সাত বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সবচেয়ে লম্বা বিরতি নিয়েছিলেন মার্নাস লাবুশেন। আবার মাঠে ফিরছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে। দীর্ঘ সময় ক্রিকেটের সঙ্গে না থাকলেও আবার টেস্ট সেঞ্চুরি করার কৌশল ফিরে পেয়েছেন তিনি।
রানের জন্য ‘লোভী’ না হয়ে লাবুশেন অতীতে যে প্রক্রিয়া কাজে লেগেছে, সেটার ওপর আস্থা রাখছেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনি সবশেষ ম্যাচ খেলেছেন ১৪ জুন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজে। সেই একই দেশের বিপক্ষে ডারউইন ও ম্যাককেতে দুটি টেস্ট খেলবেন তিনি।
শেষ ২১ টেস্টে কোনো সেঞ্চুরি নেই অস্ট্রেলিয়ার তিন নম্বর ব্যাটারের। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শেষ সেঞ্চুরি ছিল, যখন ওল্ড ট্রাফোর্ডে তিনি করেছিলেন ১১১ রান। ১৩ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ টেস্টের আগে লম্বা বিরতি নিয়ে সতেজ লাবুশেন। ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ান দলের একটি ম্যাচ অনুশীলন চলাকালে তিনি বলেন, ‘এই দুটি টেস্টে ভালো শুরু করা অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
লাবুশেন বলেছেন, আট সপ্তাহের বিরতি তাকে মৌলিক জায়গায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তার ১১ টেস্টের ১০টিই এসেছিল ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তার দুর্দান্ত ফর্মে থাকার সময়। সেই ধরনের ফর্মে ফিরতে চাইছেন তিনি।
লাবুশেন বলেন, ‘আমার খেলা নিয়ে কাজ করা এবং শট, খেলার ভঙ্গি ও সামগ্রিক কৌশলের মতো সাধারণ বিষয়গুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেওয়াটা আমার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।’ তার আরও কথা, ‘আপনি যখন শেষ সাত বা আট বছর ধরে টানা খেলতে থাকেন, সেই বিবেচনায় এটাই ছিল আমার সবচেয়ে লম্বা বিরতি। অনেক সময়ই আমি নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ছোটখাটো পরিবর্তনগুলোতে মনোযোগ দেওয়ার সময় হাতে থাকত না। মাঠের বাইরে গিয়ে সেরা ফর্ম খুঁজে নেওয়া সত্যিই দারুণ। মনে হচ্ছে আমাকে সেরা ফর্মে খেলতে দেখা যাবে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রস্তুতি এজন্য দারুণ ছিল। আশা করি আমরা কঠোর পরিশ্রমের ফল হাতেনাতে পাবো।’
লম্বা সময় পর ক্রিকেটে ফিরছেন লাবুশেন। তাই বলে রানের জন্য ‘লোভী’ হতে চান না তিনি, ‘যখন আপনি কয়েকবার সুযোগ হাতছাড়া করবেন, তখন কিছুটা লোভী হয়ে উঠতে পারেন এবং রানের খোঁজ করতে পারেন। রানে বিনিয়োগ যেন না করতে হয় সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। রান চাই সত্যি, কিন্তু প্রক্রিয়াও চাই। আমি সেটাই খুঁজছি।’
নিজের খেলার ওপর বিশ্বাস রাখতে চান লাবুশেন, ‘আমি যদি আমার খেলার ওপর আস্থা রাখতে পারি, সময় হলে রান আসবেই। আমি মনে করি ওই সময় আমি সত্যিই ভালো খেলেছিলাম। আমার খেলার ওপর আস্থা রাখা, ব্যাটিংয়ের ওপর আস্থা রাখা, খেলা বোঝা এবং ওই মুহূর্তে দলের কী প্রয়োজন সেটা উপলব্ধি করা। আমি এটার জন্য মুখিয়ে আছি।’
এফএইচএম
