বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজনের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি নতুন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। প্রস্তাবিত এই প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ। তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত মাইনোরিটি শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার মূলধন সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করছে ফিফা।
তবে ফিফার এই মেগা-বাণিজ্যিক পদক্ষেপে ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। ইউরোপীয় ফুটবলের গভর্নিং বডি উয়েফা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, ফিফা খেলায় বাণিজ্যিকীকরণ আনতে গিয়ে ‘ফুটবলের আত্মা’ বিক্রি করে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রম কানাডা ও মেক্সিকোতে সদ্য সমাপ্ত ৪৮ দলের সর্ববৃহৎ বিশ্বকাপের সাফল্যের পরপরই এই বাণিজ্যিক উদ্যোগের কথা সামনে এনেছে ফিফা। ব্যাংকিং জায়ান্ট জেপি মরগানের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী খোঁজার কাজ চলছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পদক্ষেপের সমর্থনে বলেছেন, শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ বিশ্বজুড়ে ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিটি তাদের অবকাঠামো, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারী ফুটবল ও ঘাসমূলের ফুটবলের জন্য এককালীন ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অনুদান পাবে, যা ২০৩৫-২০৩৮ মেয়াদের মধ্যে ২৪ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। ইনফান্তিনো এটিকে বিশ্ব ফুটবলের গণতান্ত্রায়ন বলে দাবি করেছেন।
ফিফার এই বাণিজ্যিক উদ্যোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা। উয়েফার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফিফা এমন একটি সীমা অতিক্রম করছে যা কোনো ক্রীড়া সংস্থার অতিক্রম করা উচিত নয়। ফুটবলের গভর্ন্যান্স বা ঐতিহ্য কোনো কেনাবেচার সম্পদ হতে পারে না। আমরা কেউই ফুটবলের মালিক নই, আর এটি বিক্রি করার অধিকার ফিফাকে কেউ দেয়নি।’
ফিফার এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়। এটি বিশ্বের সেরা প্রতিযোগিতা। আপনি এর যত রূপই দিন না কেন, এর কোনো অংশ বিক্রি করা মানে ফুটবলকে বিক্রি করে দেওয়া।’
এমএমএম/
