বিজ্ঞাপন

টি-টোয়েন্টিতে ইতিহাস, ৮৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও চ্যাম্পিয়ন!

টি-টোয়েন্টিতে ইতিহাস, ৮৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও চ্যাম্পিয়ন!

আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে দুইশ-আড়াইশ রানকেও নিরাপদ স্কোর মনে করা হয় না। এই ধরনের চ্যালেঞ্জিং স্কোর করেও আগে ব্যাটিং করা দলের হেরে যাওয়ার ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। কিন্তু রোববার সকালে গ্লোবাল সুপার লিগের ফাইনালে যা হয়ে গেল, তা অনন্য এক দৃষ্টান্ত তৈরি করল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে।

ফাইনালের মতো চাপের ম্যাচে মাত্র ৮৫ রান করেও সান ফ্রান্সিস্কো ইউনিকর্নসকে ৬ রানে হারাল গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ফাইনালে সর্বনিম্ন মোট রানের রেকর্ড বইয়ে ঢুকে গেল এটি। টি-টোয়েন্টি ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রান ডিফেন্ড করে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতল আমাজন। এর আগে ওয়েস্ট আফ্রিকা ট্রফির ফাইনালে সবচেয়ে কম ১০৩ রান করে রোয়ান্ডাকে হারিয়েছিল নাইজেরিয়া। এই প্রথমবার একশ রানের কম করে কোনো দল ফাইনালে জিতল।

৮৬ রান করার জন্য ১০ বলে ৭ রান লাগত সান ফ্রান্সিস্কোর। শেষ ব্যাটার ক্যালাম স্টো মিড অফে ম্যাথু ফোর্ডের দিকে বল ঠেলে দ্রুত সিঙ্গেল নেন। কিন্তু শিমরন হেটমায়ার বোলারের প্রান্তে স্টাম্প ভেঙে দেন, সব শেষ!

ম্যাচটি ছিল বোলারদের। প্রভিডেন্সে আমাজন টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে বিপদে পড়েছিল। ৬.২ ওভারের মধ্যে তাদের শীর্ষ পাঁচ ব্যাটার ডাগআউটে ফিরে যান। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮ রান করেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ওই সময় তাদের স্কোরবোর্ড ছিল ২৫/৫, এর মধ্যে তিন উইকেট পিটার সিডলের।

ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ও ফোর্ড নবম উইকেটে জুটি গড়ার আগ পর্যন্ত আমাজনের কিছুই ভালো ঠেকছিল না। ওই সময় তাদের স্কোর ছিল ৮ উইকেটে ২৯ রান। দুজনে মিলে ৪১ রান যোগ করেন। ১০ নম্বরে নামা ফোর্ড ২৩ বলে সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন। 

জেতার মতো সংগ্রহ আমাজন হয়তো করেনি। তবে অনিরুদ্ধ ইমানুয়েল যখন চার ওভারে ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেন, তখন ৩০ রানে অলআউট হওয়ার যে শঙ্কা জেগেছিল, তার চেয়ে ভালো কিছুই করে দেখিয়েছে দলটি।

জিততে দরকার ছিল ৮৬ রান। সান ফ্রান্সিস্কো স্বাগতিক দলের চেয়ে ভালো শুরু করেছিল। প্রিটোরিয়াস দুটি এবং গুডাকেশ মোটি একটি উইকেট নিলে, তিন ওভারের মধ্যে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৮ রান। কিন্তু অলিভার পিকে ফাইনালের ইনিংস খেলেন। তৃতীয় উইকেটে ১০ বলে ২২ রান তোলেন হাসান খানের সঙ্গে জুটিতে। 

কিন্তু ৫ নম্বরে সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি স্ট্রাইকে আসতেই রান করা যেন ভুলে গেল সান ফ্রান্সিস্কো, বিশেষ করে মোহাম্মদ নবীর বিরুদ্ধে। পিকের সেঙ্গ ২৫ রানের জুটিতে ২৪ বল খেলে মাত্র ৯ রান করেন সঞ্জয়। পিকের সঙ্গে তার ২৫ রানের জুটি হয়েছে ৪৩ বল খেলে।

তখনো শঙ্কার কোনো ঘণ্টা বাজেনি। লক্ষ্য নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু নবী কৃষ্ণমূর্তি ও ২৮ বলে ৩১ রান করা পিকেকে ফেরান টানা দুই ওভারে। দশম ও দ্বাদশ ওভারে আফগান তারকার শিকারের মাঝের ওভারে ইমরান তাহির জোড়া আঘাত করেন। ম্যাচ ঘুরে যায়।

শেষ উইকেট জুটির ওপর চাপ বাড়ে। ১৪ বলে ১৪ রান লাগত। তারপর হলো সেই রানআউট। অভাবনীয় পারফরম্যান্সে আমাজন জিতে গেল ম্যাচ। বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন প্রিটোরিয়াস।

এফএইচএম