১৯ জুন ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নামে। এর দুয়েক দিন পর থেকে সাংবাদিকরা নিজ নিজ দেশে ফেরার পথে রয়েছেন। যেখানে নানা বিচিত্র ও তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন এই প্রতিবেদক। ২৪ জুলাই নিউইয়র্ক থেকে ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারলাইন্সে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর যথাসময়ে হংকং পৌঁছাই।
হংকংয়ে নয় ঘণ্টা ট্রানজিট। এরপরও হংকং নেমেই সিকিউরিটি চেক-ইন করে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সারার চেষ্টা। দুই সহকর্মী যমুনা টিভির মুজনেবিন তারেক ও নয়া দিগন্তের রফিকুল হায়দার ফরহাদ। তারা সিকিউরিটি চেক-ইন দিয়ে যাওয়ার সময় শুনলেন ফ্লাইট ক্যান্সেল।
হংকং থেকে ঢাকায় প্রতিদিন রাতে একটি ফ্লাইট। নির্ধারিত সূচি বাতিল হওয়ায় বিপত্তি যে বাড়ছে সেটা অনুমেয় ছিল। তবে এতটা বিপত্তিতে পড়তে হবে তা ছিল কল্পনার বাইরে। ক্যাথে প্যাসিফিকের কাউন্টারে গিয়ে জানা যায়, রাতে টাইফুনের শঙ্কা রয়েছে, তাই ফ্লাইট বাতিল। আজকের যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশের পরবর্তী ফ্লাইট ২৮ জুলাই।
তিন দিন অপেক্ষা করা অনেকটাই অসম্ভব! বিকল্প কিছুর চিন্তায় অন্য দেশ কিংবা অন্য এয়ারলাইন্স হয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা। সেখানে আবার ভিসা ও বিমানের আসন নিয়ে বিপাকে। ক্যাথে প্যাসিফিক থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চীন গেলেও সেখানে আমাদের ভিসা নেই। আবার অন অ্যারাইভালও নেই বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের। পরে বাধ্য হয়ে আজ হংকং সময় রাত সাড়ে ৮টায় কলম্বোর ফ্লাইট, এর পরদিন সকালে কলম্বো থেকে ঢাকার ফ্লাইট পুনঃনির্ধারিত হয়। সেখানেও আবার লাগেজ নিয়ে খানিকটা জটিলতা রয়েছে।
২৬ জুলাই হংকং থেকে ঢাকায় ফ্লাইট নেই। আছে ২৭ জুলাই রাতে। সেটা ঢাকায় পৌঁছাতে রাত ১টারও বেশি হতে পারে। ১২ ঘণ্টা আগে পৌঁছানো যাবে এই সুবিধায় কলম্বো হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের কয়েকজনের। এটা জেনে কোরিয়া থেকে ঢাকাগামী এক যুবকও তাই করলেন। ৩০ জুলাই আবার তার বিয়ে। এর আগের প্রতিটি মিনিটই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ২৭ জুলাই হংকং-ঢাকার পরিবর্তে হংকং-কলম্বো-ঢাকা যাত্রা করেছেন।
হংকং-কলম্বো-ঢাকা রুট নিয়ে একটা সাময়িক রফা-দফার পরও স্বস্তি নেই। নিউইয়র্ক থেকে ১৫ ঘণ্টা ফ্লাইটে এসে একেবারে ক্লান্ত। আমেরিকার ভিসা থাকলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের হংকং প্রবেশ করতে আলাদা ভিসা লাগে। এয়ারলাইন্সের ত্রুটির জন্য এই ভোগান্তি হলেও তারা ভিসা ও হোটেলের কোনো ব্যবস্থা করেনি। শুধু দুই দিনের খাবার কুপন দিয়ে ক্ষান্ত।
এই প্রতিবেদক শারীরিকভাবে খানিকটা অসুস্থ। দীর্ঘ ভোগান্তি মানসিকভাবেও দুর্বলতা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে এয়ারপোর্টে ‘শরণার্থী’র মতো থাকা বেশ কষ্টসাধ্য। অন্য দুই সহকর্মীর অবস্থাও একই। ঢাকা পোস্টের কুটনীতিক প্রতিবেদক নজরুল ইসলাম ও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করি বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে হংকংয়ে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায় কি না। এখানেও বিধি বাম। দিনটি শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি। বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা থাকলেও হংকংয়ের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদনের জন্য দাপ্তরিক অফিস বন্ধ।
বিশ্বকাপ বা যেকোনো টুর্নামেন্টে সাংবাদিকরা নানা খবর তুলে আনেন। এই বিশ্বকাপেই অনেক দলের ফ্লাইট জটিলতায় ছিল। সেই খবর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছেন সাংবাদিকরা। বিশ্বকাপ কাভার করে দেশে ফেরার পথে ৩/২ ধাপ পাড়ি দিয়েও দু’দিনের অপেক্ষা। বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পথে এত নাটকীয়তা অপেক্ষা করছিল কে জানে!
এজেড/
