বিজ্ঞাপন

‘আউট অব দ্য সিনে চলে গিয়েছিলাম, এখন নিজেকে প্রমাণের সময়’

‘আউট অব দ্য সিনে চলে গিয়েছিলাম, এখন নিজেকে প্রমাণের সময়’

২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন মুশফিক হাসান। এরপর ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আবারও জাতীয় দলে সুযোগ পান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুইবারই ইনজুরির কারণে ছিটকে যেতে হয় তাকে। এরপর টানা প্রায় দুই বছর ফেরার লড়াই চালিয়ে গেছেন এই ডানহাতি পেসার। অবশেষে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজ দিয়ে আবারো দলে ফিরলেন তিনি।

দীর্ঘ ২৮ মাস পর জাতীয় দলে ফিরে এবার নিজেকে প্রমাণ করতে চান মুশফিক। লম্বা সময় ইনজুরির সঙ্গে লড়াই, জাতীয় দলে ফেরা এবং অস্ট্রেলিয়া সফরে নিজের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া প্রতিবেদক সাকিব শাওন-এর সঙ্গে কথা বলেছেন এই পেসার।

দীর্ঘ ২৮ মাস পর আবারও জাতীয় দলে ডাক পেলেন। অনুভূতি কেমন?

মুশফিক: সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কাছে লাখো-কোটি শুকরিয়া জানাই। এর আগেও আমি জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়েছিলাম। তখন নিজেই ফিজিওকে বলেছিলাম, আর হচ্ছে না। তখন আমি প্রায় ৮০ শতাংশ ফিট ছিলাম। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, এই অবস্থায় এগোনো কঠিন হবে। এরপর রিকভারি করলাম, কিন্তু ইনজুরি যেন আমার পিছু ছাড়ছিল না। রিকভারি করতে করতে ফিট হতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আজকে আবার একটা ভালো সংবাদ পেলাম।

ইনজুরির সেই সময়টা কতটা কঠিন ছিল?

মুশফিক: কঠিন বলতে, ইনজুরি তো একজন ক্রিকেটারের জীবনেরই অংশ। এটা মেনে নিতেই হবে। সে কারণে খুব বেশি ভেঙে পড়িনি। সব সময় চিন্তা করতাম, কীভাবে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মাঠে ফেরা যায়। আমার নিজের ওপর সব সময়ই আত্মবিশ্বাস ছিল, সুস্থ হয়ে ফিরতে পারলে ইনশাআল্লাহ ভালো করতে পারব।

দুইবার জাতীয় দলে ডাক পেলেও এখনও অভিষেক হয়নি, বিষয়টা ভাবলে আপনার কেমন লাগে?

মুশফিক: প্রথমবার ২০২৩ সালে যখন ডাক পেয়েছিলাম, তখন হয়তো আমার অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। এরপর ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কা সিরিজে আবার ডাক পাই। তখন আমার অভিষেক হওয়ার কথা ছিল। সেই সিরিজে নাহিদ রানাও ডাক পেয়েছিল এবং ওর অভিষেক হয়েছিল। কিন্তু আমি ইনজুরিতে পড়ে দল থেকে ছিটকে যাই।

গোড়ালির সেই ইনজুরির কারণে দেশে ফিরে রিহ্যাব করতে হয়েছে। সেখান থেকে ফিরতে অনেক সময় লেগেছিল। এই সময়টায় পরিবার আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে। দীর্ঘদিন পর আবার ডাক পেয়েছি, আমার কাছে অস্ট্রেলিয়া সিরিজটা অনেক বড় সুযোগ। আমি বিসিবির কাছে কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে সুস্থ করার জন্য সব সময় পাশে থেকেছে।

আবারো ফেরার জন্য নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করেছিলেন?

Musfik becomes latest addition in Tigers pace battery | Prothom Alo

মুশফিক: পেস বোলারদের ইনজুরি থাকবেই, এটা চিরন্তন সত্য। ইনজুরিতে পড়ার পর প্রথম কয়েক দিন খারাপ লাগত, পরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যেতাম। কারণ ২০২৩-২৪ সালের সময়টায় আমি বোলিংয়ে ভালো ছন্দে ছিলাম। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। এখন আলহামদুলিল্লাহ, আমি শতভাগ ফিট।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজ আপনার জন্য বড় সুযোগ। কীভাবে কাজে লাগাতে চান?

মুশফিক: হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়া সিরিজটা আমার কাছে সত্যিই বড় সুযোগ। কারণ পেসারদের মধ্যে অনেক প্রতিযোগিতা রয়েছে। এই দৌড়ে টিকে থাকতে হলে ভালো করতেই হবে। যদি একাদশে সুযোগ পাই, তাহলে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। কারণ ভালো করতে না পারলে কেউ আপনাকে মনে রাখবে না।

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই দলের অংশ হচ্ছেন আপনি...

মুশফিক: সত্যি বলতে বিষয়টা আমার জন্য অনেক গর্বের। ২৩ বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, আর সেই দলের একজন সদস্য হতে পেরেছি। এখন দায়িত্ব হলো তাদের বিপক্ষে ভালো করা। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে। বোঝাই যাচ্ছে, তারা সিরিজটিকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়া দলে কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজেলউডদের মতো তারকা পেসার আছে। তাদের কাছ থেকে শেখার ইচ্ছা আছে নিশ্চয়ই?

মুশফিক: অবশ্যই। যাদের নাম বললেন, তারা বিশ্বের সেরা লাল বলের বোলারদের মধ্যে অন্যতম। সুযোগ পেলে তাদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করব। গত এক দশক ধরে তারা বিশ্বের সেরা। তাদের কাছে অনেক কিছু জানার আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে কীভাবে আরও বেশি সুইং করাতে হয়, কীভাবে রিভার্স সুইং করাতে হয়, নিজেদের কন্ডিশনে উইকেটের সর্বোচ্চ সুবিধা কীভাবে নেওয়া যায়, গতি বাড়ানোর বিষয়—এসব নিয়েই জানতে চাই।

এই সিরিজেও পেস বোলিং কোচ হিসেবে থাকছেন তালহা জুবায়েরকে পাওয়া আপনার জন্য বাড়তি সুবিধা?

মুশফিক: অবশ্যই। অনূর্ধ্ব-১৭ দল থেকে তালহা স্যারের সঙ্গে কাজ করছি। ওই দিক থেকে এটা আমার জন্য বড় সুবিধা। ছোটবেলা থেকেই স্যার আমার বোলিং সম্পর্কে সব জানেন। আমার যেসব প্রশ্ন বা সমস্যা থাকবে, সরাসরি তার সঙ্গে আলোচনা করতে পারব। কোথায় উন্নতি দরকার, সেটা তিনি ভালো জানেন। ম্যাচের মধ্যে কী করা দরকার, কী করা উচিত নয়—এসবও তিনি খুব ভালো বোঝেন।

অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজে আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী থাকবে?

মুশফিক: আমি বিসিবির কাছে কৃতজ্ঞ, তারা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। এত বড় একটি সিরিজের দলে আমাকে রেখেছে। বিশেষ করে এই অস্ট্রেলিয়া সিরিজটা আমার জন্য নিজেকে প্রমাণের সময়। কারণ আমি একসময় আউট অব দ্য সিনে চলে গিয়েছিলাম। এখন আবার সুযোগ এসেছে নিজেকে প্রমাণ করার। আমাকে দলে রাখা হয়েছে মানে টিম ম্যানেজমেন্ট আমার ওপর বিশ্বাস করেছে। এখন সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখাই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

নাহিদ রানার শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব?

মুশফিক: দেখেন, নাহিদ রানা এখন দলের অন্যতম তারকা পেসার। তার মতো একজন বোলার দলে না থাকলে অবশ্যই সেটা প্রভাব ফেলবে। সে থাকলে দল আরও উপকৃত হতো। তাই সবাই তাকে মিস করবে। তবে আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব নিজেকে প্রমাণ করার। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।

এসএইচ/এইচজেএস