২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো ২০ দলের অংশগ্রহণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর বসেছিল। এর আগপর্যন্ত ১৬ দল নিয়ে আয়োজিত হয়ে আসছিল সংক্ষিপ্ত সংস্করণের সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতা। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিসর আরও বাড়াতে চায়। যা বাস্তবায়ন হলে ২০৩২ বিশ্বকাপে দেখা যাবে ২৪ দেশকে।
ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তারা বলছে, এই অগ্রগতিকে ৩২ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের চূড়ান্ত লক্ষ্যের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন আয়োজন ক্রিকেটকে প্রকৃত অর্থেই একটি বৈশ্বিক খেলায় পরিণত করবে।
বিশ্বজুড়ে এই খেলার প্রসারকে কীভাবে আরও ত্বরান্বিত করা যায়, তা নিয়ে আইসিসি আলোচনা করেছে। ২০২৪ ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০টি করে দল অংশ নিয়েছিল। এই বছর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করেছে জিম্বাবুয়ে এবং ইংল্যান্ডকে বেশ ভালোভাবেই চাপে ফেলেছিল নেপাল ও ইতালি। এসব ঘটনা উদীয়মান দেশগুলোর জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টির দাবিকে জোরালো করে তুলেছে।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বসবে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসর। ওই আসরের ফরম্যাটকে ২৪টি দলের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেখানে ৪টি করে দল নিয়ে পাঁচটি গ্রুপ করা হবে, এর মধ্যে সেরা দুই দল করে ১০ দল নিয়ে হবে সুপার টেন এবং তারপর নকআউট পর্ব। আবার যখন বিশ্বকাপ ২৪ দলে উন্নীত হবে, তখন গ্রুপ হবে ছয়টি। এরপর গ্রুপ প্রতি দুটি করে দল নিয়ে সুপার টুয়েলভ এবং পর্যায়ক্রমে হবে আসরের ফাইনাল।

টুর্নামেন্টের এমন কাঠামো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াবে এবং একইসঙ্গে নিশ্চিত করবে যে, সবচেয়ে লাভজনক বাণিজ্যিক বাজারের দলগুলো, বিশেষত ভারত যেন যথেষ্ট সংখ্যক ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। ২০ থেকে ২৪ দলের বিশ্বকাপ আসর হলে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং অনুসারে উগান্ডা, পাপুয়া নিউগিনি, ইতালি এবং হংকং সুবিধা পাবে। একইভাবে সুযোগ বাড়বে উদীয়মান দেশগুলোর। কানাডা, নেপাল ও নাইজেরিয়ার মতো দেশ আছে সেই তালিকায়।
এদিকে, ক্রিকেট নিয়ে রোমাঞ্চ বাড়ছে ইউরোপে, বিশেষত জার্মানি। অভিবাসী ক্রিকেটার এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে, যাদের বড় একটি সংখ্যাই আফগানিস্তানী। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কাঠামোতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে মূলপর্বে ১৪ দেশের পরিবর্তে মাত্র ১২টি দেশ অংশ নেবে। যা নিয়ে আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে এডিনবরায় অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনে নতুন এই কাঠামোটি অনুমোদিত হওয়ার আগপর্যন্ত বিশ্বকাপ সংক্রান্ত এসব পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা সম্পর্কে সহযোগী দেশগুলো কিছুই জানত না।
এএইচএস
