দ্বিতীয় দফায় রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজার হিসেবে ফিরেই ‘স্পেশাল ওয়ান’খ্যাত হোসে মরিনিয়ো স্কোয়াডে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসছেন। তার একের পর এক সাইনিংয়ে তৈরি হয়েছে মধুর সমস্যা! বার্নার্দো সিলভা, মার্ক কুকুরেয়া, ডেঞ্জেল ডামফ্রিস ও ইব্রাহিমা কোনাতে এসেছেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যু শিবিরে। ইয়ান দিওমান্দের আগমনও কার্যত নিশ্চিত, তবে স্প্যানিশ তারকা রদ্রিগো হার্নান্দেজকে পেতে বড় মুখ ছাটাই করতে হবে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে।
গ্রীষ্মের দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি করতে গিয়েই রিয়ালকে আসল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কারণ ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় শুধু নতুন খেলোয়াড় আনলেই হবে না, খেলোয়াড় বিক্রির অনেক বেশি জটিল সমীকরণও বাস্তবায়ন করতে হবে। কেমন দল চান ইতোমধ্যেই তা নির্ধারণ করেছেন মরিনিয়ো, কিন্তু এটি গড়তে মাঠের প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তার পরিকল্পনার সঙ্গে খাপ খান না, খেলার সুযোগ পাওয়ার উপযোগী এবং বিক্রি করলে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হবে– এমন খেলোয়াড়ের ব্যবস্থাপনা হতে হবে ঠিকঠাক।

এক্ষেত্রে প্রথমেই যে নামটি আলোচনায় আসছে, তা হলো ডিফেন্ডার রাউল অ্যাসেনসিও। এই মুহূর্তে লস ব্লাঙ্কোস থেকে তারই বিদায়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যদিও এই স্প্যানিশ সেন্টারব্যাক ছুটির সময়েও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন শুধুমাত্র মরিনিয়োকে সন্তুষ্ট রাখার লক্ষ্যে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্তুগিজ কোচের হাতে। পরবর্তী আলোচনা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে ঘিরে। ফরাসি এই তারকার চাহিদা এখনও রয়েছে, বিশেষত ইংল্যান্ডে। রিয়ালও বোঝে যে তাকে বড় অঙ্কের টাকায় বিক্রি করতে পারলে মরিনিয়োর কাছে অপরিহার্য রদ্রিকে দলে নেওয়া সহজ হয়ে যাবে।
যদিও কামাভিঙ্গার সঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে রিয়ালের। আবার ক্লাবও তাকে ছাড়ার কথা ক্লাব ভাবছে না, এবং তার বয়সী ও সম্ভাবনাময় একজন খেলোয়াড়কে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে রাজি নয়। তবে গত মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স না করায় কামাভিঙ্গা আর দলের অপরিহার্য খেলোয়াড় নন। তার জায়গা হয়নি ফ্রান্সের বিশ্বকাপ দলেও। রিয়ালের প্রাক-মৌসুমের আক্রমণভাগে একটি অপ্রত্যাশিত মোড় এসেছে। গঞ্জালো গার্সিয়ার ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন থাকলেও, তার সামর্থ্য দেখে মত বদলাতে পারেন মরিনিয়ো।
মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াল কোচের মতে– গার্সিয়ার মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অন্য কোনো স্ট্রাইকার নেই এবং তিনি এমন একজন নম্বর নাইন যে সেন্টার-ব্যাকদের আটকে রাখতে, বাতাসে বলের দখল নিতে এবং ম্যাচে ভিন্ন কৌশলের প্রয়োজনে বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ফলে তাকে ধরে রাখা অপরিহার্য বলে মনে করছেন মরিনিয়ো। যদিও কিলিয়ান এমবাপের স্বাভাবিক বিকল্প হওয়ায় তিনি গত মৌসুমে খুব কম খেলার সুযোগ পেয়েছেন।
গার্সিয়া থেকে গেলে এর প্রভাব পড়বে ব্রাজিলিয়ান বিস্ময়বালক এন্ড্রিকের ওপর। তিনি নিজেকে কয়েক মাস আগের পরিস্থিতির মতোই এক অবস্থায় খুঁজে পেতে যাচ্ছেন! নিজের উন্নতি অব্যাহত রাখতে তার খেলার সুযোগ প্রয়োজন, কিন্তু আক্রমণভাগে প্রতিযোগিতা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রাক-মৌসুমে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে, তার অগ্রগতি যাতে আবারও থেমে না যায়, সেজন্য তাকে ধারে অন্য ক্লাবে পাঠানোর বিষয়টি একটি বাস্তব সম্ভাবনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনোর ক্ষেত্রেও একই বিবেচনা প্রযোজ্য। এই আর্জেন্টাইন তরুণ তার প্রথম অনুশীলন পর্ব থেকেই মরিনহোর ওপর এক অসাধারণ ছাপ ফেলেছেন। তার প্রতিভা সমস্ত প্রত্যাশাকে সত্যি প্রমাণ করেছে, এবং বার্নাব্যুতে নিজের ছাপ ফেলতে সক্ষম এই খেলোয়াড়ের ওপর ক্লাবের অটল আস্থা রয়েছে। ঠিক এই কারণেই, কয়েক সপ্তাহ আগেও যে সম্ভাবনাটি প্রায় বিবেচনাতেই আসেনি, তা এখন গতি পাচ্ছে। তার জন্য এমন একটি ঠিকানা খুঁজে বের করা যেখানে সে নিয়মিত খেলতে পারবে। সবমিলিয়ে মরিনিয়োকে এখন জটিল ধাঁধার সমাধান করতে হবে।
এএইচএস
