ফুটবল ম্যাচের মাঝে প্রায়শই প্রতিপক্ষ ফুটবলারের স্পর্শ কিংবা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই চিকিৎসার আশ্রয় নিচ্ছেন গোলরক্ষকরা। ওই সময়ে তারা মূলত টেকনিক্যাল এরিয়ার কাছে সতীর্থদের কৌশলগত নির্দেশনা গ্রহণের সুযোগ করে দেন। নিয়মিত ঘটতে দেখে বিষয়টি হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সমর্থক, বিশেষজ্ঞ ও প্রতিপক্ষ কোচদের জন্য।
গোলরক্ষকদের ইনজুরির ভান ধরে মাঠে শুয়ে থাকার এই অভ্যাসে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। সেলক্ষ্যে আসন্ন মৌসুমে ইংলিশ লিগগুলোয় নতুন নিয়ম প্রয়োগ করা হবে। নিয়মের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। দলগুলোকে তথাকথিত ‘টেকটিক্যাল গোলকিপার টাইমআউটের’ অপব্যবহার থেকে বিরত রাখাই এর লক্ষ্য।
ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এফএ বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক এই নিয়ম এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার উদ্দেশে করা হয়েছে, যেখানে গোলরক্ষকদের আঘাতকে কৌশলগতভাবে ‘খেলার গতি ব্যাহত করতে, খেলার গতি কমিয়ে আনতে বা কৌশলগত নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে’ ব্যবহার করা হয়েছে। ফুটবলারদের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে খেলার স্বাভাবিক প্রবাহকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য আইএফএবি এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মৌসুমজুড়ে এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাটি পর্যবেক্ষণ করতে থাকবে ইংলিশ ফুটবল।
— The Athletic | Football (@TheAthleticFC) July 28, 2026
অন্যদিকে, আইএফএবি বলছে, এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগটি খেলার বর্তমান আইনের সেই নিয়মের ওপর ভিত্তি করে করা হচ্ছে, যেখানে বলা আছে যে, কোনো আউটফিল্ড ফুটবলারকে মাঠে পরীক্ষা বা চিকিৎসা করা হলে অথবা তার আঘাতের কারণে খেলা বন্ধ হলে, তাকে এক মিনিটের জন্য মাঠ ছাড়তে হবে। অর্থাৎ, গোলরক্ষকদেরও এখন থেকে ইনজুরি বা আঘাতজনিত চিকিৎসবার প্রয়োজন হলে মাঠ ছাড়তে হবে এক মিনিটের জন্য।
অবশ্য এই নিয়মটি প্রযোজ্য হবে না কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে। যেমন, কোনো গোলরক্ষককে ফাউল করার পর যখন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, মাঠের এমন কোনো ফুটবলারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় যারও চিকিৎসার প্রয়োজন, যদি রক্তপাত হয় অথবা শারীরিক আক্রমণের ফলে কেউ আহত হন, যার জন্য ফ্রি-কিক দেওয়া হয় এবং গোলরক্ষকের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। নতুন এই নিয়ম আগামী ১ আগস্ট লিগ কাপের উদ্বোধনী রাউন্ড থেকে চালু করা হবে।
এএইচএস
