২০১৬ সালে দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে ফিফা প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ান সেপ ব্ল্যাটার। নির্বাচিত হয়ে ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে উদ্ধার করার দায়িত্ব কাঁধে নেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ১০ বছর ধরে ফিফা সভাপতি তিনি।
এই এক দশকে তিনি সংস্কার করেছেন, সম্প্রসারণও হয়েছে এবং সবশেষ বিতর্কের কারিগর হয়েছেন। দুর্নীতির কষাঘাতে জর্জরিত ফিফায় স্বচ্ছতা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ফিফার আর্থিক অবস্থা ছিল ভয়াবহ। স্পন্সররা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর রিপোর্ট অনুযায়ী ৩৯২ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।
ইনফান্তিনো যখন এলেন, মনে হয়েছিল ফুটবল যেন এক নিরাপদ অভিভাবককে খুঁজে পেয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ফিফায় ফুটবলকে এবং ফুটবলে ফিফাকে ফিরিয়ে আনতে অক্লান্ত পরিশ্রম করব।’
দশ বছর পর, ফুটবলের শীর্ষ সংস্থাটি যে আর্থিকভাবে বেশ সুদৃঢ় অবস্থায় রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এ বছরের শেষ নাগাদ তিন বছরের চক্রের জন্য রেকর্ড ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের কথা আশা করছে সংস্থাটি।
তবে এই পরিসংখ্যানগুলো গল্পের কেবল একটি অংশ প্রকাশ করে। বিতর্কিত ক্লাব বিশ্বকাপ এবং উচ্চমূল্যের টিকিটসহ এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ এই আয় বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
গত মাসে, ইনফান্তিনো ও ফিফা বিশ্বকাপসহ তাদের প্রতিযোগিতাগুলোর শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাবের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল। চার দিনের তীব্র বিতর্কের পর বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা বাতিল করে।
এর ফলে উয়েফা ঘোষণা করে যে তারা এই সুইস কর্মকর্তার ওপর আস্থা হারিয়েছে, যিনি এর আগেও খেলোয়াড়দের ইউনিয়ন এবং ইউরোপীয় ফুটবলের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছিলেন।
এটি তার সভাপতিত্ব এবং তার রেখে যাওয়া স্মৃতির গল্প।
‘একটি নতুন দিন, একটি নতুন ভোর’
এটি ভুলে যাওয়া সহজ যে সেপ ব্ল্যাটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফা সভাপতি হওয়ার কথা ছিল মিশেল প্লাতিনির।
কিন্তু প্লাতিনি সংস্থাটির কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার পর ইনফান্তিনোকে উয়েফার পছন্দের প্রার্থী হিসেবে সামনে ঠেলে দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে প্লাতিনি ও ব্ল্যাটার উভয়েই দুর্নীতির অভিযোগ থেকে পুরোপুরি নির্দোষ প্রমাণিত হন।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইনফান্তিনো সাত বছর ধরে সভাপতি প্লাতিনির ডান হাত ছিলেন। তবে তার ফিফার প্রধান হওয়া ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত, তাকে গড়পড়তা ফুটবল ভক্তরা খুব একটা চিনত না। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন কেবল চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র উপস্থাপনকারী ব্যক্তি। তিনিই কি না ফিফাকে আবার উঠে দাঁড়ানোর মতো কঠিন কাজটি হাতে পেলেন।

দশ বছর পরের অবস্থা ভিন্ন। তাকে চেনে না এমন কোনো ফুটবল ভক্ত খুঁজে পেতে বেশ কষ্ট করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বিপুল সংখ্যক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাঁড় করায় এবং সংস্থাটির আমূল সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। ইনফান্তিনোর ইশতেহারের দুই পৃষ্ঠায় সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য উন্নয়ন তহবিল দ্বিগুণেরও বেশি করার কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছিল। তা ছিল নতুন প্রতিযোগিতা, অবকাঠামো এবং এমনকি ছোট দেশগুলোর ভ্রমণ খরচ মেটানোর জন্য।
বিশ্বকাপের সম্প্রসারণও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যদিও তা ছিল ৪০টি দলে। তবে এক বছরের মধ্যে এটি ৪৮টি দলের টুর্নামেন্ট হিসেবে অনুমোদন পায়। নির্বাচনটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ভোটের প্রথম রাউন্ডে ইনফান্তিনো এশিয়ান কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফার চেয়ে ৮৮-৮৫ ভোটে এগিয়ে ছিলেন।
জর্ডানের প্রিন্স আলী বিন আল-হুসেইন এবং ফরাসি নির্বাহী জেরোম শ্যাম্পেইনের পক্ষে প্রথমে দেওয়া ৩৪টি ভোট পুনর্বিন্যাস করার পরেই কেবল ইনফান্তিনো স্পষ্টভাবে এগিয়ে যান। চূড়ান্ত ফলাফল ছিল ১১৫-৮৮ ভোট।
ইনফান্তিনোর জয়কে স্বাগত জানিয়ে সেদিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) চেয়ারম্যান গ্রেগ ডাইক বলেছিলেন, ‘এটি একটি নতুন দিন, একটি নতুন ভোর। তিনি কোনো রাজনীতিবিদ নন এবং তার কোনো অহংকার নেই।’
এদিকে ইনফান্তিনো ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ‘ফিফার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করবেন’। তিনি প্রতিনিধিদের বলেছিলেন, ‘এটি আপনাদের টাকা, ফিফা সভাপতির টাকা নয়। ফিফার টাকা ফুটবল উন্নয়নে ব্যবহার করতে হবে।’
ইনফান্তিনো তার কথায় অটল ছিলেন। তবে আরও অর্থ উপার্জনের জন্য ফিফাকে সৃজনশীল হতে হয়েছিল।
কাতারে কেন্দ্রে চলে এলেন ইনফান্তিনো
২০১৮ সালের রাশিয়া এবং ২০২২ সালের কাতারের বিতর্কিত বিশ্বকাপগুলো ইনফান্তিনোর অপেক্ষায় ছিল।
টুর্নামেন্ট দুটির জন্য ভোটাভুটি গোপন আঁতাত ও চুক্তির দাবিতে আচ্ছন্ন ছিল। তবে যা হওয়ার আগেই হয়ে গিয়েছিল।
সভাপতি হিসেবে তার শুরুর বছরগুলোতে ইনফান্তিনো বেশ আড়ালেই ছিলেন, মানে প্রকাশ্যে তেমনটা আসতে দেখা যায়নি। কাতারে বিশ্বকাপ শুরু হতেই মূলত পরিচিত ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে শুরু করেন।
শ্রমিকদের অধিকার ও দেশে আধুনিক দাসত্বের অভিযোগ নিয়ে ক্রমাগত সমালোচনার মুখে ইনফান্তিনো পাল্টা আঘাত করেন। তিনি প্রথমে ইউরোপীয় গণমাধ্যমে কাতারকে নিয়ে ‘ভন্ডামি’ এবং ‘বর্ণবাদ’ বলে তোপ দাগান। তারপর বৈষম্য নিয়ে তার সেই পরিচিত বক্তব্য দেন।

‘আজ আমি নিজেকে কাতারি মনে করছি,’ তিনি বলেছিলেন। ‘আজ আমি নিজেকে আরব মনে করছি। আজ আমি নিজেকে আফ্রিকান মনে করছি। আজ আমি নিজেকে সমকামী মনে করছি। আজ আমি নিজেকে প্রতিবন্ধী মনে করছি। আজ আমি নিজেকে একজন অভিবাসী শ্রমিক মনে করছি।’
তিনি যেসব ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন, তার প্রতিটিতেই টিভির ক্যামেরা তাকে ভিড়ের মধ্যে খুঁজে নিচ্ছিল বলে মনে হতো। এবং এর একটি কারণ ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী (যে বিষয়ে ফিফা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়) টেলিভিশন পরিচালকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে প্রতি ম্যাচে ইনফান্তিনোকে অন্তত একবার দেখাতে হবে, তবে তিনি ফোনে ব্যস্ত থাকলে দেখানো যাবে না।
ইনফান্তিনোর বিতর্ক সৃষ্টি শুরু
কাতার বিশ্বকাপের পর ইনফান্তিনো আরও অনেক বেশি সংবাদ শিরোনামে আসেন। আয়োজন পরিকল্পনা ও নতুন টুর্নামেন্ট থেকে শুরু করে ইংল্যান্ড ভক্তদের আচরণ নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য পর্যন্ত করেন।
২০১৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই ইনফান্তিনো গ্রীষ্মকালীন বর্ধিত ক্লাব বিশ্বকাপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরিকল্পনাটি বেশ কয়েকবার বিলম্বের সম্মুখীন হয়েছিল। তবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের দুই দিন আগে ফিফা অবশেষে ঘোষণা করে যে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে।
এটি একটি বড় আকারের টুর্নামেন্টকে এমন এক গ্রীষ্মে নিয়ে এলো, যা সাধারণত খেলোয়াড়দের বিশ্রামের জন্য সংরক্ষিত থাকে। খেলোয়াড়দের ইউনিয়ন 'ফিফপ্রো' এবং ওয়ার্ল্ড লিগস অ্যাসোসিয়েশনের সাথে পরামর্শ করা হয়নি এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ফিফা।
তারপরে এলো ২০৩০ ও ২০৩৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের অনন্য বণ্টন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে ২০৩০ সালের আসরটি তিনটি মহাদেশ জুড়ে আয়োজিত হবে—আফ্রিকা, ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকা। এর অর্থ ছিল ২০৩৪ সালের ইভেন্টটি অবশ্যই এশিয়া বা ওশেনিয়াতে যেতে হবে।
কোনো বাস্তবসম্মত প্রতিযোগিতা না থাকায় সৌদি আরবকে আয়োজক দেশ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়, যে দেশের মানবাধিকার নিয়ে রয়েছে নানান প্রশ্ন। সৌদি আরব এবং ফিফা ইনফান্তিনোর অধীনে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল।
নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশন এই প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকে এবং যুক্তি দেয় যে বিডিং প্রক্রিয়াটি ‘সুশাসনের জন্য ফিফার সংস্কারকে’ ক্ষুণ্ন করেছে এবং ‘ফিফার ওপর বিশ্বাসকে’ চ্যালেঞ্জ করেছে।
মে ২০২৪-এ প্রকাশ পায় যে ইনফান্তিনো আগের বছর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ৩৩% বেতন বৃদ্ধি পেয়েছেন—যা একটি স্বাধীন কমিটি দ্বারা নির্ধারিত হয়েছিল। এটি তার মূল বেতন ২০২২ সালের ১.৯৫ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক থেকে বাড়িয়ে ২.৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্কে নিয়ে যায়। তাছাড়াও তিনি ১.৬৫ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্কের বোনাস পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, যা অপরিবর্তিত ছিল।
২০১৬ সালে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার সময় ইনফান্তিনো বছরে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন পাউন্ড উপার্জন করতেন, যা এখন ব্ল্যাটারের শেষ বার্ষিক বেতন ২.৬ মিলিয়ন পাউন্ডের কাছাকাছি।
তবে ফিফার এক তদন্তে দেখা গেছে যে ব্ল্যাটারের অধীনে শীর্ষ নির্বাহীদের লক্ষ লক্ষ টাকার বিপুল বোনাস দেওয়া হতো। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নতুন রূপের ক্লাব বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফিফা ট্রফিটি উন্মোচন করে—যাতে একটি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাঞ্জলি খোদাই করা ছিল, লেখা ছিল, ‘ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দ্বারা অনুপ্রাণিত।’
ট্রাম্পের আরও ঘনিষ্ঠ হলেন ইনফান্তিনো
ইনফান্তিনোর অবস্থান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে উয়েফার অসন্তোষ বাড়ছিল।
২০২৫ সালের মে মাসে বিষয়টি চরম রূপ নেয়। ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে একটি কূটনৈতিক সফরে ছিলেন এবং ফিফা কংগ্রেসে দুই ঘণ্টা দেরিতে উপস্থিত হন। উয়েফা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থকে’ অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ তোলে এবং সভাস্থল ত্যাগ করে।
তারপরে আসল গত গ্রীষ্মের ক্লাব বিশ্বকাপ। যেখানে স্টেডিয়ামের সারি সারি সিট খালি ছিল। তবুও ইনফান্তিনো যখন ট্রাম্প টাওয়ারে সংবাদমাধ্যমকে একত্রিত করেছিলেন, তখন তিনি এটিকে ‘ইতোমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে সফল ক্লাব প্রতিযোগিতা’ বলে ঘোষণা করেছিলেন।
ডিসেম্বরে এই গ্রীষ্মের বিশ্বকাপের ড্র ছিল একটি দীর্ঘ, জমকালো এবং অদ্ভুত আয়োজন। ইনফান্তিনো কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, এবং ট্রাম্পকে বিতর্কিত ফিফা পিস প্রাইজ দেওয়া হয়েছিল। এক সপ্তাহের মধ্যেই ফাইনালের জন্য টিকিটের চড়া মূল্যের ঘোষণা আসে। গ্রুপ পর্বের টিকিট ২০২২ সালের বিশ্বকাপের চেয়ে তিন গুণ পর্যন্ত বেশি, এবং নিউ জার্সিতে ফাইনালের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম ৩,১১৯ পাউন্ড।

সামান্য পিছু হটার পর ইনফান্তিনো দামের পক্ষে সাফাই গান এবং বলেন যে এটি জনগণের ‘একেবারে পাগলাটে’ চাহিদার প্রতিফলন। ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেন যে সমস্ত অর্থ খেলায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তিনি বলেন ‘ফিফা না থাকলে ১৫০টি দেশে কোনো ফুটবল থাকত না’।
১০ বছরের বার্ষিকীতে পৌঁছানোর আগে তার আরও একটি বিভ্রান্তিকর সংবাদ মন্তব্য বাকি ছিল। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে কোনো ব্রিটিশ নাগরিক গ্রেপ্তার না হওয়াটা ‘সত্যিই বিশেষ’ কিছু ছিল, এমন মন্তব্য করায় ফেব্রুয়ারিতে তাকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল।
বিশ্বকাপ বিতর্ক এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনার তীব্র প্রতিক্রিয়া
ইনফান্তিনো এই গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে সাধারণ জনগণের আরও ব্যাপক নজরে আসেন এবং অতিরিক্ত সমালোচনার মুখে পড়েন।
টুর্নামেন্টটি বল গড়ানোর আগেই শিরোনামে এসেছিল, কারণ ইরানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সমর্থকদের, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের জন্য বিলম্বিত, এমনকি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
মে মাসে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র দলটিকে আতিথেয়তা দিতে চায় না বলে স্পষ্ট করার পর টুর্নামেন্টের জন্য ইরানের বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এর পর ফিফার নিয়োকৃত সোমালি রেফারি ওমর আর্তানকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। ফিফা আর্তানের পক্ষে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে বলে যে তারা ‘আয়োজক দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত নয়’।
ফুটবল খেলা শুরু হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফিফাকে ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করার জন্য অনুরোধ করলে ইনফান্তিনো ও ট্রাম্পের সম্পর্ক লাইমলাইটে চলে আসে। বসনিয়া-হের্জেগোভিনার বিরুদ্ধে শেষ-৩২ এর ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মার্কিন ফরোয়ার্ড বালোগুন। কিন্তু ট্রাম্পের অভূতপূর্ব হস্তক্ষেপের পর পরবর্তী রাউন্ডে তিনি খেলার অনুমতি পান, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
স্পেনের কাছে ফাইনাল হারার পর এবং পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে আর্জেন্টিনার আচরণের কারণে ফিফা শৃঙ্খলাভঙ্গের অনুশাসনমূলক ব্যবস্থা শুরু করায় বিশ্বকাপের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকে।
সংস্থার প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর শেয়ার বিক্রি করার বিতর্কিত পরিকল্পনা বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। উয়েফা ভুক্ত দেশগুলো ভবিষ্যতের সমস্ত ফিফা প্রতিযোগিতা বয়কট করার সিদ্ধান্তে নেয়। পরবর্তীতে ইনফান্তিনোর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা পদত্যাগ করেন।
পরিকল্পনাটি ফিফাকে তার প্রধান ইভেন্টগুলো পরিচালনা করার জন্য একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান তৈরি করার অনুমতি দিতো। বাইরের বিনিয়োগকারীরা তখন সেই কোম্পানিতে শেয়ার কিনতে পারতেন।
ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুর বলেছেন যে গভর্নিং বডির নিজস্ব প্রশাসনই এই প্রকল্পের বিষয়ে ‘প্রতারিত’ হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ইনফান্তিনোকে ফিফার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আরও দুটি বড় কনফেডারেশন মুখ খোলার পর ইনফান্তিনো একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেন যে, তারা আর এই পরিকল্পনা নিয়ে এগোবেন না। তিনি আরও যোগ করেন যে এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে প্রকল্পটি এমন ‘বিভাজন সৃষ্টি করেছে’ যা এর মূল লক্ষ্যের ‘স্বার্থে আর নেই’।
উয়েফার প্রতিক্রিয়া ছিল কঠোর। তারা জানায় যে তারা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। বিতর্ক সত্ত্বেও ইনফান্তিনো বিশ্বের অনেক ফুটবল দেশের জন্য স্পষ্ট পরিবর্তন এনেছেন। হ্যাঁ, এটি অর্থের বিষয়। তবে ফুটবলের জন্য অর্থ।
তিনি সবচেয়ে দরিদ্র ও ক্ষুদ্রতম কিছু দেশকে সমৃদ্ধ করেছেন, অবকাঠামো ও উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থের জোগান দিয়েছেন। এবং ফিফা সমস্ত শীর্ষ নির্বাহীদের বেতন প্রকাশ্যে এনে এবং ফুটবলের মধ্যেই তহবিল রাখতে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে।
২০১৯ এবং ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ইনফান্তিনো ২০২৭ সালের আরেকটি নির্বাচনের বছরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ফিফার সংবিধানে সভাপতির পদ সর্বোচ্চ তিন মেয়াদে সীমাবদ্ধ থাকলেও ইনফান্তিনো আবারও নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন। সেটি বাস্তবে ঘটবে কি না, তা কেবল সময়ই বলে দেবে।
এফএইচএম
