বিজ্ঞাপন

ফিল্ডারের অদ্ভুত ‘প্রতারণা’, বিভ্রান্ত হয়ে আউট দিলেন আম্পায়ার

ফিল্ডারের অদ্ভুত ‘প্রতারণা’, বিভ্রান্ত হয়ে আউট দিলেন আম্পায়ার

দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচে দেওয়া আউট– সেটাই কি না আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জায়গা করে নিয়েছে। মূলত বল প্রতিপক্ষ ব্যাটারের ব্যাটে স্পর্শ করেছে– আম্পায়ারের মনে এমন ধারণা তৈরি করতেই ‘প্রতারণা’র আশ্রয় নিয়েছেন এক ফিল্ডার। তাতে সফলও হয়েছেন, স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটারকে আম্পায়ার ক্যাচ আউট দিয়েছেন।

এই ঘটনায় তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহাম ক্রিকেট লিগ কর্তৃপক্ষ। তাদের দ্বিতীয় বিভাগে সল্টবার্ন ও মিডলসব্রো’র মধ্যকার অনুষ্ঠিত ম্যাচে অদ্ভুত ওই ঘটনা ঘটে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যাট করছিলেন মিডলসব্রো’র নোমান শাবির। তার ব্যাটের পাশ দিয়ে বল অতিক্রম করার সময় সল্টবার্নের স্লিপে থাকা ফিল্ডার আঙুলের মটকা ভেঙে আওয়াজ করেন। যাতে বিভ্রান্ত হয়েছেন আম্পায়ার।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বলটি উইকেটরক্ষক জশ বোয়েসের হাতে জমা হতেই সল্টবার্নের ফিল্ডাররা আউটের আবেদন করেন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছেন আম্পায়ার। যদিও পরিকল্পিতভাবে আঙুল ফুটিয়ে আম্পায়ারকে বলটি ব্যাটের স্পর্শ করেছে এমন ধারণা দিতে চেয়েছেন স্লিপম্যান। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি সল্টবার্ণ ১৫৯ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছে। যা দ্বিতীয় বিভাগের টেবিলে ১৭ পয়েন্ট ব্যবধানে শীর্ষে রেখেছে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া দলটিকে।

এ ঘটনায় তদন্ত শুরুর কথা জানিয়ে লিগ কর্তৃপক্ষ এক্স অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে, ‘শনিবার দ্বিতীয় বিভাগের খেলায় ঘটে যাওয়া বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেয়েছি। যার প্রেক্ষিতে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো মন্তব্য করব না।’

অথচ, গত সপ্তাহে শিল্ডন রেলওয়ের বিপক্ষে সল্টবার্নের ২২ রানের জয়ে উইকেটরক্ষক বোয়েস আটটি ক্যাচ নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে উইকেটরক্ষকের নেওয়া ক্যাচের রেকর্ড হলো সাতটি। ৩১টি ক্যাচ নিয়ে বোয়েস লিগ তালিকার শীর্ষে রয়েছেন, যা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে ১০টি বেশি।

গত মাসে সল্টবার্নের কাছে মিডলসব্রো সেকেন্ড একাদশের ২৯ রানে হারের সময় দলটির নেতৃত্ব দেওয়া ররি কটেরিল ঘটনাটির ভিডিও-সহ একটি পোস্টের প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেন এবং ওই ম্যাচে সল্টবার্নের বিরুদ্ধে আরও দুটি প্রতারণামূলক ঘটনার অভিযোগ তোলেন তিনি। ঘটনাটির মূল ভিডিওটি এক্সে (সাবেক টুইটার) ৩০ লাখেরও বেশিবার দেখা হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

বিবিসি লিগ কর্তৃপক্ষ এবং সল্টবার্নের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, তবে এ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এএইচএস