কী মনে হয়, রোববারের স্থানীয় ফুটবল ম্যাচগুলোতেই সবচেয়ে বেশি সহিংসতা দেখা যায়? আসলেই কি তাই?
ফুটবক্সের এক অদ্ভুত ও উন্মাদের দুনিয়ায় স্বাগতম। যেখানে প্রতিপক্ষকে ঘুষি আর লাথি মারাটা একেবারেই সাধারণ ব্যাপার। বরং বলা চলে ম্যাচের ট্যাকলগুলো তো কেবল শুরুমাত্র!
এখানে ডাইভিং করার কিছু নেই। নেই কোনো ভিএআর, আর রেফারির কাছে গিয়ে বিচার চাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।এই বিচিত্র খেলায় ফুটবলারদের নিজেদের মধ্যে সমস্ত ঝামেলা আর রাগ ঘুষি মেরে মেটানোর জন্য সরাসরি উৎসাহিত করা হয়। আর ওদিকে ম্যাচও তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এই ধারণার ভিডিওগুলো। যেখানে দেখা যায় খেলোয়াড়রা বক্সিং গ্লাভস পরে একে অপরকে ঘুষি মারছেন, আর একই সাথে বল তাড়া করে গোল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফুটবল, বক্সিং এবং এমএমএ-কে একসাথে ‘ব্লেন্ডার মেশিনে’ দিয়ে তৈরি করা কোনো ককটেলের মতো শোনায় এর নিয়মগুলো!
নিয়ম অনুযায়ী, সব খেলোয়াড়কে অবশ্যই সুরক্ষামূলক গ্লাভস ও হেডগিয়ার পরতে হবে। যদিও কিছু বিপজ্জনক খেলোয়াড়কে এসব ছাড়াই নামতে দেখা যায়। একটি দল ১১ জন খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নামতে পারে, যার মধ্যে ৬ জন ফুটবলার ও ৫ জন ফাইটার অথবা ৮ জনের দল হিসেবেও খেলতে পারে।

আর কেউ ফাউল করলে কী হবে? রেফারির সাথে তর্ক করার বদলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় তাকে সরাসরি এক মিনিটের বক্সিং ফাইটের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। সেই এক মিনিট পুরো খেলা থামিয়ে বাকি সবাই দাঁড়িয়ে তাদের ফাইট দেখে।
একমাত্র বড় নিয়ম হলো কোনো কামড়ানো, চোখে আঙুল দেওয়া বা ঘাড়ের পেছনে আঘাত করা যাবে না। বাকি সবকিছু যেমন জব, হুক, আপারকাট; সবই খেলার অংশ!
এখন ভিডিও ভাইরাল হলেও ফুটবক্সের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। আর্জেন্টিনার পক্ষেই এমন একটি খেলার জন্ম দেওয়া সম্ভব, যেখানে প্রতিপক্ষকে লাথি মারাটাও নিয়মের অন্তর্ভুক্ত! ‘ফুটবক্স ক্লাব’-এর মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ধারণার বিকাশ ঘটে ইউক্রেনে কিকবক্সিং কোচ সের্গেই ভ্লাদিমিরোভিচের হাত ধরে, যা দক্ষিণ আমেরিকান আবেগ ও পূর্ব ইউরোপীয় কমব্যাট স্পোর্টসের মেলবন্ধন ঘটায়।
অনেকে ফুটবক্সকে ইতালির ‘কালচিও স্তোরিকো’এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। ইতালির ফ্লোরেন্সে শতাব্দী ধরে চলে আসা সেই ঐতিহ্যবাহী খেলা যেখানে ফুটবল, রাগবি ও খালি হাতে মারামারি সব একাকার হয়ে যায়।
অন্যান্য খেলার মতো অলিম্পিকের স্বীকৃতি পাওয়ার কোনো স্বপ্ন বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ফুটবক্সের আয়োজকদের নেই। এমনকি ফুটবক্স ম্যাচের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমায় বাঁধার নিয়মও রাখা হয়নি। যারা এই খেলার উদ্ভাবন করেছে, তাদের মতে এটি কেবল বয়স্কদের জন্য বানানো একটি চরম উত্তেজনাকর খেলা, যার উদ্দেশ্য হলো লড়াই, খেলাধুলা ও বিনোদনকে এক সুতোয় গাঁথা।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে, তাদের এই আইডিয়া বেশ সফল!
এফএইচএম
