাবে না, সেটা তো আসলে ম্যানেজমেন্টের উপরে নির্ভর করছে। তবে আমাদের যে তিনজন ওপেনার রয়েছে তারা সবাই যোগ্যতাসম্পন্ন। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করার জন্যও তাদের যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে।
এই সিরিজে নাহিদ রানাকে কতটা মিস করবে দল?

আশরাফুল: রানার না থাকাটা আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। এমনকি অস্ট্রেলিয়া দলও কিন্তু নাহিদ রানাকে নিয়ে এক্সাইটেড ছিল। সে থাকলে বোলিং লাইনআপ নিয়ে চিন্তা থাকতো না। নিশ্চিত করে তখন কিছু বলা যেত, তবে বাকি বোলার যারা আছে তাদের এখন দায়িত্ব বেড়ে যাবে। তবে জিততে হলে বোলারদের কিন্তু ২০ উইকেট নিতে হবে। আমি এখনো বিশ্বাস করি আমাদের বাকি যে বোলার আছে তারা যদি সুস্থ থাকে অবশ্যই ভালো কিছু করবে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে কারা?
আশরাফুল: একটা টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে সব বিভাগে ভালো করতে হয়। তবে পার্থক্য গড়ে দেয়ার জন্য অবশ্যই ব্যাটারদের ভালো রান করতে হবে। টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে একই সঙ্গে বোলারদেরও বিশটা উইকেট নিতে হবে। দুই ইনিংসেই ভালো বোলিং করতে হবে।
আপনি আর জাতীয় দলের সঙ্গে থাকছেন না, এমন গুঞ্জন কতটা সত্য?
আশরাফুল: আসলে আমিও দেখছি এমনটা কয়েক জায়গায়। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে বিসিবির কোনো ধরনের কথা হয়নি। এখনো আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত আমার চুক্তির মেয়াদ আছে।
এসএইচ/এইচজেএস
