ব্রিটিশ পাসপোর্ট পাওয়ার পর আইপিএলসহ বিশ্বের অনেক লিগেই খেলার সম্ভাবনা বেড়েছে মোহাম্মদ আমিরের। কিন্ত পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) তার খেলা নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগামী মৌসুমে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে খেলতে হবে তাকে।
পাকিস্তানের সাবেক এই বাঁহাতি পেসার নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী মৌসুমে পিএসএলে তাকে স্থানীয় নয়, বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে নিবন্ধন করতে হতে পারে। আর সেটি হলে নতুন করে জটিল সমীকরণের মুখে পড়বে তার বর্তমান দল রাওয়ালপিন্ডিজ। উইজডেনের ‘দ্য স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ অনুষ্ঠানে আমির বলেন, নাগরিকত্ব পরিবর্তনের পর পিএসএলে তার মর্যাদাও বদলে যেতে পারে।
গত জুনে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই আমিরের ক্যারিয়ারে এসেছে নতুন মোড়। ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা ভাইটালিটি ব্লাস্টে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে তিনি খেলছেন স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে। একইভাবে দ্য হান্ড্রেডে ট্রেন্ট রকেটসও তাকে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবেই দলে নিয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে আইপিএলেও আমিরের খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অতীতে পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার আজহার মাহমুদ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়েই তিন মৌসুম আইপিএলে খেলেছিলেন। সেই নজির আমিরের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ বাড়লেও নিজ দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তার অবস্থান জটিল হয়ে উঠছে। পিএসএলে বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা নির্দিষ্ট। ফলে আমিরকে দলে রাখতে চাইলে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে তাদের বিদেশি কোটার একটি স্থান ব্যয় করতে হবে।
গত মৌসুমে নতুন দল রাওয়ালপিন্ডিজ ৫ কোটি ৪০ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে দুই বছরের চুক্তিতে আমিরকে দলে ভিড়িয়েছিল। কিন্তু নাগরিকত্ব পরিবর্তনের পর সেই চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি, স্থানীয় থেকে বিদেশি ক্রিকেটারের তালিকায় চলে গেলে রাওয়ালপিন্ডিজ আগের চুক্তির ভিত্তিতে আমিরকে রাখতে পারবে কি না। ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে নতুন করে চুক্তি করতে হবে, নাকি বিদ্যমান চুক্তিই বহাল থাকবে—এ বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
পিএসএলের ২০২৬ মৌসুমের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দল স্কোয়াডে পাঁচ থেকে সাতজন বিদেশি ক্রিকেটার রাখতে পারবে। একাদশে খেলানো যাবে সর্বনিম্ন তিনজন ও সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি। ফলে আমিরকে বিদেশি হিসেবে গণ্য করা হলে রাওয়ালপিন্ডিজকে স্কোয়াডের ভারসাম্য নতুন করে সাজাতে হতে পারে।
এইচজেএস
