কেবলই একটি সংখ্যা—এই কথা আবার প্রমাণ করলেন জাপানি ফুটবল আইকন কাজুইয়োশি মিউরা। প্রায় চার বছর পর প্রথম গোল করলেন ৫৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক পেশাদার ফুটবলার, ভালোবেসে তাকে ডাকা হয় ‘কিং কাজু’। শনিবার ফুকুশিমা ইউনাইটেডের হয়ে ৫২তম মিনিটে গোল করেন তিনি। জে-লিগের তৃতীয় বিভাগীয় দলটি এম্পেরর্স কাপে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে আইওয়াকি ফুরুকাওয়াকে।
গোলটি করার তিন মিনিট পর মিউরাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। গোল করার পর তাকে ঘিরে ধরেন সতীর্থরা। ২০২২ সালের নভেম্বরের পর এটি তার প্রথম প্রতিযোগিতামূলক গোল। তৎকালীন সুজুকা পিজির হয়ে জাপান ফুটবল লিগে এফসি ওসাকার বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। যদিও ম্যাচটি হেরে যায় তার দল।
জাপানের সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার ৪২তম মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তৃতীয় বিভাগীয় দলটির হয়ে ধারে খেললেও ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন মিউরা।
গত ডিসেম্বরে ইয়োকোহামা এফসি থেকে ক্লাবটিতে যোগ দেন তিনি। ২০২৬ মৌসুমে কেবল ছয় ম্যাচ খেলেছেন। মিউরা আগে জোর দিয়ে বলেছিলেন, বয়স ৬০ না হওয়া পর্যন্ত বুট তুলে রাখবেন না তিনি। সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন। এবার গোল করে বুঝিয়ে দিলেন, মাঠে শুধু দর্শক-সমর্থকদের দৃষ্টি কাড়ার জন্যই নামেন না। গোলও করতে জানেন!
বয়স যখন ষাটের কাছাকাছি, তখন অনেকেই ধরে নেন তার সময় ফুরিয়ে এসেছে। কিন্তু সর্বোচ্চ গড় আয়ুর শীর্ষ পাঁচে থাকা জাপানের (৮৫.১ বছর) বেলায় কথাটা ভিন্ন। তাদের জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস অনেকের জন্য দৃষ্টান্ত। সেক্ষেত্রে মিউরার গোল করতে পারার ক্ষমতা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অবশ্য ৪০-এর ঘরে এসে যখন অন্য খেলোয়াড়দের জন্য অবসর অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে, তখন ষাটের কাছাকাছি গিয়েও ফুটবল মাঠে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে পারফরম্যান্স করা নিঃসন্দেহে অবাক করার মতো ব্যাপার।
এফএইচএম
